Skip to main content

Full text of "Krishnakali Ityadi Galpa"

See other formats




এম. 1স. সরকার আযন্ড সনস লিঃ 
১৪, বাঁঙকম চাটুজ্যে স্ট্রীট 
কলিকাতা-১২ 


সর্ব স্বত্ব সংরাক্ষিত 


প্রকাশক 
শ্রীসুপ্রিয় সরকার 
এম. সি. সরকার আ্যন্ড সন্স লিঃ 
১৪, বাঁঙ্কম চাটুজ্যে স্ট্রপট 
কালকাতা-৯২ 


রি 


স্পা? & 


প্রথম মুদ্রণ : চৈত্র, ১৩৬০ 


মূল্য : দই টাকা আট আনা 


মুদ্রাকর 
শ্্রীপ্রভাতচন্দ্র রায় 
শ্রীগৌরাত্গ প্রেস 'লামিটেড 
&, চিন্তামাণ দাস লেন 
কাঁলকাতা-১ 


কৃষকলি ও রর 
জটাধর বকশী ফা রঃ ৯০ 
নিরামিষাশী বাঘ রর এ 
বরনারীবরণ রঃ রঃ .... ৩০ 
একগঃয়ে বাথা রী র্‌ ৪৭ 
পণ্প্রয়া পাণ্খালী রি ৬০ 
নিকাঁষত হেম ... রা এ “৮৯ 
বালাখল্যগণের উপাত্ত .. রর ... ৯১ 
সরলাক্ষ হোম রা না ... ৯৯ 
আতার পায়েস .. রী ... ১২২, 


ভবতোষ ঠাকুর যা ৫ ... ১৩৩ 


চল 


কৃষ্ণকালি 


"পরশরামের লেখা 
অন্যান্য গল্পের বই ঃ 
শ্াহ্চালকা- ২1০ 

একজ্জলশ--২০ 

হনুমানের স্বস্ন--২৪০ 
শাদ্পকল্প--ই০ 

বুস্তুরশি মায়া ইত্যাঁদ গভ্প--৩২ 


টি 





কাল বেলা বেড়াতে বোরয়োছি। রাস্তার ধারে একটা 

হলুরির দোকানের দাওয়ায় তিন-চার বছরের দাট মেয়ে 
বসে আছে। একট মেয়ে কুচকুচে কালো, কিন্তু সুক্তী। আর 
একাট শ্যামবর্ণ, মুখন্্রী মাঝারি রকম। দুজনে আমসত্ত টুষছে। 

আম তাকাচ্ছি দেখে তারা মুখ থেকে আমসত্ব বার করে 
আমার 'দকে এাগয়ে ধরলে । বোধ হয় লোভ দেখাবার জন্য। 
বললম, কি চুষছ খুকী ? 

কালো মেয়েটি উত্তর দিলে, বল দিকি নি কি ? 

--চাঁট জুতোর সূকতলা। 

হি হি হি, এ বাবুটা িচ্ছয জানে না, আমসত্বকে বলছে 
সুকতলা ! 

অন্য মেয়োট বললে, হি হি হি, বোকা বাবু রে! 

তার পর প্রায় চার বংসর কেটে গেছে। সকাল বেলা বাঁড় 
থেকে বেরুবার উপরুম করছি, একটি মেয়ে এসে বললে, একট] 
দুব্বে। দেবে গা দাদু? বিশকম্মা পূজো হবে। 

দেখেই চিনৌছ এ সেই আমসত্ত-চোষা কালো মেয়ে, এখন 
এর বয়ন বোধ হয় আট বছর। বললম, যত খাঁশ দুব্বো 
নাও না। 


কফকলি 


মেয়েটির সাজ দেখবার মত। সদ্য স্নান করে এসেছে, এলো 
চুল িঠের ওপর ছড়ানো। একটি ফরসা লালপেড়ে শাঁড় 
কোমরে জঁড়িয়েছে। গা খোলা, িম্তু আঁচলের এক দিক মাথায় 
দেবার চেস্টা করছে আর বার বার তা খসে পড়ছে । গোল গোল 
দুই হাত যেন কম্টি পাথরে কোঁদা, তাতে ঝকঝকে রুপোর চুড়ি 
আর অনন্ত, কোমরে রুপোর গোট, গলায় লাল পলার মালা, পায়ে 
আলতা, হাতে আলতা, সপথতে সপ্দুর। জিজ্ঞাসা করলমম, 
একি খুকট, বিয়ে করলে কবে 

মাথার ওপর কাপড় টেনে খুকী বললে, খুকী ঝলো নি 
বাবু, এখন বড় হইছি। আমার নাম কোলন্দী। 

আঁম বললুম, কেলিন্দী নয়, কালিন্দী। কিল্তু তোমার 
আরও ভাল নাম আছে, কৃষ্ণকাঁলি। রাঁব ঠাকুর তোমাকে দেখে 
লিখেছেন --কৃষ্ককালি আমি তারেই বাঁল, কালো তারে বলে 
গাঁয়ের লোক ।...কালো? তা সে যতই কালো হ'ক, দেখোছি 
তার কালোঞ্হরিণ-চোখ। কৃষ্ণকাল নাম তোমার পছন্দ হয়? 

কালিন্দী ঘাড় দঃীলয়ে জানালে যে খুব পছন্দ হয়। 

-তোজার বিয়ে হল কবে? 

--সেই অঘ্রান মাসে। 

--*বশুরবাড়ি কোথায়? বরের নাম কি 2 

--ধে বরের নাম বুঝ বলতে আছে! *বশুরঘর হুই 
হোথাকে, ছ2তোর-বউ মুড়িউলীর দোকানে । দাদু, ওই রাঙা 
ফুল দুটো দাও না, মা পূজো করবে। 


২ 


কৃষকালি 


চাকরকে বল্লুম, নিতাই, গোটাকতক রঙ্গন ফুল পেড়ে 
'দাও। 

জানা ভর রি 
গে, ও তো নোংরা, পেন্ট পরে আছে, সাত জম্ম কাচে নি। 
তুমি ফুল পেড়ে দাও। 

--আমও তো নোংরা, এখনও স্নান কার 'ন, কাপড় ছাঁড় 
নি। আচ্ছা, এক কাজ করা যাক, নিতাই তোমাকে আলগোছে 
তুলে ধরুক, ও ফুল ছোঁবে না, তুমি নিজের হাতে পেড়ে নাও । 

--ক বলছ গা দাদ, আমার যে বে হয়ে গেছে! 

বুঝল, পরপুরুষের স্পর্শে কৃষ্চকলির আপাতত আছে। 
বললুম, তবে তোমার বরকে ডেকে আন, সেই তোমাকে তুলে 
ধরুক। 

--সে তুলতে লারবেক। তুমিই আমাকে তুলে ধর নাঃ 
আম ফুল পেড়ে নেব। 

--সোঁক কৃষ্ণকাল, তোমার যে বয়ে হয়ে গেছে, আমি 

তোমাকে তুলে ধরব ?ক করে? 

--তুমি তো বড়ো থ্দবড়ো। 

ঠিক কথা, এতক্ষণ আমার হঃশ ছিল না যে আম বুড়ো 
থুবড়ো, সমস্ত অবলাজাতি আমার কাছে অভয় পেয়েছে। 
বললুম, আমার হাতে যে বাতের ব্যথা, তোমাকে তোলবার তো 
শক্তি নেই। 

_-বাঁড়তে আঁকাশ নেই 2. 


৩ 


কৃষ্কাঁল 


আমার লাঁণির ডগায় একটা ছুরি বেধে আঁকাশ করা হল ॥ 
নিতাই তাই দিয়ে গোটাকতক ফুল পাড়লে, কৃষ্কাঁল মাঁট 
থেকে কুঁড়য়ে নিলে। 

ফুল-দুব্বো নিয়ে সে চলে যাবার উপরূম করছে, আম 
তাকে বললুম, কৃষকালি, বিস্কুট খাবে ? 

-উদ্হু। 

--মাখন দেওয়া পাউরুটি আর 'মাম্ট কুলের আচার ? 

কৃষ্ককালর মুখ দেখে মনে হল তার রুচি আছে কিন্তু 
সংস্কারে বাধছে। বললে, আজ খেতে নেই, বিশকম্মা পূজো । 
সোঁসা আছে? 

--আছে বোধ হয়। নিতাই দেখ তো, বাঁড়তে শসা আছে 
কিনা । 

শসা পবিন্র ফল, তাতে কৃষ্চকলির আপাতত নেই। ছিনতাই 
দুটো শসা এনে আলগোছে তার আঁচলে দিলে। আমি বললুম, 
কৃষ্ণকলি, তুমি এই অল্প বয়সে বিয়ে করে ফেলেছ, টের পেলে 
পুলিসে যে তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে। 

--ইশা, নিয়ে গেলেই হল কিনা! আমি তোবেকার নি, 
বে করেছে রেমো। সেই তো মন্তর পড়লে, আমি চুপটি করে 
বসেছিনু। রেমোর বাবার গায়ে খুব জোর, বলেছে প্লিস 
এলে ভোমর ঘ্যারয়ে তাদের পেট ছেপ্দা করে দেবে। 

--রেমো বুঝ তোমার বর ? 

কৃষ্কাল ওপর নীচে মাথা নাড়লে। 


৪ 


কৃষকি 


--এই যাঃ কৃষ্ককলি, বরের নাম করে ফেললে! 

কৃষ্কালি লজ্জায় মা-কালীর মতন "জব বার করে দাঁড়িয়ে 
রইল। আঁম সান্বনা দিয়ে বললুম, বলে ফেলেছ তা হয়েছে 
ক, আজকাল সব্বাই বরকে নাম ধরে ডাকে। 

--সন্ধলের সামনে ডাকে? 

-- আড়ালে ডাকে । নিমলিচন্দ্রের বউ ডাকে - ওরে নিমে, 
জগদানন্দর বউ ডাকে --.এই জগা। দন কতক পরে মেমদের 
মতন সন্ধলের সামনেই ডাকবে । 

--আঁম যে তোমার সামনে বলে ফেলনু ! 

--তাতে দোষ হয় নি, আম বুড়ো লোক কিনা। 

এমন সময় একটি ফ্রক-পরা মেয়ে এসে বললে, এই 
কোলন্দী, কি করছিস এখেনে, এক্ষুনি আয়, মামী ডাকছে । 

এই মেয়েটিই বোধ হয় সেই চার বছর আগে দেখা আমসত্ৃ- 
চোষা 1দ্বতীয় মেয়ে। কৃষ্ণকলি তাকে বললে, খবদ্দার বমাঁল, 
আর কৌলন্দী কইবি 'ন, রবি ঠাকুর আমার ভাল নাম দিয়েছে 
কেম্টকলি। এই দাদ; বললে। 

মুখভঙ্গী করে দু হাত নেড়ে মাল বললে, মরি মরি, 
কেলোকন্টি কেলিন্দীর নাম আবার কেম্টকলি! রূপ দেখে 
আর বাঁচ্চ নে! 

কৃষ্কলি বললে, দেখ না দাদু, মাল আমায় ভেংচ 
কাটছে! 

প্রশন করলুম, বিমূলি তোমার কে হয়, বোন নাক £ 

্ 


'কুফকলি 


-বোন না ঢেশক, ও তো আমার িসতুতো ননদ? 
বিমল, তুই যা, আমি একটা পরে যাব। 

চলে যেতে যেতে বিমল বললে, দেখিস এখন, আজ মাম? 
তোকে ছেশ্চবে। ওরে আমার কেম্টকলি, শ্যাওড়া গাছের 
পেতন? ! 

কৃষ্কাল বললে, দাদু, ও আমায় পেতনী বলবে কেন 2 

-বলুক গে, ননদরা অমন বলে থাকে, শ্রীরাধার ননদও 
বলত। এক মেয়ের রুপ আর এক মেয়ে দেখতে পারে না॥ 
তোমার বর রেমো তো তোমাকে পেতনঈ বলে না? 

-পেও বলে। 

--তুমি রাগ কর না? 

--উত্হু, সে হাসতে হাসতে বলে কিনা । আঁমও তাকে 
বাল ভূত িচেশ হুনুমান। 

--তোমরা ঝগড়া কর নাঁক ? 

--আমি খুব ঝগড়া কার, চিমাটও কাটি, কিন্তু রেমো 
রাগে না, শুধু মুখ ভেংচায় আর হাসে। 

এমন সময় রামের মা এল। সে অনেক দিন থেকে এ 
বাঁড়তে মুঁড় চিখ্ড়েভাজা দিয়ে আসছে । তার স্বামী মুরারি 
ছতোর মিস্তী, ভাল কারগর, কাঠের ওপর নকশা তোলে । 
রামের মা কৃষ্ণকলিকে দেখে বললে, ওমা, তুই এখেনে রই'ছিস, 
বিমলী যে বললে কেলিন্দী ধিঙ্গীঁ হয়ে হেথা হোথা সেথা 
চাদ্দক ঘুরে বেড়াচ্ছে! 


কফকলি 


কৃষ্ষকলি বললে, সব মিছে কথা । জান গা মা, এই দাদ 
বললে রবি ঠাকুর আমার নাম দিয়েছে কেম্টকাল। 

আম রামের মাকে জিজ্ঞাসা করলুম, এ মেয়েটি তোমার 
বউ নাকি? 

--হৈ* গা বাবা, গেল অগ্রানে রেমোর সঙ্গে বে দিয়েছি । 
রেমোর বয়স দশ আর এর আট। 

--এত কম বয়সে বিয়ে দিলে? কাজটা যে বেআইনী 
হয়েছে। 

--আইন ফাইন জানি নে বাবা। মেয়েটা হতভাগ, এর 
মা পাঁচ বছর রোগে ভুগে গেল সন জন্টি মাসে ম'ল। বাপটা 
নক্ষীছাড়া, গাঁজা ভাং খেয়ে গেরুয়া পরে কোথা তারকেশ্বর 
কোথা ভদ্রেশবর টোটো করে ঘুরে বেড়ায়। তাই অনাথা 
মেয়েটাকে নিজের ঘরে এনে ছেলের সঙ্গে বে দিনু। ওদের 
ফুলএীরর দোকানটাও আম চালাচ্ছ। আমার তিন মেয়েই তো 
*বশুরঘর করছে, একটা বউ না আনলে কি আমার চলে বাবা ? 
তা কেলিন্দী এখেনে এসে আপনাকে জবালাতন করছে বুঝি ? 

--না না, জবালাতন করে নি, একটু গল্প করছিল। তুমি 
আর একে কেলিন্দী বলো না রামের মা, এখন থেকে কৃষ্কলি 
ব'লো। 

--হা রে কপাল, আমার খুড়শাশুড়ীর নাম যে ফেস্টদাসী! 
ঠাকুর দেবতার নাম কি মুখে আনবার জো আছে বাবা, *বশুর- 
বাঁড়র গুষ্টি সব নাম দখল করে বসে আছে। দাদাশ্বশুর 


৭ 


কৃষ্কলি 


দিলেন ফরিদাস, শ্বশুরের নাম ফাঁলদাস, খুড়*বশুর জ্রীধর, 
শাশুড়ী ফরস্বতট। 

কৃষ্ণকলি বললে, আর তোমার নামটা বলে দিই মা 
হি হি হি,ফুগ্গা ফ্‌গ্গাতিনাশিনন! 

আম বললুম, রামের মা, আদর 'দয়ে তুমি বউটির মাথা 
খেয়েছ, মুখের গপর তোমাকে ঠাট্টা করে! 

রামের মা হেসে বললে, কি কাঁর বাবা, ওর ধরনই ওইরকম। 
1নজের মায়ের যত্ব আর ক দিন পেয়েছে, জম্ম ইস্তক আমাকেই 
দেখছে কিনা। যে নতুন নামটি বললেন তার পুরোটি তো 
বলতে পারব নি, এখন থেকে একে কাল বলব। দেখুন বাবা, 
এর বন্নটা কালো বটে, কিন্তু খুব ছিরি আছে, ছাঁদাটি পাঁরজ্কার, 
যেন বাটাঁল 'দয়ে গড়া, আর ভারী সতীনক্ষী মেয়ে । বিমলিটা 
হচ্ছে কৃণ্দুলী। এখন আস বাবা। ঘরকে চল রে কাঁল। 

আমি বললুম, কৃষকাল, তোমার বরকে নিয়ে এক দিন 
এখানে এসো । 

রামের মা বললে, হা আমার কপাল, রেমোর যে বজ্ড নজ্জা, 
বউএর সঙ্গে কোথাও যেতে চায় না। আজকালকার ছোঁড়াদের 
মতন তো নয় যে সোমত্ত বউকে নিয়ে চাদ্দকে ধেই ধেই নেত্য 
করে বেড়াবে। রেমোর পরাক্ষেটা চুকে যাক, আমিই একাদিন 
দুটিকে নিয়ে আসব। 

কৃষ্ণকলি হাত নেড়ে বললে, সে তোমাকে কিচ্ছু করতে 

৮ 


কৃষ্ণকলি 


হবে নন মা, আমি একাই' তাকে 'হড়হিড় করে টেনে 'নয়ে 
আশব। 

আম বললুম, রামের মা, তোমার ছেলে তো সেকেলে, 
কিন্তু বউটি যে অত্যন্ত একেলে। 

--ওটুকু সেরে যাবে বাবা, একটু বড় হলেই নজ্জা শরম 
আসবে । 

রামের মা তার পূত্রবধকে নিয়ে চলে থেল। কৃষ্ককাঁলর 
কপাল ভাল, আট বছর বয়সেই সে শাশুড়ীর কাছ থেকে সতাঁ- 
লক্ষযরশ সাঁর্টীফকেট আদায় করেছে, এক মা হারিয়ে আর এক 
মা পেয়েছে, এমন বর পেয়েছে যাকে নির্কিবাদে চিমটি কাটা 
চলে আর হিড়হিড় করে টেনে আনা যায়। 


১৩৫৯) 


জটাঁধর বকশী 


তন দিল্লির গোল মাকে্টের পিছনে কুচা চমৌকিরাম 
নামে একটি গাল আছে। এই গাঁলর মোড়েই কালী- 


বাবুর বিখ্যাত দোকান ক্যালকাটা টি ক্যাবিন। এখানে চা 
বি্কুট সস্তা কেক সিগারেট চুরুট আর বাংলা পান পাওয়া 
যায়, তামাকের ব্যবস্থা আর গোটাকতক হঃকোও আছে। দু- 
এক মাইলের মধ্যে যেসব অজ্পবিত্ত বাঙালী বাস করেন তাঁদের 
অনেকে কালীবাবুর দোকানে চা খেতে আসেন। সন্ধ্যার সময় 
খুব লোকসমাগম হয় এবং জাঁকয়ে আত্তা বসে। 

পৌষ মাস পড়েছে, সন্ধ্যা সারে ছটা, বাইরে খুব ঠান্ডা, 
কিন্তু কালীবাবূর টি ক্যাঁবন বেশ গরম। ঘরাঁট ছোট, এক 
দিকে চায়ের উনন জহলছে, পনের-ষোল জন পিপাসু ঘেত্া- 
ঘেশঁষ করে বসেছেন। সিগারেট চুরুট আর তামাকের ধোঁয়ায় 
ঘরের ভিতর ঝাপসা হয়ে গেছে। 

রামতারণ মুখুজ্যে কথা বলাছলেন। এর বয়স প্রায় 
প'রযারট্র। মিলিটারী আযাকাউন্টূসে কাজ করতেন, দশ বছর 
হল অবসর নিয়েছেন। দুই ছেলেও 'দাল্লতে চাকার পেয়েছে, 
সেজন্য রামতারণ এখানকার স্থায়ী বাঁসন্দা হয়ে গেছেন। ইনি 
একজন সবজান্তা লোক, কথা বলতে আরম্ভ করলে থামতে 


৯০ 


চান না, অন্য লোককে কিছ বলবার অবকাশও দেন না। চায়ের 
আড্ডার পবাই একে উপাঁধ দিয়েছে - বিরাট ছেখ্দা, অর্থ 
দ গ্রেট বোর। 

রামতারণবাবু বলছিলেন, আরে না না, তোমাদের ধারণা 
একবারে ভুল। ভূত আর প্রেত স্বতন্ম জীব, আম বাঁঝয়ে 
দিচ্ছি শোন। মৃত্যুর পর মানুষ যত দিন বায়ুভূত 'িরালম্ব 
নিরাশ্রয় হয়ে থাকে, অর্থং যে পর্তি আবার জন্মগ্রহণ না 
করে তত দন সে প্রেত। কিন্তু-- 

স্কুল মাস্টার কাঁপল গুপ্ত বললেন, অর্থাৎ পরলোকের 
ভ্যাগাবন্ডরাই প্রেত। 

বন্তৃতায় বাধা পাওয়ায় রামতারণ বিরন্ত হয়ে বললেন, 
ফাজলাম রাখ, যা বলছি শুনে যাও। মৃত্যুর পর মানুষ 
চিরকাল প্রেত হয়ে থাকে না, আবার জন্মায়। ধ্ুবং জন্ম মৃতস্য 
চ। কিন্তু যারা ভূত তারা চিরকালই ভূত। 

কাঁপল গুপ্ত আবার বললেন, বূঝেছি। যেমন গাজনের 
সন্ন্যাসী আর লোটা-চিমটা-কম্বল-ধারী বারমেসে সন্ন্যাসী । 

-আই চুপ কর না। মরা মানুষের আত্মা হল প্রেত, 
শবালতাী গোস্টও প্রেত। কিন্তু পিশাচ আর পল্টারগাইস্টকে 
ভূত বলা যেতে পারে। ভূত হল অপদেবতা, তারা নাকে কথা 
কয়, ভয় দেখায়, ঘাড় মটকায়, নানা রকম উপদ্ূব করে। 'কিল্ত 
প্রেত সে রকম নয়, জীবদ্দশায় যার যেমন স্বভাব, প্রেত হলেও 
তাই থাকে । তবে চাঁলত কথায় প্রেতকেও লোকে ভূত বলে। 


৯৯ 


কৃষকলি 


এই সময় একজন অচেনা লোক ঘরে প্রবেশ করলেন। বয়স 
আন্দাজ পশ্মতাল্লিশ, ছ ফুট লম্বা, মজবুত গড়ন, মোচড় দেওয়া 
মোটা কাইজারী গোঁফ। গায়ে কালচে-খাকণ 'মালটারী ওভার- 
কোট, পরনে ইজার আছে কি ধূতি আছে বোঝা যায় না, মাথায় 
পাগাঁড়র মতন বাঁধা কম্ষটণর। আগন্তুক ঘরে এসে বাজখাঁই 
গলায় বললেন, নমস্কার মশাইরা, এখানে আপনাদের সঙ্গে বসে 
একটু চা খেতে পার কিঃ 

কয়েক জন এক সঙ্গে উত্তর দলেন, বলক্ষণ, চা খাবেন 
তার আবার কথা কি, এ তো চায়েরই দোকান। ওহে কালী- 
বাবু এই ভদ্রলোককে চা দাও। আপনাকে তো আগে কখনও 
দেখি নি, নতুন এসেছেন বুঝি ? 

--নতুন নয়, দল্লি আমার খুব চেনা জায়গা, তবে সম্প্রাত 
বহু কাল পরে এসোছ। পুরনো দিলির কেউ কেউ এখনও 
হয়তো আমার নাম মনে রেখেছেন- জটাধর বকশী। ও 
ম্যানেজারমশাই, দয়া করে আমাকে বেশ বড় এক পেয়ালা চা 
দিন, খুব গরম আর কড়া । একটা মোটা বর্ম চুরুট, দশ খাল 
পান, এক ধেবড়া চুন, আর অনেকখানি দোস্তাও দেবেন। হাঁ, 
তার পর, ভূত প্রেতের কি যেন কথা হচ্ছিল আপনাদের । আম 
একটু শুনতে পাই কি১ এসব কথায় আমার খুব আগ্রহ 
আছে। 

একজন উৎসুক নতুন শ্রোতা পেয়ে রামতারণবাবু খুশী 
হয়ে বললেন, হাঁ হাঁ শুনবেন বইকি। বলাছলুম, ভূত আর 


৯ 


জটাধর বকশী 


প্রেত আসলে আলাদা জীব, তবে সাধারণ লোকে তফাত করে 
না। বাদশাহশ আর 'ব্রাটশ জমানায় ভূত প্রেতের কথা অনেক 
শোনা যেত, কিন্তু এখনকার এই সেকিউলার ভারতে তারা 
ফোত হয়ে যাচ্ছে। গুরুমহারাজ পানিমহারাজ রাজজ্যোতিষধ 
নেপালবাবা ইত্যাদর ওপর লোকের ভাঁন্ত খুব বেড়েছে বটে, 
কিন্তু ভূত প্রেতের ওপর আস্থা কমে গেছে, সেজন্য তাদের 
দেখা পাওয়া এখন কঠিন। 

কাঁপল গুপ্ত বললেন, বিশ্বাসে মিলয়ে ভূত, তর্কে বহু 
দূর। 

জটাধর বকশী বলেন, ঠিক কথা। কিন্তু ভূত যাঁদ প্রবল 
হয় তবে আঁবশবাসীকেও দেখা দেয়। যাঁদ অনুমাঁতি দেন 
তো আম কিছু বাঁল। 

রামতারণবাবু ভ্রু কুণ্চকে বললেন, আপান ভূতের ক 
জানেন? গেল বছর যখন চাঁদান চকের ঘাঁড়টা পড়ে গেল- 

[তিন-চার জন একবাক্যে বললেন, মুখুজ্যেমশাই, দয়া করে 
আপান একটু থামুন, একে বলতে দিন। 

জটাধর বকশী বলতে লাগলেন ।--বাদশা জাহাঙ্গীরের 
আমলে 'দাল্লতে একবার প্রচণ্ড ভূতের উৎপাত হয়োছল, 
আমাদের ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর তার চমৎকার বৃত্তান্ত 
িখেছেন। ভবানন্দ মজুমদারের ইন্উদেবীকে জাহাঙ্গীর ভূত 
বলে গাল 'দয়েছিলেন। প্রভুর আশকারা পেয়ে বাদশাহ 
সিপাহীরা ভবানন্দকে বললে-_ 


৩ 


কৃষ্ণকলি 


অরে রে 'হন্দুর পুত দেখলাও ক'হা ভূত 
নাহ তুঝে কর্‌ৎ্গা দো টুক। 
ন হোয় সুল্নত দেকে কলমা পড়াঁও লেকে 
জাতি লেউ* খেলায়কে থুক॥ 


তখন ভবানন্দ বিপন্ন হয়ে দেবীকে ডাকলেন। ভক্তের স্তবে 
তুষ্ট হয়ে মহামায়া ভূতসেনা পাঠালেন, তারা দিল্লি আব্ুমণ 
করলে 
ডাকিনী যোগিনী শাখিনী পোতিনী গৃহ্যক দানব দানা । 
ভৈরব রাক্ষস বোক্ধন খোক্স সমরে দিলেক হানা॥ 
লপটে ঝপটে দপটে রবটে ঝড় বহে খরতর। 
লপ লপ লন্ফে ঝপ ঝপ ঝম্ফে দিল্লি কাঁপে থরথর 1... 
তাথই তাথই হো হো হই হই ভৈরব ভৈরবী নাচে। 
অট্র অট্ট হাসে কট মট ভাষে মত্ত পিশাচ িশাচে ॥ 


অবশেষে বেগাঁতিক দেখে বাদশা ভবানন্দের শরণাপন্ন হলেন, 
বিস্তর ধন দৌলত খেলাতি আর রাজাগির ফরমান দিয়ে তাঁকে 
খুশী করলেন, তখন ভূতের উৎপাত থামল। সেকালের তুলনায় 
আজকাল ভূত প্রেত 'কিঞৎ দুললভ হয়েছে বটে, কিন্তু এই 
দাল্লতে এখনও ভূত দেখা যায়। 
কাঁপল গুপ্ত বললেন, মুখুজ্যেমশাই, আপান'তো প্রাচীন 
লোক, বহকাল দিল্লিতে আছেন, ভূতের সঙ্গে কখনও আপনার 
মোলাকাত হয়েছিল ? 
১৪ 


জটাধর বকশবী 


রামতারণ বললেন, আমি নিষ্ঠাবান ব্লাহনণ, তোমাদের মতন 
অখাদ্য খাই না, নিত্য সম্ধ্যা-আহিক কার। ভুতের সাধ্য নেই 
যে আমার কাছে ঘে'ষে। 

কপিল গুপ্ত বললেন, আচ্ছা জটাধরবাবু, আপনাকে তো 
একজন চৌকস লোক বলে মনে হচ্ছে, আপনি ভূত দেখেছেন ? 

জটাধর বললেন, নিরন্তর দেখাছ, ভূত দেখা অতি সহজ। 

বলেন কি! দয়া করে আমাদের দেখান না। 

রামতারণ বললেন, ওসব বূজরুকি আমার কাছে চলবে 
না। ভূত প্রেত মান বটে, একলা অন্ধকারে ভয়ও পাই, কিন্তু 
জটাধর কি ঘটাধর বাবু ভূত দেখাতে পারেন এ কথা বিশবাস 
কার না। কলেজে আমি রীতিমত সায়েন্স পড়েছি, ম্যাজিক- 
ওয়ালাদের জোচ্চুরিও আমার জানা আছে। 

অট্রহাস্য করে জটাধর বললেন, যাঁদ আপনাকে ভূত 
দেখাই? | 

দেখাবেন বললেই হল! কবে দেখাবেন? কোথায় 
দেখাবেন? কখন দেখাবেন 2 

--আজই, এখানেই, এখনই দেখাতে পারি। 

কপিল গুপ্ত বললেন, দেখিয়ে ফেলুন মশাই, আর দোঁর 
করবেন না, আমাদের বাঁড় ফেরবার স্ময় হল। কিন্তু কি 
দেখাবেন, ভূত না প্রেত? 

রামতারণবাব, প্রাতবাদ সইতে পারেন না। চটে গিয়ে 
বললেন, বেশ, এখনই দেখান, ভূত প্রেত বেম্মদাত্যি শীখচুন্নী 


৯৫ 


কৃষ্ণকলি 


যা পারেন। আ'ম বাজি রাখাঁছ ষে আপানি পারবেন না, শদধৎ 
ধাপ্পা দিচ্ছেন। ভূত দেখানো আপনার সাধ্য নয়। 

জটাধর বললেন, আপনার চ্যালেঞ্জ মেনে নিলুম। মোটা 
টাকা বাঁজ রাখতে চাই না, কারণ আপান 'িশ্চয় হারবেন। 
ছা-পোষা পেনশনভোগী বুড়ো মানুষ, আপনার ক্ষাত করবার 
ইচ্ছে নেই। এই বাজি রাখা যাক যে ভূত যাঁদ দেখাতে পারি 
তবে আমার চা চুরুট পানের দাম আপাঁন দেবেন। আর যাঁদ 
হেরে যাই তবে আপাঁন যা খেয়েছেন তার দাম আম দেব। 
রাজশ আছেনঃ আপনারা সবাই ক বলেন ? 

সবাই বললেন, খুব ভাল প্রস্তাব, ভোর ফেয়ার আযাণ্ড 
জেন্টলম্যানলি। 


ওল 
বকশণশ বলতে লাগলেন।--উানশ শ একচল্লিশ সালের 
কথা । তখন আমি বর্মায়, জেনারেল 'সিটওয়েলের স্যাপার্স 
আ্যান্ড মাইনার্সএর দলে 'সানয়র হাবিলদার-আমন। বর্ম 
থেকে চীন পযন্ত যে রাম্তা তোর হাঁচ্ছিল তারই জরিপ আমাকে 
করতে হত। আমার ওপরওয়ালা আঁফসার ছিলেন ক্যাপ্টেন 
ব্যাবিট। 

রামতারণবাবু বললেন, ওসব বাজে কথা ক বলছেন, 
আপনার চাকার বৃত্তান্ত আমরা শুনতে চাই না। ভূত দেখাতে 
পারেন তো দেখান। 


৯৬ 


জটাধর বকশ?ী 


দুই হাত নেড়ে আশ্বাস দিয়ে জটাধর বললেন, ব্যস্ত হবেন 
না সার, আমার কথাটি শেষ হবামাব্র ভূত দেখতে পাবেন। তখন 
জাপানীরা দক্ষিণ বর্মায় পেশছেছে, তাদের আর এক দল 
থাইল্যান্ডের ভেতর দিয়ে বমণর উত্তরপূর্ব দিকে হানা দিচ্ছে। 
আমাদের সার্ভে পার্ট সে সময় শান স্টেটের উত্তরে কাজ 
করছিল। দলটি খুব ছোট, ক্যাপ্টেন ব্যাবিট, আমি, পাঁচজন 
গোর্খা সেপাই, পাঁচজন বমর্ণ কুলনী, একটা জপ, আর আমাদের 
তাঁবু রসদ িওডোলাইট লেভেল চেন ঝাণ্ডা ইত্যাদি বইবার 
জন্য চারটে খচ্চর। আমরা যেখানে ছাউান করোছলুম সে 
জায়গাটা পাহাড় আর জঙ্গলে ভরা, মানুষের বাস নেই। বাঘ 
ভালুক হযড়ার প্রভৃতি জানোয়ারের খুব উপদ্রব । বন্দুক "দিয়ে 
মারা বারণ, পাছে শত্রুরা টের পায়। ব্যাবট সায়েবের সঙ্গে 
এক টিন সস্ট্িকনীনের বাঁড় ছিল, জিলাটন 'দয়ে মোড়া, পেটে 
গেলে তিন মিনিটের মধ্যে গলে যায়। মাংসের টুকরোর সঙ্গে 
সেই বাঁড় 'মশিয়ে ক্যাম্পের বাইরে ফেলে রাখা হত, রোজই 
দু-চারটে জানোয়ার মারা পড়ত। 

একাদন গুজব শোনা গেল যে জাপানীরা আমাদের বিশ 
মাইলের মধ্যে এসে পড়েছে । ক্যাপ্টেন ব্যাবিট বললেন, ওহে 
বকশী, শুধু তুম আর আমি একটু এঁগয়ে গিয়ে দোঁখ চল, 
আর সবাই ক্যাম্পেই থাকুক। িয়াং কাই-শেক আমাদের 
সাহায্যের জন্য একটা চীনা পল্টন ইউনান থেকে পাঠিয়েছেন, 


৯৭ 


কৃষ্কলি 


আজ তাদের এখানে পেশছবার কথা । দেখতে হবে তাদের 
কোনও পাত্তা মেলে কিনা। , 

আমরা দুজনে উত্তরপূর্ব দিকে চার-পাঁচ মাইল হেঞ্টে 
চললুম। সামনে একটা 'নাঁবড় জঙ্গল, তার ওধারে একটা 
ছোট পাহাড়। সায়েব বললেন, ওই পাহাড়ের ওপর উঠে 
দুরাবন দিয়ে চাঁরাদক দেখতে হবে। আমরা জঙ্গলে 
ঢুকলুম, সঙ্গে সঙ্গে জন পন্টাশ জাপান আমাদের "ঘরে 
ফেললে। 

রামতারণবাবু অধীর হয়ে বললেন, ওহে বকশন, তুমি তো 
কেবলই বক বক করে চলেছ। শেষকালে হয়তো বলবে যে 
তুমি নিজেই একটা জাপান ভূত দেখোছলে। সেটি চলবে 
না বাপু, তোমার দেখা ভুত মানব না। 

জটাধর বললেন, আপাঁন 'নীশ্চন্ত থাকুন, আর একটু পরেই 
আপনারা সবাই স্বচক্ষে ভূত দেখবেন। তার পর শুনুন ।- 
ক্যাপ্টেন ব্যাবিট বললেন, বকশী, আত্মরক্ষার কোনও উপায় 
নেই, হাত তুলে সরেন্ডার কর। আমরা হাত তুলতেই 
জাপানীরা ছুটে কাছে এল। এমন রোগা হাঁভ্ড-সার পল্টন 
কোথাও দোৌথ নি। তাদের তিন-চার জন আমাদের গাল কাঁধ 
হাত পা টিপে টিপে দেখতে লাগল, একজন সায়েবের কাঁধে 
কামড়ে দিলে, আর সবাই তাকে ধমক "দিয়ে টেনে নিয়ে গেল। 

ব্যাবিট সায়েব একটু আধটু জাপানী ভাষা বুঝতেন। 
জিজ্ঞাসা করলুম, এদের মতলব কি? সায়েব বললেন, মাই 


৯? 


জটাধর বকশাী 


পুুওর বকশী, বুঝতে পারছ না? এদের ভাঁড়ার শন্য, রসদ 
যা আসছিল শান ডাকাতরা লুট করে নিয়েছে, সাত দিন 
উপোস করে আছে, দেয় পেট জবলছে। তার পর দেখলুম, 
ওদের কয়েকজন একটা উনন বানিয়ে আগুন জেহলেছে, তার 
ওপর মস্ত একটা ডেকচি চাঁপয়েছে। 


1ট ক্যাঁবনে যাঁরা উপস্থিত 'ছলেন তাঁদের মধ্যে কীরেশ্বর 
সংগি একটু বেশী ভীতু । ইনি শিউরে উঠে বললেন, এই 
সময় চীনা পল্টন এসে পড়ল বুঝ? 


জটাধর বললেন, কোথায় পল্টন! চারজন জাপানী এগিয়ে 
এল, দুজনের হাতে দড়ি, আর দুজনের হাতে তলোয়ার। 
সায়েব বললেন, বকশাঁ, এই চারটে বাঁড় এখনই গিলে ফেল। 
আমি বললূম, আগে থাকতেই 'বিষ খেয়ে মরব কেন, ধতক্ষণ 
*বাস ততক্ষণ আশ। সায়েব ধমক দিয়ে বললেন, যা বলাছি 
তাই কর, আম তোমার কমাণ্ডিং আফসার, অবাধ্য হলে কোর্ট 
মাশশলে পড়বে। কি আর করা যায়, বাঁড় চারটে গলে 
ফেললম, সায়েবও িললেন। 


বীরেশবর সংাঁগ আঁতিকে উঠে বললেন, আ্যাঁ, বিষ খেলেন 2 
তার পর চীনা ফৌজের ডান্তার এসে ?বষ বার করে ফেললে 
বুঝি? 

--চীনা ফৌঁজ এক ঘন্টা পরে এসেছিল। আমাদের যা 
হল শুনুন। দুটো জাপানী আমাদের হাত পা বেধে ঘাড় 

১৯ 


কৃষকলি 


নীচু করে বাঁসয়ে দিলে। আর দুটো জাপানী তলোয়ার দিয়ে 
ঘ্যাঁচ-- 
বীরেশবরবাবু মাথা চাপড়ে চিৎকার করে বললেন, ওরে 
বাপ রে বাপ! 

হাঁ মশাই, তলোয়ারের চোপ দিয়ে ঘ্যাঁচ করে আমাদের 
মৃস্ডু কেটে ফেললে 

রামতারণবাবু ক্ষণ কন্ঠে বললেন, তবে বেচে আছেন কি 
করে? 

বজ্জ্রগম্ভীর স্বরে জটাধর বকশণী বললেন, কে বললে বেচে 
আছি? আপনার হুকুমে বাঁচতে হবে নাঁকঃ আমাদের কেটে 
টুকরো টুকরো করলে, ডেকচিতে সেদ্ধ করলে, চেটে পটে 
খেয়ে ফেললে, খিদের চোটে 'স্ট্রকনীনের তেতো টেরই পেলে 
না। তার পর তিন মিনিটের মধ্যে সব কটা জাপানী কনভলশন 
হয়ে পট পট করে মরে গেল। ক্যাপ্টেন ব্যাবটের মতন বিচক্ষণ 
আফসার দেখা যায় না মশাই, আশ্চর্য দূরদ্া্ট। আচ্ছা, 
আপনারা বসুন, আমি এখন চললুম। ও কালীবাবু, আমার 
[বলটা রামতারণবাবুই শোধ করবেন। নমস্কার 


১৩৬৭) 


২০ 


নিরামিষাশী বাঘ 


নেক বংসর আগেকার কথা, তখন আলীপুর জন্তুর 

বাগানের কর্তী ডান্তার যোগীন মুখুজ্যে। যোগরীন আমার 
বন্ধু। একাদন টোলফোনে বললে, ওহে, বড় বড় একজোড়া 
তিব্বতাঁ পান্ডা এসেছে, খাসা জানোয়ার, দেখলেই জাঁ়ুয়ে 
ধরতে ইচ্ছে করে। সাদা গা, কালো পা, কাজলপরা চোখ, 
ভাল্লুককে টেনে লম্বা করলে যেমন হয় সেইরকম চেহারা । 
তোমারই মতন নরামিষ খায়। দু দিন পরেই হামবূুর্গ জুতে 
চলে যাবে, দেখতে চাও তো কাল বিকেলে এস। 


পরাঁদন বিকেলে যোগীনের কাছে গেলুম । পান্ডা, কাঙ্গারু, 
হিপ্পো, কালো রাজহাঁস, সাদা ময়ূর প্রভীতি সবরকম দুললভ 
প্রাণী দেখা হল। তার পর বাঘ ?সংধাগর খাওয়া দেখাঁছ এমন 
সময় নজরে পড়ল একটা বাঘ ভাল করে খাচ্ছে না, যেন অরুচি 
হয়েছে! মাংসের চার দিকে তিন পায়ে খড়য়ে বেড়াচ্ছে আর 
মাঝে মাঝে একট; কামড় দিচ্ছে। যোগীনকে বললম, আহা, 
বেচারার একটা পা জখম হয়েছে, খাঁনকটা মাংস কেউ যেন 
খাবলে নিয়েছে। গুল লেগেছিল নাক? 


যোগীন বললে, গুলি লাগে নি। এই বাঘাটির নাম রাম-.. 
২১ 


কৃষকাল 


খেলাওন, এর ইতিহাস বড় করুণ । পাশের খাঁচার বাঁঘনীটিকে 
দেখ। 
পাশের খাঁচায় দেখলূম একটি খোঁড়া বাঘনী রয়েছে। 
এরও অরুচি, কিন্তু তবুও কিছু খাচ্ছে। প্রন করলুম, দুটোই 
খোঁড়া দেখাঁছ, কি করে এমন হল? 

যোগণন বললে, এই বাঁঘনীটির নাম রামাঁপয়ারী। রাম- 
খেলাওন আর রামাঁপয়ারী দুটোই বছর দুই আগে গয়া জেলার 
গড়বাঁড়য়ার জঙ্গলে ধরা পড়ে। এদের দস্তুর মত মন্ত্র পাঁড়য়ে 
[বিবাহ হয়েছিল, কিন্তু মনের মিল হল না, তাই আলাদা খাঁচায় 
রাখতে হয়েছে। 

_-ভারী অদ্ভূত তো। ইতিহাসটা বল না শ্বান। 

--তোমার তো সব দেখা হয়ে গেছে, এখন আমার বাসায় 
চল। চা খেতে খেতে ইতিহাস শুনবে । 

যোগীনের কাছে যে ইতিহাস শুনেছিলুম তাই এখন 
বলাছি। 


ডি জীপ একজন 
হচ্ছেন চোঁধুরী রঘুবীর সিং প্রতাপপুর গ্রামে বাস 
করেন। ইনি খুব ধনী লোক, অনেক বিষয় সম্পা্ত, গড়বাঁড়য়ার 
জঙ্গল এ*্রই জমিদারর অন্তর্গত। রথঘুবীর রাজপুত ছন্রন, 
এককালে খুব শিকার করতেন, কিন্তু বুড়ো বয়সে তাঁর গুরু 
মহাতমা রামভরোস স্বামীর উপদেশে সব রকম জীবাহংসা ত্যাগ 


চি 


নিরামিষাশ' বাথ 


করেছেন, নিরামিষ খান, ভ্রিসম্ধ্যা রামনাম জপ করেন। তাঁর 
কড়া শাসনে বাঁড়র সকলেই মায় কাছারর আমলারা পর্যন্ত 
নিরামিষ খেতে বাধ্য হয়েছে। 

রঘুবীর ষখন 'শকার করতেন তখন তাঁর সহচর ছিল 
অকলু খাঁ। সে এখন বেকার, কিন্তু নিয়মিত মাসহারা পায় 
এবং মনিবের সেলাখানায় যত বন্দুক তলোয়ার বর্শা ইত্যাঁদ 
অস্ত আছে সমস্ত মেজে ঘষে চকচকে করে বাখে। 

একাদিন সকালবেলা রঘুবীর সং বাঁড়র সামনের চাতালে 
একটা খাঁটিয়ায় বসে গুড়গ্যাড় টানছেন আর তাঁর পাঁচ বছরের 
নাতি লল্লঃলালের সঙ্গে গল্প করছেন এমন সময় অকল; খাঁ 
এসে সেলাম করে বললে, হুজুর, একটা বড় বাঘ গড়বাঁড়য়ার 
জঙ্গলে ধরা পড়েছে। 

রঘূবীর বললেন, আহা, রামজীর জানবর, ওকে ফের 
জঙ্গলে ছেড়ে দাও। 

লল্ললাল বললে, না দাদুজী, ওকে আমি পৃষব। 

রঘুবাঁর নাতির আবদার ঠেলতে পারলেন না। হুকুম 
দিলেন, শাল কাঠের একটা বড় "জরা বানাও, তার সামনে 
একটা আর দিছনে একটা কামরা থাকবে, যেমন কলকাতার 
চাঁড়য়াখানায় আছে। মোটা মোটা দিক লাগানো হবে। দুই 
কামরার মাঝে একটা ফটক থাকবে, ছাদ থেকে জিঞ্জর টানলে 
ফটক খুলবে, তখন বাঘ কামরা বদল করতে পারবে । 

দু দিনের মধ্যেই খাঁচা তোর হয়ে গেল, তাতে বাঘকে পোরা 


শত 


কৃষরুলি 

হল। দেখাশোনার ভার অকলু খাঁর ওপর পড়ল। সে তার 
মনিবকে বললে, হুজুর, আমাদের যে বাঙাল ডান্তারবাবু 
আছেন তিনি বলেছেন আলনীপুরের 'চাঁড়য়াখানায় প্রত্যেক 
বাঘকে দু-তিন দিন অন্তর সাত সের ঘোড়ার মাংস খেতে দেওয়া 
হয়। এখানে তো তা মিলবে না, আপান খাসীর হুকুম করুন । 

রঘুবাঁর বললেন, খবরদার, কোনও রকম গোশত আমার 
কোঠির এলাকায় ঢুকবে না। এই বাঘের নাম দিয়েছি রাম- 
খেলাওন, ও গোশৃতি খাবে না। 

--তবে কি রকম খানা দেওয়া হবে হুজুর? 

--খানা কি কমী ক্যাঃ পার কচোঁড় হালুআ লঙ্ডু 
খিলাও, চাহে দুধ পিলাও, রাবাঁড় মালাই পেড়া বরফি ভি 
খিলাওড। 

ওই সব পাত্র খাদ্যেরই ব্যবস্থা হল। রঘুবীর তাঁর 
লোকজনদের 'ি*বাস করলেন না, নাঁতিকে সঙ্গে নিয়ে নিজের 
সামনে বাঘকে খাওয়াতে এলেন। বাঘ একবার শঃকে পিছন 
ফিরে বসল। রঘুবীর বললেন, এসব জিনিস খাওয়া তো 
অভ্যাস নেই, নিয়ামত 'দয়ে যাও, দিন কতক পরেই খেতে 
শিখবে । 

দু দন অন্তর রামখেলাওনকে নৈবেদ্য সাঁজয়ে দেওয়া 
হতে লাগল, কিন্তু একটু দুধ আর মালাই ছাড়া সে কিছুই 
খায় না। পার কচোঁড়ি পেড়া ইত্যাঁদ সবই অকল; খাঁ আর 
অন্যান্য চাকরদের জণ্রে যেতে লাগল। 

২৪ 


গনরামিষাশ বাথ 


মানুষকে যাঁদ অন্য কোনও খাবার না 'দয়ে শুধু ঘাস 
দেওয়া হয় তবে দের তাড়নায় সে ঘাসই খাবে । রামখেলাওনও 
অবশেষে প্দার কচোঁড় পেড়া প্রভাত সাত্বক খাদ্য খেতে 
শুরু, করলে। 

চৌধুরী রঘুবীঁর িংএর একটি দাতব্য দাবাখানা আছে, 
ডান্তার কালীচরণ পাল তার অধ্যক্ষ । মানবের আদেশে কালী- 
বাবু রোজই একবার বাঘাঁটিকে দেখেন। তান জন্তুর ডান্তার 
নন, তবু বুঝতে দোর হল না যে রামখেলাওনের গাঁতিক ভাল 
নয়। তার পেট মোটা হচ্ছে, কিন্তু ফার্ত নেই, 'ঝাময়ে আছে। 
কালীবাবু ডায়াগনোঁসিস করে রঘুবীরের কাছে এলেন। 

রঘুবীর প্রশ্ন করলেন, ক্যা খবর ডাকটর বাবু, বাম- 
খেলাওন তো বহৃত মজে মে হৈ? 

কালীবাবু বললেন, না চৌধ্‌রীজী, মোটেই ভাল নেই। 
ওর ডায়াবাঁটিস হয়েছে। 

--সে কিঃ ভাল ভাল জিনিসই তো ওকে খেতে দেওয়া 
হচ্ছে, আমি যা খাই বাঘও তাই খাচ্ছে। 

-কি জানেন, বাঘ হল কার্নভারস গোশতখোর 
জানোয়ার। কার্বোহাইড্রেট খাদ্য ওর সহ্য হচ্ছে না, গ্লুকোজ 
হয়ে বৌরয়ে যাচ্ছে। রোজ তিন বার ইনসুলিন দেওয়া দরকার, 
কিন্তু দেবে কে? 

--কি বলছ বুঝতে পারছি না। তুম বাঘের ইলাজ করতে 
মা পার তো পানা থেকে বড় ডান্তার আনাও। 


ছে 


কৃষকলি 


--আপনি ইচ্ছা করলে বড় ডান্তার আনাতে পারেন, কিন্ত 
কেউ কিছুই করতে পারবে না। ছাগল যেমন মাংস হজম 
করতে পারে না, বাঘ তেমনি পুরি কচোড়ি পারে না। ওকে 
যাঁদ বাঁচাতে চান তবে মাংসের ব্যবস্থা করুন। 


রঘদবীর সিং চিন্তিত হয়ে বললেন, বড়ী মুশাঁকল 
বাত। আচ্ছা, কাল আমার গুরুমহারাজ রামভরোসজী 
আসছেন, তিনি কি বলেন দেখা যাক। 

গদর্মহারাজ এলেন। রঘ্‌ুবাঁর তাঁকে বাঘ দেখাতে নিয়ে 
গেলেন, ডান্তার কালীবাবুও সঙ্গে গেলেন। 
ক্যা বেটা রামখেলাওন, ক্যা হয়া তেরা ঃ বাঘ মৃদুস্বরে উত্তর 
দিলে, হূলুম। 

রামভরোস বললেন, সমঝ লিয়া। আরে ই তো বহূত 
মামুলী বীমারী। বিহ্ণা হুয়া। 

কালীবাবু বললেন, বিহ্ণ কিরকম বেয়ারাম? 

-নাহ সমঝাঃ বাঘ বাঘনশ মাংতা। 

কালীবাব বললেন, ও, বাঘের বিরহ হয়েছে, তাই ঝিমিয়ে 
আছে। তবে চটপট বাঘিনী যোগাড় করুন। 

চৌধুরী রঘুবীর সিংএর লোকবল অর্থবল প্রচুর তিন 
দিনের মধ্যে একটা তরুণী বাঘিনশ ধরা পড়ল। রামভরোসজশ 
তার নাম রাখলেন রামপিয়ারী। বিধান দিলেন, আলাদ। 


২৬ 


নরামষাশী বাঘ 


পন্জরায় রেখে বাঁঘনীকেও পার কচোৌঁড় ওগয়রহ খেতে 
দেওয়া হক। যখন নিরামিষ ভোজনে অভ্যস্ত হবে, বাঘ 
বাঁঘনী দুজনেই সাত্ৃক স্বভাব পাবে, তখন পুরূত ডাঁকিয়ে 
বয়ে দিয়ে এক খাঁচায় রাখবে । 

খিদের জবালায় বাঁথন?ও কব্লমশ পুর কচোঁড় পেড়া 
ইত্যাদি খেতে আরম্ভ করলে। সাত্বক আহারের ফলে বাঘের 
যেসব উপসর্গ দেখা দিয়েছিল বাঁঘনীরও তাই দেখা গেল। 
তখন রামভরোস স্বামীর উপদেশে ঘটা করে বিয়ে দেবার 
আয়োজন হল, ঢোল বাজল, পুরোহিত মাসিরজী মন্ত্রপাঠ 
করলেন, তবে দুই থাবা এক করে দেবার সাহস তাঁর হল না। 
বাঘ-বাঁঘনীর বাসের জনা একটা খাঁচা ফল দিয়ে সাঁজয়ে তার 
মধ্যে বড় বড় বারকোশে নানাপ্রকার খাদ্যসামগ্রী এবং পান 
সুপারী কর্পর ছোয়ারা নারকেল-কুচি প্রভাতি মাঙ্গল্য দুব্য 
রাখা হল। 

ঠববাহসভায় রঘুবীর সং, তাঁর আত্মীয়-স্বজন, রাম- 
ভরোসজনঁ, কালীবাবু, অকল খাঁ এবং আরও বিস্তর লোক 
উপাস্থত ছিলেন। সকলেই আশা করলেন যে এইবারে এদের 
মেজাজ ভাল থাকবে, খাদ্য হজম হবে, দুটিতে মিলে মিশে সুখে 
ঘরকল্না করবে। 

বরকনের শুভদৃষ্টীবানময় কেমন হয় দেখবার জন্য 
সকলেই উদগ্রীব হয়ে আছেন। শুভ মূহূর্তে শাঁখ বেজে 
উঠল, বিহারের প্রথা অনুসারে পুরনারীরা চিৎকার করে গাইতে 


২৭ 


কষকাঁল 


লাগল--পরদেসীয়া আওল আঙ্গামা। অকল] খাঁ কপাট টেনে 
নিয়ে নবদম্পাঁতকে এক খাঁচায় পুরে দিলে। 


ফ্লয়েডের শিষ্যরা যাই বলুন, প্রাণীর আদম প্রেরণা 
ক্ষুংপিপাসা। রামখেলাওন আর রামপপিয়ারী হিংস্র *বাপদ; 
নামের আগে রাম যোগ করে এবং অনেক দিন নিরামিষ খাইয়েও 
তাদের স্বভাব বদলানো যায় নি। চার চক্ষুর মিলন হবা মান্র 
আমিষব্ভূক্ষু দুই প্রাণীর ক্যানিবাল প্রব্াাত্ত চাগিয়ে উঠল, 
প্রচন্ড গর্জন করে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা পরস্পরের সামনের বাঁ 
পায়ে কামড় দিয়ে এক এক গ্রাস মাংস তুলে 'নিলে। 


বাঘের গন, রক্তের স্রোত, মানুষের চিৎকার, লল্ললালের 
কান্না সমস্ত মিলে সেই বিবাহসভায় হুলস্থজ পড়ে গেল। 
রঘুবীরের আদেশে অকুল খাঁ একটা জহলন্ত মশালের খোঁচা 
দিয়ে কোনও রকমে বাঘ দুটোকে তফাত করে তাদের 'নজের 
[নজের খাঁচায় পুরে দিলে । রামভরোস মহারাজ বললেন, 
এই দুই জীব পূর্বজন্মে বহু পাপ করেছিল তাই এই দশা 
হয়েছে, এদের চারত্র দুরস্ত হতে আরও চুরাশি জন্ম লাগবে। 

রঘুবীর সং জিজ্ঞাসা করলেন, ডান্তারবাব, এখন কি করা 
উচিত ? 

কালীবাব্‌ বললেন, চৌধুরীজী, আপাঁন তো চেষ্টার ঘুটি 
করেন নি, এরা যখন কিছুতেই সাত্বীক হল না তখন আর দেরি 
না করে এদের আলীপুর পাঠিয়ে দিন। 


শখ 


নিরামিষাশন বাঘ 


তা" যোগীন আমাকে বললে, রঘুবীর সং বাঘ 
র্গ | দুটোকে বিদেয় করতে রাজী হলেন। কালাবাবদর 
সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, তিনি সমস্ত ঘটনা জানিয়ে আমাকে 
একটি চিঠি লিখলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, আলীপুর জ; এই 
দুটো বাঘকে রাখবে কিনা । খোঁড়া বাঘ শুনে ট্রাস্টীরা প্রথমে 
একটু খতখ*ত করেছিলেন। কিন্তু চৌধুরী রঘুবীর সিং 
দিলদরিয়া লোক, ব্যাঘ্রদম্পাতর যৌতুক স্বরুপ হাজার-এক 


টাকার একাট চেক আগাম পাঠিয়ে দিলেন। আর কোনও 


আপাঁত্ত হল না, রামখেলাওন আর রামপিয়ারী কালীবাবুর 
সঙ্গে এসে আমাদের এখানে ভরাতি হল। এখন মোটের ওপর 
ভালই আছে, তবে অনেক দিন সাত্ক আহারের ফলে ওদের 
প্যাধাক্ুয়াস ড্যামেজ হয়েছে, হজমশাক্ত কমে গেছে, মেজাজও 
[খিটাঁখটে হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মোটেই বনে না। 


৯৩৫৯ 


টি কন 
১০ রি 
৫ ফি 
রা 
নে 5 
২৮ 
৫ 
ক ঞ পা 
এ ৪ ৭ ্ 
৫ / রি রণ 
& + রা 
$ ! 
(1 এ |, , 
কু রী 
8" রি 
/ ূ দঃ ঃ 
ক 
টি 
7 
ও ৪ 
রশ 


০৯ 


টি পর 


বরনারীবরণ 


জ্জনসংগতির নাম আপনারা নিশ্চয় শুনেছেন। খবরের 

কাগজে যাঁদের ওয়াকফহাল মহল বলা হয় তাঁরা সকলেই 
একমত যে এর মতন উঞ্চুদরের অভিজাত ক্লাব কলকাতায় আর 
নেই। নামাঁট মোহমুদ্গর থেকে নেওয়া বটে, কিন্তু এখানে 
এর মানে সাধুসঞ্গ নয়। সঙ্জনসংগাতি_-কনা শিক্ষিত শোঁখন 
নরনারীর মিলনস্থান। আপান যাঁদ আধুনিক শ্রেক্ত লেখক 
চিন্রকর নটনটা গাইয়ে বাঁজয়ে নাচিয়ে দেখতে চান তবে এখানে 
আসতেই হবে। যাঁদ আলঙ্্রীমডার্ন ফ্যাশন আর চাল্চলন 
শিখতে চান তবে এই ক্লাব ভিন্ন গত্যন্তর নেই। 'কিচ্তু 
মূশীকল হচ্ছে, বাৎসাঁরক চাঁদা নগদ এক শ টাকা। ক জন 
তা দিতে পারে? চাঁদার টাকা যাঁদ বা যোগাড় করলেন তবু 
দরজা খোলা পাবেন না। সঙ্জনসংগাঁতর সদস্যসংখ্যা ধরাবাঁধা 
আড়াই শ। যাঁদ একটা পদ খাল হয় এবং অন্তত পণ্াশ জন 
সদস্যের সম্মতি আনতে পারেন তবেই আপনার আশা আছে। 
কিন্তু যাঁদ আপনার বরাত ভাল হয় তবে সুপারিশের জোরে 
ক্লাবের কোনও বিশেষ অধিবেশনে আপনি আঁতাঁথ গহসাবে 
বিনা খরচে নিমন্ত্রণ পেয়ে যেতে পারেন। | 

ক্লাবটি চালাবার ভার যাঁদের উপর তাঁরা গাঁচ বছর অন্তর 


৩০ 


বরনারীবরণ 


শনর্বাঁচিত হন। বর্তমান সভাপাঁত অনুকূল চৌধুরী একজন 
মনীষী লেখক ও সংবস্তা, বিখ্যাত মাসিক পাত্রকা প্রগামিনী'র 
মাঁলক ও সম্পাদক। এর বয়স এখন পস্মষাট্র, আবালবৃদ্ধ- 
বাঁনতা সকলের সঙ্গেই 'মশতে পারেন সেজন্য সকলেরই 
হান পপ্রয়। কর্মীধ্যক্ষ দু জন, কপোত গৃহ আর সোহনলাল 
সাহু। কপোত গুহ ব্যারিস্টার, বয়স চল্লিশের নদচে, পসার 
নেই কিন্তু পৈতৃক টাকা দেদার আছে। সোহনলাল ধনী 
কারবারী যুবক, বয়স ত্রিশের কাছাকাঁছ, খুব শৌঁখন, ছাপরার 
লোক হলেও বাঙালীর সঙ্গেই বেশী মেশেন। ইনি বলেন, 
বিহার প্রদেশের সমস্তই বাংলার অন্তভূন্ত হওয়া দরকার, নতুবা 
বিহারী কালচারের উন্নাতি হবে না। 


বিন্” বেলা প্রগামিনী প্রকার আফিসে অনুকূল চৌধুরী, 
কপোত গুহ আর সোহনলাল সাহু সঙ্জনসংগাঁতির 


আগামী অধিবেশন সম্বন্ধে পরামর্শ করছেন কপোত গুহ 
একটা চণ্চল হয়ে বলছিলেন, এ রকম করে ক্লাব চালানো যাবে 
না দাদা। প্রত্যেক বৈঠকে সেই একঘেয়ে প্রোগ্রাম, ভূপালশ 
বোসের গান, লুল চ্যাটাজর্র নাচ, দরদী সেনের ন্যাকা ন্যাকা 
আব্র্ত, জগাই বাঁরকের রাসলশলা ব্যাখ্যা, আর শসার স্যান্ড- 
উইচ কেক শিঙাড়া সন্দেশ পেস্তা-বাদাম-ভাজা আইসক্ীম চা। 

অনুকূল বাবু বললেন, বেশ তো, ক রকম করতে চাও 
তাই বল না। 


৩১ 


কৃষ্ধকাল . 


সোহনলাল বললেন, গৃহ সাহেবের মন খারাপ হয়ে শেছে 
দাদা। সোঁদন প্রাচী-প্রতশচী সংঘের জয়ন্তী হয়ে গেল, তারা 
একটি চমৎকার ট্যাবলো দেখিয়েছে । ডাল বাগচশর 'ক্রিওপেন্রা, 
সকলে অবাক হয়ে গেছে। ঘটোৎকচ শরুওপেট্রাকে কাঁধে নিয়ে 
পালাচ্ছে আর আ্যান্টীন ভেউ ভেউ করে কাঁদছে । যারা দেখেছে 
তারা সবাই ধন্য ধন্য করছে। 

অনুকূলবাবু বললেন, তোমরাও তো ওইরঁকম ?িছু একটা 
করতে পার। গজেন গ্‌প্তকে বললে একাঁদনের মধ্যে একটা 
একাঙ্ক নাটক লিখে দেবে। | 

সোহনলাল বললেন, আমার মতে 1সপাহন যুদ্ধের কোনও 
ঘটনা দেখালে খুব ভাল হবে। এই ধরুন--নানা সাহেব 
বলছেন, এই ফিরঙ্গ তোমার জিম্মায় রইল, ফুরসত হলেই 
একে পাঁচ টুকরা করবে, আম আবার লড়াইএ চললুম । ম্যাক- 
আর্থর পায়ে পড়ে প্রাণাভক্ষা করলেন। নানী সাহেবার দয়া 
হল, বললেন, জান নাহ লুংঁগ, 'সর্ফ নাক কাট দুংঁগ। 

কপোত গুহ ঘাড় নেড়ে বললেন, আমরু কারও নকল 
করতে চাই না, একবারে নতুন কিছ দেখাতে চাই) শুনুন 
দাদা-বিলেতে যেমন মে-কুইন ইলেকশন হয়, আগামা 
আধিবেশনে আমরা তেমনি উপস্থিত মাহলাগণের একজনকে 
বসন্তরানী ধনর্বাচন করব। 


৩. 


বরনারীবরণ 


-"ধল 'কি হে, জন্টি মাসের গুমোট গরমে বসল্তরানী! 

--আচ্ছা, আষাঢ় মাসে হতে পারে, তখন গরম কমে যাবে! 
উপাস্থত মাহলাগণের মধ্যে যান সব চেয়ে সুন্দরী তাঁকে 
আমরা সুন্দরীশ্রেষ্ঠা উপাধি দিয়ে ফুলের মুকুট পাঁরয়ে দেব, 
একাঁট সোনার ঘাঁড়ও উপহার দিতে পাঁর। 


সোহনলাল বললেন, সে খুব ভাল হবে দাদা। খবরাটি 
যাঁদ আগে কাগজে ছাপিয়ে দেওয়া হয় তবে সমস্ত মেম্বার 
আর মেস্ব্েসরা তো হাঁজর হবেনই, বাইরের লোকেও আযাভ- 
মিশনের জন্য ভিড় করবে। যদ দশ টাকার টিকিট করা হয় 
তা হলেও স্তর লোক তামাশা দেখতে আসবে । 

অনুকূলবাব বললেন, আইডিয়াটা ভাল, 'কন্তু সুন্দরী- 
শ্রেষ্ঠা বলা চলবে না, তাতে অনর্থক মনোমালন্যের সৃষ্টি 
হবে। সাধারণ লোকে অজ্পবয়সী মেয়েদের মধ্যেই সুন্দরী 
খোঁজে । কিন্তু আমাদের সদস্যারা সকলেই তরুণী নন, 
অনেকের বয়স হয়েছে অথচ রূপের খ্যাতি আছে। এইসব 
হোমরাচোমরা ফ্যাট ফেয়ার আ্যাণ্ড ফার্ট বা ফর্টউত্তীর্ণ 
মাহলারা যাঁদ দেখেন যে তাঁদের কোনও আশা নেই তবে ভীষণ 
চটে যাবেন, চাই কি ক্লাবের সম্পর্ক ত্যাগ করতে পারেন। তা 
হলে তো সঙ্জনসংগাঁতি উঠে ষাবে। 


কপোত গুহ চিন্তিত হয়ে বললেন, ভাঁবয়ে তুললেন 
দাদা, আপনার কি অসাধারণ দরদৃষ্টি! সুন্দরীশ্রেজ্ঠা 


৩ ৩৩ 


কৃষকাঁল 

নির্বাচন--এ কথা বললে িটুয়েশন একট ডেলিকেট হবে 
বটে। কি বললে ভাল হয় আপনিই স্থির করুন। 

অনুকূলবাব বললেন, বরনারীবরণ মন্দ হবে না। যুবতন 
প্রোঢ়া বৃদ্ধা কারও বরনারী হতে বাধা নেই । ফুলের মুকুট আর 
ঘাঁড় না দেওয়াই ভাল, একটা জাঁকালো বরমাল্য দিলেই চলবে। 
আমার মতে "সিক্রেট ব্যালটের ব্যবস্থা করা দরকার, তা হলে 
সকলেই চক্ষুলজ্জা ত্যাগ করে ভোট দিতে পারবে । 

অনুকলবাব বললেন, তাতে জনমতের 'িনধারণ হবে বটে, 
দিন্তু তার পরিণামটা ভেবে দেখেছ ঃ তারক মল্লিকের মেয়ে 
কিরধশশী- আজকাল যে হ্াদিনী দেবী নাম নিয়ে গৌড়ীয় 
লাস্যন্ত্যম্‌ দেখাচ্ছে-সেই সব চেয়ে বেশশ ভোট পাবে। তার 
পরেই বোধ হয় সুরেন ভোমিকের গুজরাটা স্তী কলাবতী 
ভৌমিক কিংবা আমাদের ডকটর নিয়োগীর স্পী বঙ্জুলা 
স্বামীদের ওপর চটবেন, বাড়িতে মূখ হাড় করে থাকবেন, 
একটা পারিবারিক অশান্তির সৃম্টি হবে। আমাদের মেয়েরা 
এখনও পাশ্চাত্য নারীর উদারতা পায় নি, সবাই শ্রীরাধার মতন 
জেলস। তা ছাড়া ব্যালটে 'বস্তর সময় লাগবে, লোকের ধৈর্য 
থাকবে না। ক্লাবের মেম্বাররা আমোদ চায়, ব্যালটের মতন 
নীরস ব্যাপারে সময় নষ্ট করা পছন্দ করবে না। ব্যালট নয়, 
সেকালের স্বয়ং্বর সভার মতন কিছু করাই ভাল। সভায় যাঁরা 


৩৪ 


বরনারীবরণ 


উপাস্থিত থাকবেন তাঁদেরই একজনকে বরায়তা বা বিচারক করা 
হবে। তিনি বরমাল্য হাতে নিয়ে সভা পাঁরক্রমণ করবেন, 
প্রত্যেক মাহলার চেহারা ঠাউরে দেখবেন, তার পর যাঁকে বর- 
নারী সাব্যস্ত করবেন তাঁর গলায় মালা দেবেন। এতে 
পাঁরবারিক অশান্তি হবে না। বরমাল্য যাঁকেই দেওয়া হক, 
মেয়েরা শুধু দবচারকের ওপর চটবেন, তাঁদের স্বামীদের দোষ 
ধরবেন না। 

সোহনলাল বললেন, খুব ভাল হবে। জজ মশাই যখন 
ঘুরে ঘুরে ইনৃস্পেকশন করবেন তখন মাহলাদের বুক তড়প 
তড়প করবে, আর পুরুষরা খুব মজা পাবে। হয়তো চুপ চুপি 
বাজ ধরবে--ফোর টু ওআন হয়াদনী দেবী, প্রি টু ওআন 
কলাবতঈ ভোঁমিক। এর চেয়ে আমোদ হতেই পারে না। 

আরও কিছুক্ষণ পরামর্শের পর স্থির হল যে আষাঢ় মাসের 
অধিবেশনে বরনারীবরণের ব্যবস্থা হবে। বিচারক কে হবেন 
তা নিয়ে এখন মাথা ঘামাবার দরকার নেই, সভাতে স্থির করলেই 
চলবে। বরনারীর 'ির্বাচনে কিছু গলদ হলেও ক্ষাত হবে না, 
সদস্যরা যাঁদ হূজ্‌গে মেতে একটু উত্তেজনা আর আনন্দ 
উপভোগ করেন তা হলেই আয়োজন সার্থক হবে। 

কপোত গুহ আর সোহনলাল সাহু বাবার জন্য উঠলেন। 
অনুকূল চৌধুরী বললেন, হাঁ, ভাল কথা ।-- আমার বেহাই' 
রাখহরি লাহিড়ী সস্বীক কাশী থেকে আসছেন, পুরী ঘুরে 
এসে দিছ; দিন আমার কাছে থাকবেন। এককালে ইনি গোরখ- 


৩৫ 


কৃষকলি 

পুর ডিভিশনের বড় এঞ্জনিয়ার ছিলেন, বেশ পন্ডিত লোক । 
বয়স আঁশ পৌরয়েছে কিন্তু খুব শস্ত আছেন, তাঁর গিন্নীরও 
প্রায় বাহাত্রর হবে। কাশীতে ছেলের কাছে থাকেন, 'িন্তু 
সেখানকার গরম এখন আর বুড়ো বুড়ীর সয় না। লাহড়ী 
মশাইকে অতিথি হিসেবে একটা নিমন্রণপন্র দিও, তাঁর স্ব 
থাকমাঁণ দেবীকেও দিও। আম সম্ত্রীক সঞ্জনসংগাঁতিতে যাব, 
বেহাই বেহানকে বাড়তে ফেলে রাখা ভাল দেখাবে না। 

কপোত গুহ বললেন, নিশ্চয় নিশ্চয়। সোহনলাল আর 
আমি আপনার বাঁড়তে 1গয়ে তাঁদের নিমন্্রণপন্ধ দিয়ে আসব। 


কপ গুহর চেম্টায় বরানগরের ভাগীরথী ভিলা নামক 
প্রকাণ্ড বাগান বাঁড়টি যোগাড় হয়েছে, এখানেই বরনারী- 
বরণ হবে। সঙ্জনসংগাঁতির আড়াই শ সদস্য-সদস্যা সকলেই 
এসেছেন, তা ছাড়া তাঁদের সুপারিশে প্রায় এক'শ জন আতিখি 
1হসাবে আমন্দিত হয়েছেন। চার দিক গাছে ঘেরা খোলা মাঠে 
সভা বসেছে, ষাঁদ ঝাঁম্ট হয় তবে বাঁড়র বড় হল ঘরে উঠে 
গেলেই চলবে । স্বীপুর্ষের আলাদা বসবার ব্যবস্থা হয় নি, 
অন্যান্য অধিবেশনের মতন এবারেও সকলে ইচ্ছামত মিলে মিশে 
বসেছেন। কেবল দশ-বারো জন স্কুল-কলেজের মেয়ে এক পাশে 
দল বেধে মহা উৎসাহে আন্ডা দচ্ছে। 

মাতের এক ধারে সভাপতি অনুকূল চৌধুরী বসেছেন। 
নিকটেই তাঁর স্ত্রী সরসীবালা দেবী, বৈহাই রাখহরি লাহিড়ণী, 


৩৬ 


বরনারীবরণ 


বৈহান থাকমাঁণ দেবী, এবং কয়েকজন মান্যগণ্য সদস্য-সদস্যা 
আর আমান্ত আতাথি আসন পেয়েছেন। কপোত গুহ, 
সোহনলাল সাহু এবং অন্যান্য কর্মকর্তারাও কাছে আছেন। 

প্রথমেই সভাপাঁত বললেন, আপনারা আমন্রণপন্নে পড়েছেন 
যে আজ আমরা এখানে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন 
করোছ। আশা করি সেটি সকলেরই উপভোগ্য হবে। আমাদের 
" মামুূলী কৃত্য ধা আছে তা আগে চুকে যাক, তার পর ধরনারী- 
বরণ হবে। 

যথারীতি বেহালা এসরাজ বাঁশির কনসার্ট, সংগত, নৃত্য, 
আবৃত্তি আর জলযোগ শেষ হল। অধ্যাপক কাঁপঞ্জল গাঙ্গুলশ 
বোদক যুগের নন্তগোষ্ঠাঁ বা নাইট ক্লাব সম্বন্ধে একটি সারগ্ভ' 
প্রবন্ধ পড়বার উপর্ুম করাঁছলেন, কিন্তু তাঁর পাশের সদস্যরা 
তাঁকে থাঁময়ে দিলেন। তার পর সভাপাঁতি ঘোষণা করলেন -- 
আজ আমরা উপাস্থত মহিলাগণের মধ্য থেকে একজনকে বর- 
নারী রূপে বরণ করব। বরায়তা অর্থনৎ বিচারক কে হবেন, 
কাকে আপনারা এই দুরূহ কর্মের জন্য যোগ্যতম মনে করেন, 
তাঁর নাম আপনারাই প্রস্তাব করুন। 

রাজলক্ষমীী দেবী সাহিত্যভাস্বতশী একজন উপ্চুদরের 
লেখিকা । বয়স পণ্াশ পোরিয়েছে, শ্যামবর্ণ লম্বা চওড়া দশা- 
সই চেহারা, মুখাঁট বেশ ভারী আর গম্ভীর। দশ বংসর আগেও 
এপ্র লেখা খুব জনাপ্রয় ছিল, কিন্তু সম্প্রাতি অর্বাচন লেখক- 
লোখকাদের উপদ্রবে এর বইএর কাটতি র্ুমশ কমে যাচ্ছে। 


৩৭ 


কৃষক 

রাজলক্ষযী দেবী দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, আপনারা যা করতে 
চাচ্ছেন তা আমাদের ভারতীয় সংস্কারের বিরোধ । প্রকাশ্য 
সভায় একজন পরপুরুষ একজন পরনারীকে বরনারী আখ্যা 
দিয়ে মাল্যদান করবে-সেই নারী কুমারী সধবা বিধবা যাই 
হক নাকেন--এ আঁত অশোভন নীতিবিরুদ্ধ ব্যাপার । বিলাতে 
এসব অনাচার চলতে পারে, কিন্তু এদেশের রুচিতে তা সইবে 
না। আমাদের আদর্শ সীতা সাবিত্রী দময়ন্তী, সর্বসাধারণের 
দৃঁক্টভোগ্যা বিলাঁসনী সূন্দরী নয়। একেই তো আজকালকার 
মেয়েরা সিনেমার নট হবার জন্য মুখিয়ে আছে, তার ওপর যাঁদ 
আপনারা বরনারীবরণ আরম্ভ করেন তবে সমাজ অধঃপাতে 
যাবে। আমি আপনাদের সংকাল্পত অনুষ্ঠানে ঘোর আপান্তি 
জানাচ্ছি। 

কপোত গূহর বৃদ্ধা পিসী পাশেই বসেছিলেন। ইনি 
বললেন, রাজলক্ষযী ঠিক কথা বলেছে। বরনারী টরনারী 
চল্পবে না, যত সব ইল্লহতে কাণ্ড। 

রাজলক্ষযী দেবীর স্বামী কাউনাঁসলার বামাপদ ঘোষাল 
একটু পিছনে বসে ছিলেন। হান লাজুক লোক, বেশী কথা 
বলেন না। এখন কর্তব্য বোধে দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, বরনারণ- 
বরণ আমারও পছন্দ নয়। 

সভাপাঁত বললেন, দুজন সদস্যা আর একজন সদস্য 
আপাতত জাঁনয়েছেন। যাঁদ অন্তত চার আনা সদস্যের অমত 
থাকে তবে আমরা বরনারীবরণ অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেব॥ 


৩৮ 


বরনারীবরণ 


শ্রীযুন্তা রাজলক্ষমী দেবী সাহিত্যভাম্বতীর সঙ্গে যাঁরা একমত 
তাঁরা দয়া করে হাত তুলুন। 
অন্য কেউ হাত তুললেন না। সভাপাঁত বললেন, বরনারীবরণে 
যাঁদের মত আছে তাঁরা এইবারে হাত তুলুন । 

প্রায় তিন শ জন হাত তুললেন, যেসব মেয়েরা আড্ডা 
দিচ্ছিল তারা দু হাত তুললে । সভাপাঁতি বললেন, দেখা গেল 
পনরো আনার বেশী সদস্যের সম্মতি আছে, অতএব বরনারী- 
বরণ হবে। এখন আপনাদের মধ্য থেকে কেউ বরয়িতা বা 
বিচারকের নাম প্রস্তাব করুন। 

কপোত গুহর তালিম অনুসারে বিখ্যাত উপন্যাসলেখক 
আ'রন্দম সান্যাল দাঁড়য়ে উঠে বললেন, আম প্রস্তাব করছি -- 
খ্যাতনামা চলচ্চিন্র-প্রয়োজক শ্রীষুন্ত ভূপেন হালদার মশাইকে 
বরনারীবরণের ভার দেওয়া হক। নারীর রূপের সমঝদার এর 
চাইতে ভাল কেউ নেই। আমার মতে হীনই ষোগ্যতম বরাঁয়তা । 

ভূপেন হালদার দাঁড়িয়ে উঠে করজোড়ে বললেন, আপনারা 
আমাকে মাপ করবেন, আম এই কাজের মোটেই উপয্যন্ত নই। 
আম নারী দোঁখ ক্যামেরার দৃষ্টিতে, পর্দায় তাঁদের রূপ 'কি 
রকম ফুটে উঠবে তাই আমার বিচার্য। রন্তমাংসের নরনারী 
সোজা চোখে কেমন দেখায় তার আঁভজ্ঞতা আমার বিশেষ 
কিছ নেই। 

সোহনলালের উসকানতে আর একজন সদস্য প্রস্তাব 

৩৯ 


কৃষ্ণকাল 


করলেন, প্রবীণ চিন্নকর স্বনামধ্যাত নাখলেশবর সেন মহাশয়কে 
বরফ্রিতা করা হক। 

নাখলে*বর হাত জোড় করে বললেন, মাপ করবেন 
মশাইরা। কাচ্চা বাচ্চা নিয়ে ঘর করি, সাহায্য করবার দ্বিতীয় 
লোক নেই, গৃহিণীই একমান্ ভরসা । তান বাঁড়তে ঘর- 
কন্নার কাজে ডুবে আছেন এই মওকায় যদ আম .একজন 
বরনারীকে মাল্যদান কার তবে গৃহণী খুশী হবেন না। 
কাগজে আর ক্যাঁম্বসে হরেক রকম বরনারী আঁকতে পাঁর-- 
শাঁড় সন্দুর-টপ পরা মেম, ঢুলু ঢুলু চৈনিক-নয়না 
ও'রয়েপ্টাল ললনা, পটের সুন্দরী যার পটোলচেরা চোখ 
মুণ্ডুর বাইরে বেরিয়ে আসে-- সব রকমই আমি একে থাঁক। 
কিন্তু একজন জলজ্যান্ত সুন্দরীকে সামনাসামান বরণ করব 
এমন বুকের পাটা আমার নেই। 

ছান্রীদের আন্ডা থেকে রব উঠল, ধত সব ভীরু কাওআর্ড। 

প্রতাপগড় কলেজের ভূতপূর্ব প্রন্সিপাল গগন বাঁড়ুজ্যে 
বললেন, আমাদের সদস্যদের সংকোচ হবারই কথা। এত দিন 
ধরে যাঁদের দেখে আসছেন তাঁদের একজনকে আজ হঠাৎ 
বরমাল্য দিতে চক্ষুলজ্জা হতেই পারে। বরনারীবরণের ভার 
কোনও নতুন লোককে দেওয়াই ভাল। ভাগ্যকরমে রিটায়ার্ড 
এগ্নীজীকউটিভ এঁঞ্জানিয়ার শ্রদ্ধেয় রাখহরি লাহিড়ী মশাই 
এখানে উপস্থিত আছেন। হীন বহযদশর্ঁ বিচক্ষণ খাধিতুল্য 
লোক, বয়সে আমাদের সকলের চাইতে বড়, 'িনভাক স্পম্টবস্তা 

৪০ 


বরনারীবরণ 


বলে এর খ্যাতি আছে। কর্নেল গ্রেহাম সায়েবকে ইনি মুখের 
ওপর ড্যাম ফুল বলেছিলেন, সেজন্যই রায়বাহাদুর খেতাব 
পান নি। আমার প্রস্তাব, একেই বরয়িতা করা হ'ক। 

একজন সদস্য এই প্রস্তাবের সমর্থন করলেন। অনুকূল- 
বাবু তাঁর বেহাইকে বললেন, আপাঁন্ত করবেন না লাহিড়ী মশাই, 
আপনিই আমাদের ভরসা । রাখহরিবাবু তাঁর পত্নীকে জিজ্ঞাসা 
করলেন, গিন্নী দি বল, রাজী হব নাক ? 

থাকমাঁণ দেবী কানে একটু কম শোনেন, ব্যাপারটা ঠিক 
বুঝতে পারেন নি। অনুক্লবাবুর স্ত্রী সরসীবালা তাঁকে 
সংক্ষেপে বুঝিয়ে দিলেন। থাকমণি বললেন, বেশ তো, যাকে 
পছন্দ হয় মালা দাও না গিয়ে, কে বারণ করছে। আম তো 
একটা অখদ্যে থুঙ্খুড়শ বুড়। 

সরসীবালা বললেন, ওঁক দাদ, খুশী মনে হুকুম দিন, 
তা না হলে গর যেতে সাহস হবে কেন। সভায় এত লোক 
ওঁর জন্য হা-পিত্যেশ করছে, ওদের হতাশ করবেন না। 

থাকমণি বললেন, হ্যাঁ গো হ্যাঁ, খুশী মনেই বলাছি। ওই 
তো গন্ডা গণ্ডা রুপুসী বসে রয়েছে, যাকে মনে ধরে স্বচ্ছন্দে 
মালা ?দয়ে এস, আমার তাতে 1ক। 


গু কমাণ দেবী একটু বেশী বুড়ো হয়ে পড়েছেন, কিন্তু 
তাঁর স্বামীর চেহারাট দেখবার মতন। লম্বা মজবুত 
গড়ন, ফরসা রং, পাকা চুল, পাকা গোঁফ-দাঁড়, যেন থিয়েটারের 


৪৯ 


কৃষ্ণকলি 


ভীম্ম। পত্ীর সম্মতি পেয়ে রাখহারিবাবু দাঁড়য়ে উঠে 
স্মিতমুখে বললেন, সভাপতি ভায়া, মাননীয় মাহলা ও ভদ্রবৃন্দ, 
মা-লক্ষমীগণ, এবং দিদিমশিগণ, আমার ওপর আপনারা বড় 
কাঁঠন কর্তব্য চাঁপিয়েছেন। কিন্তু আমি পিছপা নই, এর 
চাইতেও শন্ত কাজ ঢের করোছি। গোড়াতেই আম বরনারীর 
লক্ষণ সম্বন্ধে দু-চার কথা বলতে চাই। ইংরেজীতে প্রবাদ 
আছে-1062 19 91017) 0৩৫1১, অর্থাৎ রূপের দৌড় চামড়া 
পরন্তি। কথাটা ডাহা 'মিথ্যে। শুধু চামড়ায় নয়, নারীর 
মাংস হাড় মজ্জা সবন্রই রূপের সন্ধান করতে হবে। 

একটা ফাজিল মেয়ে বললে, চিরে চিরে দেখবেন নাকি 
সার 2 

--আরে না নম, তোমাদের কোনও ভয় নেই, আম এক 
নজরেই ভেতর বার সব টের পাই। যা বলছিলুম শোন। 
মানুষের যেমন তিন দশা __বাল্য যৌবন জরা, নারীর যৌবনেরও 
তেমনি তিন দশা-আদ্য মধ্য আর অন্ত্য। এই তিন 
যৌবনের তোয়াজ বা পরিচর্যার পদ্ধাতি আলাদা, প্রসাধন বা 
মেরামতও এক রকমে হয় না। ক রকম জানেন? মনে করুন 
একটা ইমারত তৈরী হল। প্রথম পনরো বংসর তার হেপাজত 
খুব সোজা, মাঝে মাঝে চুনকাম আর রং ফেরালেই যথেম্ট। 
কিন্তু আরও পরে দেখবেন, এক এক জায়গায় পলেস্তারা খসে 
গেছে, দরজা জানালার রং চটে গেছে। তখন রীতিমত 
মেরামত করতে হবে। ভ্রিশ-চল্লিশ বছর পরে দেখবেন, স্থানে 


৪২ 


বরনারীবরণ 


স্থানে ভিত বসে গেছে, দেওয়ালে ফাট ধরেছে, ছাত চিড় 
খেয়েছে। তখন শুধু দাগরাঁজ নয়, থরো িপেয়ার দরকার, 
হয়তো দুচার জায়গায় গিলপে গেথে কাঁড়তে চাড় দিতে হবে, 
ফাটা দেওয়াল জুড়তে হবে। ফেস িলফটিং জানেন ? বিলেতে 
খুব চলন আছে, আমাদের মা-লক্ষমীরা কেউ করিয়েছেন কিনা 
জান না। বেশী বয়সে গাল ঝুলে পড়লে রগের চামড়া টেনে 
সেলাই করে দেয়, তাতে যৌবনশ্রী ফিরে আসে । ফাটা দেওয়াল 
যেমন লোহার প্লেট আর নট-বোল্টু দিয়ে টেনে রাখা হয় 
সেইরকম আর কি। আসল কথা, আমাদের এই দেহমন্দির 
একটা ইমারতের সমান, যতদিন খাড়া থাকে ততদিনই তার 
তোয়াজ করতে হয়। কিন্তু ইমারত পুরনো হলেই বরবাদ 
হয় না, হাল ফ্যাশনের অনেক বাঁড়র চাইতে আমাদের বাপ- 
পিতামোর আমলের সেকেলে বাঁড় ঢের ভাল। বরনারও 
সেইরকমে বিচার করতে হবে। শুধু কম বয়স আর ওপর- 
চটকে ভুললে চলবে না মশাই, দেখতে হবে বনেদ কেমন, গাঁথনি 
কেমন, ভূমিকম্প আর ঝড়বৃল্টির ধকল সইতে পেরেছে কিনা । 
আচ্ছা, কথা তো বিস্তর বলা হল, এখন ইনস্পেকশন আরম্ভ 
করা যাক। কই হে সেকেটার, তোমাদের বরমাল্য কই 2 
কপোত গৃহ একটি প্রকাণ্ড মালা এনে 'বললেন, এই যে 
সার। রাখহাঁরবাবু মালাঁটি হাতে নিয়ে বললেন, বাঃ, খাসা 
মালাট, বোধ হয় সের খানিক জই ফুল আছে। বরমাল্য 
এইরকমই হওয়া উচিত। আজকাল হয়েছে গ্যালভানাইজ তারে 


৪৩ 


কৃফকলি 


পাঁথা ফুল-পাতার মালা, খীষ্টানরা যেমন কবরে দেয়। এক 
জায়গায় আমাকে ওইরকম একটা মালা দিয়েছিল, গিন্নী রেগে 
গিয়ে টান মেরে সেটা ফেলে দিয়োছিলেন। 

রাখহরি লাহড়ী মল্থরগাঁতিতে পারক্রমণ আরম্ভ করলেন। 
প্রথমেই ছান্নীদের দলের কাছে এসে বললেন, বগের মতন গলা 
বাড়াচ্ছিস কি, তোদের মালা দিচ্ছি না। তোরা হলি কাঁচা 
কংক্রিট, পোল্ত হতে বহুকাল লাগবে । 

একট মেয়ে চুপি চুপ বললে, দাদু, দয়া করে রাজলক্ষী 
দেবীর গলায় মালা দিন, ভীষণ মজা হবে। 

চোপ বলে ধমক দিয়ে রাখহার এগিয়ে চললেন । প্রত্যেক 
মাহলার সামনে এসে একট থামেন, তার পর আবার চলেন। 
সভায় চাপা গলায় তুমুল গুঞজজন আরম্ভ হল। সদস্যরা 
বলাবাঁল করতে লাগলেন -- বুড়ো কাকে মালা দেবে মনে হচ্ছে 2 
নিশ্চয় হযাদনী দেবীকে --উঃ, কি মারাআক কায়দায় শাঁড় 
পরেছে দেখ। কই না, ওর দিকে একবার তাঁকয়েই তো ঞাগয়ে 
চলল। ওই দেখ, বঞ্জহলা নিয়োগকে ঠাউরে দেখছে । নাঃ, 
বুড়োর পছন্দ কিচ্ছু নেই, ঘাড় নেড়ে আবার চলল। বোধ 
হয় কলাবত ভোমিককে পছন্দ করবে। ওঃ চুল বাঁধার 
স্টাইলখানা দেখ। আরে গেল ঘা, ওকেও তো ফেলে চলে গেল! 
কাকে মালা দেবে বুড়ো, সুন্দরী আর কই? এই মাঁট করলে, 
রাজলক্ষমী দেবীর কাছে থেমেছে, শেষটায় ওকেই মনে ধরল 
নাকি? নাঃ একটু হেসে ঘাড় নেড়ে আবার চলেছে। 

8৪8 


বরনারবরণ 


রাখহদি লাহড়ী সমস্ত মাহলা পাঁরদর্শন করে ফিরে 
আসছেন দেখে কপোত গুহ আর সোহনলাল হন্তদন্ত হয়ে 
তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, টি হল সার, মালা দিলেন না 2 

এই যে দিচ্ছি ভাই--এই বলে রাখহাঁর হন হন করে তাঁর 
বসবার জায়গায় ফিরে এসে মৃদু স্বরে বললেন, িন্নন, মাথাটা 
তোল। থাকমাঁণ থতমত খেয়ে ঘাড় উপ্টু করলেন, রাখহাঁর 
ঝুপ করে মালাট তাঁর গলায় দিলেন। 

নিমেষকালমান্র সমগ্র সভা চিন্রার্পতিবৎ স্তব্ধ হয়ে রইল। 
তার পর তিন দিক থেকে তীব্র আলোর ঝলক থাকমাঁণদেবীর 
শীর্ণ মুখে পড়ল, সঙ্গে সঙ্গে তিনটে ক্যামেরার লেন্স উন্মীলিত 
হল--ক্রিক ক্রিক ক্রিক। থাকমাঁণ চমকে উঠে মুখ বেণকয়ে 
বললেন, আঃ, জবালিয়ে মারলে, এদের মতলবটা কি, খুন করবে 
নাক? 

তুমুল করতালির শব্দে সভা যেন ফেটে পড়ল, যেসব 
মহিলার রূপের খ্যাতি আছে তাঁরাই সবচেয়ে বেশনি হাততালি 
দিলেন। ছাত্রীর দল হেসে ল্‌টোপুটি খেতে লাগল । 

হট্টগোল একটু থামলে রাজলক্ষমীদেবী দাঁড়য়ে উঠে 
অনাবিল আনন্দ উপভোগ করেছি। মহিলাদের পক্ষ থেকে 
আম শ্রদ্ধাস্পদ শ্রীযুক্ত রাখহারি লাহড়ী মহাশয়কে অসংখ্য 
ধন্যবাদ 'দিচ্ছি, তাঁর বরনারীবরণ অনবদ্য হয়েছে । শ্রীঘুক্তা 
থাকমণি দেবী আজ যে দুলভ সম্মান পেলেন তার জন্যে তাঁকেও 

৪৫ 


কৃফকলি 

সমস্ত পুরুষজাতির সমক্ষে একটি সুমহান, আদর্শ স্থাপন 
করেছেন। এই বলে রাজলক্ষনীদেবশ তাঁর স্বামী বামাপদ 
ঘোষালের দিকে কটমট করে তাকালেন। 

_ সরসীবালা তাঁর বেহানকে বল্লেন, কি দিদ, এখন খুশী 
হয়েছেন তোঃ 

--ধাম রাম, ি থেলা, কি ধো, বুড়োর বুদ্ধিশুদ্ধ কি 
 এ্রকবারে লোপ পেয়েছে! বাঁড় চল বোন, এখানে আর এক দণ্ড 
নয়, সবাই প্যাট প্যাট করে তাকাচ্ছে। 


৯৩৬০ 


৪৬ 


একগুয়ে বার্থ 


ন্‌ গলসরাইএর দু স্টেশন আগে সাকলাঁদহা। সকাল 
05 আটটায় পঞ্জাব মেল সেখানে এসে থামল। একটা 
সেকেন্ডক্লাস কামরায় দশ জন বাঙাল আর অবাঙালি যাত্রী : 
আছেন, গাড়ি চলতে দোঁর হচ্ছে দেখে তাঁরা অধীর হয়ে 
উঠলেন। প্ল্যাটফর্মে কলরব হতে লাগল । 

ক্যা হুআ গার্ডসাহেব? গার্ড জানালেন, এজন বিগড়ে 
গেছে, ট্রেন এখন সাইডিংএ ফেলে রাখা হবে, মোগলসরাই থেকে 
অন্য এঞ্জন এলে গাঁড় চলবে । অন্তত দেড় ঘণ্টা দেরি হবে। 

অতুল রাক্ষিত 'বিরস্ত হয়ে বললেন, 'িগড়ে যাবার আর 
সময় পেলেন না ইঞ্জিন, সেরেফ বঙ্জাত। ই. আই, আর. নাম 
বদলে গগয়েই এইসব যাচ্ছেতাই কাণ্ড শুরু হয়েছে। কাশী 
পেশছুতে দুপুর পেরিয়ে যাবে দেখছি। ওহে নরেশ, 
তোমাদের প্লে যাঁদ ভাল না ওতরায় তো আম দায়ী হব না 
তা বলে দিচ্ছ। আনাড়ী আ্যাক্রদের তালিম দিতে অন্তত 
দশ ঘণ্টা লাগবে। িরাজুদ্দৌলা নাটকাঁট সোজা নয়। 

নরেশ মুখুজ্যে বললেন, আপাঁন ভাববেন না রাক্ষিত মশায়। 
ওরা অনেক দিন ধরে রিহার্সাল দিয়ে তৈরা হয়ে আছে, আপান । 


5৭ 


কৃষ্ণকলি 


শুধু একটু পালিশ চাঁড়য়ে দেবেন। [তিন-চার ঘণ্টার বেশশ 
লাগবে না। 

অতুল রাঁক্ষত বললেন, তাতে কিছুই হবে না, তোমাদের 
খোট্রাই উচ্চারণ দুরস্ত করতেই দিন কেটে যাবে । দেখ নরেশ, 
আমার মনে হচ্ছে আমরা অশ্লেষা কি মঘায় যান্লা করেছি, 
সকলেই আমাদের পিছনে লেগেছে । হাওড়া আসতে ট্যাকাঁসর 
ত্রেনে উঠতে হেচিট খেলম, এই দেখ গোড়ালি জখম হয়েছে 
এখন আবার ইঞ্জন নড়বেন না বলে গোঁ ধরেছেন। 
অধ্যাপক ধাঁরেন দত্তর শবশুরবাঁড় কাশীতে, পূজোর বন্ধে 
সেখানে চলেছেন। সহাস্যে বললেন, অচেতন পদার্থের এক- 
গংয়োম সম্বন্ধে একটা ইধাঁরজী প্রবাদ আছে বটে। 

দাড়িওয়ালা বৃদ্ধ কৈলাস গাঙুলাী বললেন, জগদীশ বোস 
তো বলেই "দিয়েছেন যে এক টুকরো লোহাও সাড়া দেয়। তার 
মানে, লোহার চেতনা আছে। রেলের ইঞ্জিন আর মোটর গাঁড় 
আরও সচেতন। 

2 

ধীরেন দত্ত বললেন, তাদের চাইতে একটা 'পপড়ে ঢের 
বেশী সচেতন। ঞাঞ্জন বা মোটর গাঁড়র জীবন নেই। 

কৈলাস গাঙুলী বললেন, নেই কেন? ইঞ্জিন কয়লা খায়, 
জল খায়, ধোঁয়া ছাড়ে, ছাই ফেলে, অর্থাৎ কোচ্ঠ সাফ করে। 
মোটর গাড়িও পেট্রল খায়, তেল খায়, ধোঁয়া ছাড়ে, চার পায়ে 

৪৮ 


একগয়ে বাথণ 


দাপিয়ে বেড়ায়। জীবনের সব লক্ষণই তো বর্তমান, গোঁ ধরবে 
তা আর বিাঁচনত্র 'কি। 

--হল না গাঙুলী মশায়। মোটর গাঁড় যাঁদ লোহা-পেতল- 
অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পিছনের খোপ থেকে একটি বাচ্চা মোটর প্রসব 
করত তবেই জীবিত বলা চলত। জীবনের লক্ষণ হচ্ছে-_ 
আহার গ্রহণ, শরীর পোষণ, মল বজন, আর বংশবাঞ্ধ। 

--ওহে প্রফেসার, নিজের ফাঁদে নিজে পড়ে গেছ। তুমি 
যে সব লক্ষণ বললে তাতে আগুনকেও সজীব পদাথ বলা 
চলে। আশপাশ থেকে দাহ্য উপাদান আত্মসাৎ করে পষ্ট হয়, 
ধোঁয়া আর ছাই ত্যাগ করে, সুবিধে পেলেই ব্যাপ্ত হয়ে বংশ- 
বৃদ্ধি করে। 

ধীরেন দত্ত হেসে বললেন, হার মানলুম গাঙুলী মশায়। 
কিন্তু এীঞ্জনের বা আগুনের গোঁ আছে এ কথা মান না। 

জোর করে কিছুই বলা যায় না, জগংটাই ষে প্রাণময় ॥ 

একজন প্রো ভদ্রলোক এক কোণে হেলান দিয়ে চোখ 
বঃজে সব কথা শুনাছলেন। মাথায় টাক, বড় গোঁফ, কপালে 
একটা কাটা দাগ, চোখে পুরু চশমা । হান খাড়া হয়ে বসে 
বললেন, মশায়রা যাঁদ অনুমাতি দেন তো একটা কথা নিবেদন 
করি। আমি একটা মোটর গাঁড় জান যার অতি ভয়ানক গোঁ 
ছিল। আমার নিজেরই গাড়ি, জার্মন বার্থা কার। 

অতুল রাঁক্ষত বললেন, ব্যাপারটা খুলে বলুন সার। 


৪ ৪৯ 


কৃষ্কলি 


দু হাতের আঁস্তন গাঁটিয়ে ভদ্রলোক বললেন, এই দেখদন 
দি রকম চোট লেগেছিল। কপালের কাটা দাগ তো দেখতেই 
পাচ্ছেন। শুধু জখম হই নি মশায়, বিনা অপরাধে কোর্টে 
হাজারাঁট টাকা জাঁরমানা দিয়োছি। সবই সেই বার্থা গাঁড়র 
একগঃয়েশির ফল। 

নরেশ মুখুজ্যে বললেন, আপনারই তো গাঁড়, তবে 
আপনার ওপর তার অত আক্রোশ হল কেন? বেদম চাবুক 
লাঁগয়েছিলেন বাঁঝ ? 

তামাশা করবেন না মশায়। আক্রোশ আমার ওপর নয়, 
মকদুমপুরের কুমার সাহেবের ওপর । তান খুন হলেন, আঁম 
জখম হলুম, আর অসাবধানে গাঁড় চালিয়ে মানুষ মেরেছি 
এই' মিথ্যে অপবাদে মোটা টাকা দণ্ড দিলুম। আম হচ্ছি 
মাখনলাল মল্লিক, আমার কেসটা কাগজে পড়ে থাকবেন। 

কৈলাস গাঙুলশ বললেন, মনে পড়ছে না কি হয়োছিল। 
ঘটনাটা সাবস্তারে বলুন মল্লিক মশায়। ইঞ্জিন এসে পৌছতে 
তো টের দোর, ততক্ষণ আপনার আশ্চর্য কাহিনীটি শোনা 
যাক। , | 

মাখন মাল্পনক বলতে লাগলেন 1 


হয়। পনর বনুর আগেকার কথা। জগুমল সৌঁথয়া 
পুরনো মোটর গাঁড়র ব্যবসা করে। একাঁদন আমাকে বললে, 


&০ 


একগঃয়ে বার্থা 


বাবুজণ, একটা ভাল গাঁড় নেবেন 2 জার্মন বার্থ কার, রোল্‌স 
' রয়েস তার কাছে লাগে না, সস্তায় দেব। গাঁড়াট দেখে আমার 
খুব পছন্দ হল। বেশী দিন ব্যবহার হয় বিন, কিন্তু দেখেই 
বোঝা যায় যে বেশ জখম হয়েছিল, সর্বাঙ্গে চোট লাগার চিহ্ন 
আছে। তা হলেও গাঁড়াঁট আতি চমৎকার, মেরামতও ভাল 
করে হয়েছে। জগুমল খুব কম দামেই বেচলে, সাড়ে তিন 
হাজারে পেয়ে গেলুম। 

একাঁদন স্টক এক্সচেঞ্জে যাচ্ছ, ড্রাইভার নেই, নিজেই 
চালাচ্ছি। যাব দক্ষিণ দিকে, 'কল্তু স্টিয়ারংএর ওপর হাতটা 
যেন কেউ জোর করে ঘুরিয়ে দলে, গাড়ি উত্তর দিকে চলল। 
সামনে একটা প্রকাণ্ড গাঁড় আস্তে আস্তে চলছিল, আমার 
বাথণ কার পিছন থেকে তাকে প্রচণ্ড ধাক্কা দিলে, প্রাণপণে ব্রেক 
কষেও সামলাতে পারলুম না। 

যখন জ্ঞান হল, দেখলূম আম রন্তু মেখে শুয়ে আছি, 
মাথা আর হাতে যন্ত্রণা, চাঁরাঁদকে পুঁলস। আমাকে মৌডক্যাল 
কলেজে ড্রেস কাঁরয়ে থানায় নিয়ে গেল। শুনলুম ব্যাপারটা 
এই ।--আমার গাঁড় যাকে ধাক্কা মেরেছিল সেটা হচ্ছে মকদুম- 
পুরের কুমার সাহেবের গাড়ি। গাঁড়খানা একবারে চুরমার 
হয়েছে, একটা গ্যাস পোস্টে ঠুকে িয়ে কুমার সাহেবের মাথা 
ফেটে গেছে, বাঁচবার কোনও আশা নেই। আঁম বেহশ হয়ে 
গাড়ি চাঁলয়ে মানুষ খুন করোছি এই অপরাধে পুলিস আমাকে 
গ্রেফতার করেছে। অনেক কম্টে বেল দিয়ে খালাস পেল[ম। 


৫১ 


কৃষ্কালি 


তার পর [তিন মাস ধরে মকম্দমা চলল।, সরকারী উকিল 
বললে, আসামী মদ খেয়ে চুর হয়ে গাঁড় চালাচ্ছিল। আগার 
ব্যারিস্টার বললে, মাখন মল্লিক আঁতি সচ্চার্র লোক, মোটেই 
নেশা করে না, হঠাং মৃগী রোগে আকান্ত হয়ে অসামাল 
হয়েছিল। 

কৈলাস গাঙুলণী প্রশ্ন করলেন, আপনার মৃগীর ব্যারাম 
আছে নাক? 

.-না মশায়, মৃগী কস্মন্‌ কালে হয় নি, মদ গাঁজা গাঁলও 
খাই [নি। আমাকে ফাঁসাবার জন্যে সরকারী উকিল আর 
বাঁচাবার জন্যে আমার ব্যারিস্টার দুজনেই ডাহা মিথ্যে কথা 
বলেছিল। প্রকৃত ব্যাপার -_বার্থা গাঁড় নিজেই চড়াও হয়োছল, 
আমার তাতে কিছমান্র হাত ছিল না। কন্তু সে কথাকে 
বিশ্বাস করবে? আম নিস্তার পেলুম না, হাজার টাকা 
জাঁরমানা হল, আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সও বাতিল হয়ে গেল। 

নরেশ মুখুজ্যে বললেন, কুমার সাহেবের গাঁড়টা কোন্‌ 
মেক ছিল ? 

--খুব দামী ব্রিটিশ গাঁড়, সোআংক-ুটলার। 

-তাই বলুন। আপনার জার্মন গাঁড় তো 'রিটিশ 
গাঁড়কে.ঢু মারবেই, শরুর তৈরী যে। মজা মন্দ নয়, দুই 
চ্যাম্পিয়ান গ্রাঁড়র লড়াই হল, মাঝে থেকে বেচারা কুমার 
বাহাদুর মরলেন, আর্পনি জখম হলেন, আবার জারমানাও 
দলেন। 


৫ 


একগয়ে বার্থা 


মাখন মাল্লক বললেন, ধা ভাবছেন তা নয় মশায়, এতে 
ইন্টারন্যাশনাল ক্লাশের নাম গন্ধ নেই। আসল কথা, বার্থা 
গাড়ি প্রাতিশোধ নিয়েছে, কুমার সাহেবকে ডেলিবারেটাল খুন 
করেছে। 

কৈলাস গাঙুলী বললেন, বড়ই অলৌকিক কথা, কাঁল- 
যুগেও কি এমন হয়ঃ অবশ্য. জগতে অসম্ভব কছন নেই। 
আপনার এই বিশ্বাসের কারণ কিঃ 

এই সময় কামরায় একটা ধাক্কা লাগল, তার পরেই হেশ্ডকা 
টান। অতুল রাক্ষত বললেন, যাক, বাঁচা গেল, ইঞ্জিন খুব 
চটপট এসে গেছে, সাড়ে দশটার মধ্যে কাশী পেপছে যাব। 

নরেশ মুখুজ্যে বললেন, কাশী বিশ্বনাথ এখন মাথায় 
থাকুক। মল্িক মশায়, আপনার গল্পাঁট শেষ করে ফেলুন, 
নইলে গাঁড় থেকে নামতে পারব না। 

মাখন মল্লিক বললেন, তার পর শুনুন। আমার মাথার 
আর হাতের ঘা সেরে গেল, মকদ্দমাও চুকে গেল। তখন 
আমার মনে একটা জেদ চাপল। বার্থা গাঁড়র আচরণাঁটি বড়ই 
অদ্ভূত, তার রহস্য ভেদ না করলে স্বস্তি পাব না। প্রথমেই 
খোঁজ নিল্‌ম জগুমল সেথিয়ার কাছে। সে বললে, এই গাড়ির 
মালিক ছিলেন সলাসটার জলদ রায়, রায় আযন্ড দস্তিদার 
ফার্মের পার্টনার। রাঁচি যেতে যেতে চাশ্ডিলের কাছে তাঁর 
গাঁড় উলটে যায়। তাঁর বন্ধু কুমার বাহাদুর নিজের গাঁড়িতে 
আগে আগে যাচ্ছিলেন, তিনিই আতি কম্টে জলদ রায় আর 

ও 


কফকি 


তাঁর স্ধীকে কলকাতায় ারিয়ে আনেন। জলদ রায় সাত দিন 
পরে মারা গেলেন, তাঁর স্ত্রী ভাঙা বার্থ গাঁড় জগুমলকে 
বেচলেন, মেরামতের পর সে আবার আমাকে বেচলে। 

কৈলাস গাঙুলী বললেন, মানুষ মারাই দেখছি বার্থা 
গাঁড়টার স্বভাব। 

না মশায়, জলদ রায়কে বার্থ মারে নি। জগুমল আর 
কোনও খবর দিতে পারলে না, তখন আম জলদ রায়ের স্তর 
কাছে গেলুম। তিনি বাপের বাঁড়তে ছিলেন, একেবারে উল্মাদ 
হয়ে গেছেন, তাঁর লঙ্গে দেখা করা বৃথা । তার পর গেলম 
জলদের পার্টনার রমেশ দ্তিদারের কাছে। শেয়ার কেনা বেচা 
উপলক্ষ্যে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। প্রথমটা তিনি 
কিছুই বলতে চাইলেন না। যখন শুনলেন বার্থা গাঁড়ই কুমার 
সাহেবকে মেরেছে তখন অবাক হয়ে গেলেন এবং নিজে যা 
জানতেন তা প্রকাশ করলেন। মারা ধাবার আগে জলদ রায় 
তাঁকে সবই জানিয়েছিলেন। সংক্ষেপে বলাছ শুনুন । 

জলদ রায় বিস্তর পৈতৃক সম্পান্ত পেয়োছিলেন। সালাসটার 
ফামের কাজ দাস্তিদারই দেখতেন, জলদ রায় ফুর্তি করে 
বেড়াতেন আর নিয়মরক্ষার জন্য মাঝে মাঝে অফিসে যেতেন? 
তাঁর ক্ী হেলেনা রায় ছিলেন অসাধারণ সুন্দরী আর বিখ্যাত 
সোসাইটি লেডি। 

কৈলাস গাঙুলী বললেন, ও, তাই বলুন, এর মধ্যে একজন 
সুন্দরী নারী আছেন, নইলে অনর্থ ঘুটবে কেন। 


৪ 


একগুয়ে বার্থা 


-জলদ রায়ের সঙ্গে মকদুমপুরের কুমার ইন্দ্রপ্রতাপ 
সিংএর খুব বন্ধুত্ব 'ছিল। ইন্দ্রপ্রতাপ বালতী সোআংক্‌- 
টুটলার গাঁড় কিনলেন দেখে জলদ রায় বললেন, আমি 
লেটেস্ট মডেল জারমন বার্থা কার কিনছি। তোমার গাঁড় বড়, 
কিন্তু স্পরডে বার্থার কাছে হেরে যাবে। 

কুমার সাহেব বললেন, তবে এস, একাঁদন রেস লাগানো 
যাক, পাঁচ হাজার টাকা বাঁজ। জলদ রায় বললেন, রাজী আঁছি। 
আমার বাঁড় থেকে স্টার্ট করা যাবে। বেলা একটার সময় 
তুম রওনা হবে, তার ঠিক পনর মিনিট পরে আম হেলেনাকে 
নিয়ে বেরুব। চাশ্ডিলের আগেই তোমাকে ধরে ফেলব। কুমার 
সাহেব বললেন, খুব ভাল কথা। চাশ্ডিল ডাকবাংলায় আমরা 
রাত কাটাব, পরাদন সকালে একসঙ্গে রাঁচি যাব, সেখানে আমার 
বাড়তে িকানিক করা যাবে। 

নাদর্ট দিনে জলদ রায় তাঁর আঁফস থেকে বেলা পৌনে 
একটায় ফিরে এলেন। ম্বকে দেখতে পেলেন না, দারোয়ান 
তুলে নিয়ে এইমান্র রওনা হয়েছেন। এই চি রেখে গেছেন। 

[চিঠিটা জলদ রায়ের স্ত্রী লিখোছিলেন। তার মর্ম এই ।-- 
কুমারের সঙ্গে চললুম, জীবনটা পাঁরপূর্ণ করতে চাই! 
লক্ষনীটি, তুমি আর শুধু শুধু পিছনে ধাওয়া করো না। 
[ডিভোর্সের দরখাস্ত কর, ইন্দ্রপ্রতাপ কৃপণ নয়, উপযক্ত খেসারত 
দেবে। হেলেনা । 


৫ 


কৃষকলি 


_.. জলদ রায়ের মাথায় খুন চাপল। স্মীর জন্যে একটা 
চাবুক, কুমারের জন্যে একটা মাউজার গিস্তল, নিজের জন্যে 
এক বোতল ব্ল্যাপ্ডি, আর বার্থার জন্যে তিন বোতল পাজাহান- 
পুর রম নিয়ে তখনই বেরিয়ে পড়লেন। গাঁড় কেনার পরেই 
তান পরাক্ষা করে দেখোছিলেন ষে বার্থাকে রম খাওয়ালে, 
€অর্থাং পেক্রল ট্যাংকে রম ঢাললে) তার বেশ ফযার্তি হয়, হর্স 
পাওয়ার বেড়ে যায়। 

প্রচণ্ড বেগে গাঁড় চালিয়ে জলদ রায় যখন চাশ্ডিলের 
কাছে পৌঁছুলেন তখন দেখতে পেলেন প্রায় দেড় মাইল দূরে 
কুমারের গাড়ি চলেছে। সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, কন্তু দূর থেকে 
সোআংক-টুটলারের রুপুলী রং স্পম্ট দেখা যাচ্ছে। 
ওদিকে কুমার ইন্দ্প্রতাপও দেখলেন পিছনে একটা গাড়ি 
ছুটে আসছে। তিনটে হেড লাইট দেখেই বুঝলেন যে জলদ 
- ঝ্ায়ের বার্থা কার। কুমারের সামনেই একটা পাহাড়, রাস্তা 
তার পাশ দিয়ে বেকে গেছে। তিনি জোরে গাঁড় চালিয়ে 
পাহাড়ের আড়ালে এলেন, এবং গাঁড় থেকে নেমে তাড়াতাড়ি 
গোটাকতক বড় বড় পাথরের চাওড় রাস্তায় রাখলেন। তার 
পর আবার গাঁড়তে উঠে চললেন। | 

সঙ্গে সঙ্গে বার্থা গাঁড় এসে পড়ল। জলদ রায় বিস্তর 
_ মদ খেয়েছিলেন, বার্থাকেও খাইয়োছলেন, তার ফলে দু জনেই 
একটু টলছিলেন। রাস্তার বাধা জলদ দেখতে পেলেন না, 
গাথরের ওপর দিয়েই পুরো জোরে চালালেন। ধাক্কা খেয়ে 


৬৬ 


একগ-য়ে বার্থ 


বার্থ গাঁড় কাত হয়ে পড়ে গেল। ইন্দ্ুপ্রতাপের ইচ্ছে ছিল 
: তাড়াতাঁড় অকুস্থল থেকে দূরে সরে পড়বেন। কিন্তু তাঁর 
সঙ্গনী হেলেনা চিৎকার করতে লাগলেন, দৈবক্রমে একটা 
মোটর গাঁড়ও বিপরীত দক থেকে এসে পড়ল। ভাতে ছিলেন 
ফরেস্ট আফসার বনবিহারী দুূবে আর তাঁর চাপরাসশ। 
অগত্যা ইন্দ্রপ্রতাপকে থামতে হল। তানি দ্‌বের সাহায্যে 
জলদ রায়কে তুলে 'নয়ে চাশ্ডিল হাতপাতালে এলেন। ডান্তার 
বললেন, সাংঘাতিক জখম, আম মরফীন ইঞ্জেকশন দিচ্ছি, 
এখনই কলকাতায় নিয়ে যান। দুবেজী বললেন, কুমার সাহেব, 
আপাঁন আর দোর করবেন না, এদের নিয়ে এখনই বেরিয়ে 
পড়ুন। আপনার বন্ধুর গাড়িটা আম পাঠাবার ব্যবস্থা করছি। 
চেক বই সঙ্গে আছে তো? একখানা সাড়ে সাত হাজার টাকার 
বেয়ারার চেক লিখে দিন, পুিসকে ঠান্ডা করতে হবে। 
পড়লেন, তরি স্বী হেলেনা উন্মাদ অবস্থায় বাপের বাঁড় চলে 
গেলেন। তোবড়ানো বাথণ গাঁড়টা জগুমল কিনে নিলে। 
এখন ব্যাপারটা আপনাদের কাছে পারজ্কার হল তো? 
ইন্দ্প্রতাপ বার্থাকে জখম করেছে, তার প্রিয় মনিবকে খুন 
করেছে, বাথণ এরই প্রতিশোধ খজছিল। অবশেষে আমার 
হাতে এসে তার মনস্কামনা পূর্ণ হল, স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে 
সোআংকৃন্টটলারকে ধাক্কা দিয়ে চুরমার করে দিলে, ইন্দ্র- 
গুতাপকেও মারলে। | 


৭ 


্ষল 


রেন দত্ত বললেন, বার্থা খুব পাতিন্রতা গাঁড় তার আগেকার 

মানবের হত্যার প্রাতিশোধ নিয়েছে, 'িন্তু আপনার ওপর 
তার টান ছিল না দেখাঁছ। শত্রু মারতে গিয়ে আপনাকেও 
ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বার্থার গাতি কি হল? 


--জগুমলকেই বেচে দিয়েছি, চার শ টাকায়। 


নরেশ মুখজ্যে বললেন, খাসা গজ্পটি মাখনবাবু, কিন্তু 
বন্ড তড়বড় করে বলেছেন। বাদ বেশ ফোনয়ে আর রাঁসিয়ে 
পাঁচ শ পাতার একটি উপন্যাস লিখতে পারেন তবে আপনার 
রবীন্দ্র-পুরস্কার মারে কো। যাই হক, বেশ আনন্দে সময়টা 
কাটল । ৰ 


--আনন্দে কাটল ক রকম? দু জন নামজাদা লোক খন 
হল, এক জন মাহলা উন্মাদ হয়ে গেল, দুটো দামী গাঁড় ভেঙে 
গেল, আম জখম হলুম আবার জরিমানাও দিলুম, এতে 
আনন্দের ক পেলেন ? 


--রাগ করবেন না মাখনবাব। আপনি জখম হয়েছেন, 
জরিমানা দিয়েছেন, তার জন্যে আমরা সকলেই খুব দুঃখিত - 
ক বলেন গাঙুলী মশায়? কুমার সাহেবকে বধ করে আপাঁন 
ভালই করেছেন, িল্তু জলদ রায়কে মরতে দিলেন কেন? সে 
কলকাতায় ফিরে এল, হেলেনা আহার নিদ্রা ত্যাগ করে তার 
সেবা করলে, জল্দ সেরে উঠল, তার পর ক্ষমাঘেনা করে দু 


৮ 


 একগঃয়ে বার্থা 


জনে মিলে মিশে সুখে ঘরকন্না করতে লাগল -- ০০১ 
আরও ভাল হত না কি? 
ধনু দে রররালবুরা 
বলেছি2 আপনারা দেখাছ আত নিষ্চুর বেদরদী লোক। 
মোগলসরাই এসে পড়ল। মাখন মাল্পিক তাঁর বিছানার 
বাণ্ডিলটা ধপ করে প্ল্যাটফর্মে ফেললেন এবং সুটকেসাঁট হাতে 
কৈলাস গাঙুলী বললেন, ভদ্রলোককে তোমরা শুধু শুধু 
চাটয়ে দিলে । আহা, চোট খেয়ে বেচারার মাথা গলিয়ে গেছে ॥ 


১৩৬০ 


৫৯ 


পঞ্চপ্রিয়া পাঞ্চালী 


গপাণ্ডর অত্যন্ত অশান্তিতে আছেন। ইন্দপ্রস্থের 

এ্বর্ষ ত্যাগ করে বার বংসর বনবাস আর এক বৎসর 
অজ্ঞাতবাস করতে হবে এজন্য নয়। এই কাল উত্তীর্ণ হলেও 
হয়তো দুর্যোধন রাজ্য ফেরত দেবেন না, তখন আত্মীয় কৌরব” 
দের সঙ্গে য্দ্ধ করতে হবে, এজন্যও নয়। অশান্তির কারণ, 
পাণ্খালী এক মাস তাঁর পণপাতির সঙ্গে বাক্যালাপ বন্ধ করেছেন। 

রাজ্যত্যাগের পর পাণ্ডবরা প্রথমে কাম্কবনে এসেছিলেন, 
এখন দ্বৈতবনে নদীর তীরে আশ্রম নির্মাণ করে বাস করছেন। 
ভাঁদের সঙ্গে পুরোহিত ধোম্য এবং আরও অনেক ব্রাহত্রণ 
আছেন, সারাথি ইন্দ্রসেন এবং অন্যান্য দাসদাসী আছে, দ্রৌপদীর 
সহচরা ধা্ীকন্যা বালিকা সেবন্তাীঁ আছে। দ্রৌপদীর বিস্তর 
কাজ, বনবাসেও তাঁকে বৃহৎ সংসার চালাতে হয়। ভগবান 
গূর্যের দয়ায় তিনি যে তামার হাঁড়ীট পেয়েছেন তাতে রান্না 
সহজ হয়ে গেছে, দ্রৌপদীর না খাওয়া পর্যন্ত খাদ্য আপাঁনই 
বেড়ে যায়, সহস্র লোককে গাঁরবেশন করলেও কম পড়ে না। 
গৃহিণীর সকল কর্তব্যই দ্রৌপদী পালন করছেন, শুধু 
স্বামীদের সত্যে কথা বলেন না। কোনও অভাব হলে সেবন্তীই 
তা পাণ্ডবদের জানায়। | 


৬০ 


পণ্টপ্রয়া পাণ্ালণ 


প্রায় চার মাস হল পাণ্ডবরা বনবাসে আছেন। এ পথন্তি 
তিন আজীবন অভ্যস্ত। ভীম প্রথম প্রথম কিছু অসন্তোষ 
প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু পরে বেশ প্রফল্প হয়ে মৃগয়া নিয়েই 
থাকতেন। অজন নকুল সহদেবও রাজ্যনাশের দুখ ভুলে 
িয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রীতি পাণ্থালীর ভাবান্তর দেখে 
পাঁচজনেই উদবগ্ন হয়েছেন। 


দ্যতসভায় অপমান আর রাজ্ানাশের দুঃখ দৌপদশী ভুলতে 
পারেন নি। তিনি প্রায়ই বিলাপ করতেন যে তাঁর জোম্ঠ পাঁতির 
নিবঠাদ্ধতা এবং অন্যান্য পাঁতির অকর্মণ্যতার জন্যই এই দশায় 
পড়তে হয়েছে । যুধিষ্ঠির তাঁকে শান্ত করবার জন্য অনেক 
চেম্টা করেছেন, ভীম বার বার আশ্বাস দিয়েছেন যে দুঃশাসনের 
রন্তপান আর দুর্যোধনের উরুভঙ্গ না করে তিনি ছাড়বেন না, 
অজন নকুল সহদেবও তাঁকে বহুবার বলেছেন যে ভ্য়োদশ 
বর্ষ দেখতে দেখতে কেটে যাবে, তার পর আবার স্যাদন আসবে । 
কিন্তু কোনও ফল হয় নি, দ্রৌপদী তাঁর রোষ দমন করতে না 
পেরে অবশেষে পঞপাণ্ডবের সঙ্গে কথা বল্ধ করেছেন। 


চে দা ফ দ প য 

মাঝে মাঝে পান্ডবদের দেখতে আসেন, দ-একবার 

সত্যভামাকেও সঙ্গে এনেছেন। এবারে তিনি একাই এসেছেন । 
৬১ 





কৃষ্ণ পাণ্ডবদের মামাতো ভাই, অজনের সমবয়দ্ক। 
সেকালে বীদাঁদ আর বউমার অনুব্প কোনও সম্বোধন ছিল 
কিনা জানা যায় না। থাকলেও তার বাধা ছিল, কারণ সম্পর্কে 
কৃষ্ণ দ্বৌপদশর ভাশুরও বটেন দেওরও বটেন। দ্রৌপদীর প্রকৃত 
নাম কৃষ্ণা, সেজন্য কৃষ্ণ তাঁর সঙ্গে সখীসম্বন্ধ পাতিয়েছিলেন 
এবং দুজনেই পরস্পরকে নাম ধরে ভাকতেন। 


অভিবাদন ও কুশলপ্রশন বিনিময়ের পর কৃষ্ণ সহাস্যে 
বললেন, সখুশ কৃষ্ণা, তোমাব চন্দ্রবদন রন্ধনশালাব হন্ডিকার 
ম্যায় দেখাচ্ছে কেন? 


দ্রৌপদী বললেন, কৃষ্ণ, সব সময় পাঁরহাস ভাল লাগে না। 

কৃষ্ণ বললেন, তোমার কিসের দুঃখ? পাশ্ডবরা তোমার 
কোন: অভাব পূর্ণ করতে পারছেন না তা আমাকে বল। সক্ষম 
কৌষেয় বস্ত্র আর রত্বাভরণ চাও 2 গন্ধদ্রব্য চাও? এখানে 
শস্য দুলভ, তোমরা মৃগয়ালষ্ধখ মাং আর বন্য ফল মূল 
শাকাঁদ খেয়ে জীবনধারণ করছ, তাতে অবুচি হবার কথা, 
তার ফলে মনও অগপ্রসন্ন হয়। যব গোধূম তণ্ডুল মৃদগাদি 
চাও? দূশ্ধবতী ধেনু চাও ই ঘৃত তৈল গুড় লবণ হাক্রিদ্রা 
আর্দক চাও? দশ-ীবশ কলস উত্তম আসব পাঠিয়ে দেব? 
পৈষ্টী মাধবী আর গোড়ী মাঁদবা, মৈরেয় আর দ্রাক্ষেয় মধ্য, 


১০ 


পণ্টপ্রিয়া পাণ্ালী 


সবই দ্বারকায় প্রচুর পাওয়া যায়। এখানে বোধ হয় তালরস 
ভিন্ন কিছুই মেলে না। 

দ্রৌপদী হাত নেড়ে বললেন, ওসব িছুই চাই না। মাধব, 
তুম তো মহাপান্ডিত, লোকে তোমাকে সর্বজ্ঞ বলে। আমার 
দুর্ভাগ্যের কারণ কি তা বলতে পার» আমার তুল্য হতভাগিনী 
আর কোথাও দেখেছ 2 

কৃষ্ণ বললেন, বিস্তর, বিস্তর । আমার যে-কোনও পত্বীকে 
অনুপমা দগ্ধকপাঁলিনী। তাঁরা মনে করেন আঁমই তাঁদের 
সমস্ত আধিদৈবক আঁধভোৌতক আর আধ্যাত্মক দুঃখের 
কারণ। কৃষ্ণা, দুশ্চিন্তা দূর কর। বিধাতা বিশ্বপাতা মঙ্গল- 
দাতা করুণাময়। 

--তুঁম বিধাতার চাটকার, তাঁর 'নজ্ঞজুরতা দেখেও দেখছ 
না, কেবল করুণাই দেখছ। 

--যাজ্সেনী, তুমি কেবল 'নজের দুভণগ্যের বিষয় ভাবছ 
কেন, সৌভাগ্যও স্মরণ কর। তুমি ইন্দ্রপ্রস্থের রাজম হিষা, 
তোমার তুল্য গৌরবময়ী নারী আর কে আছেঃ তোমার 
বতমান দুদ্শা চিরাঁদন থাকবে না, আবার তুম স্বপদে 
প্রীতীন্তঠত হবে। যজ্ঞের অনল থেকে তোমার উৎপা্ত, তুমি 
অপূর্ব রূপবতী, তোমার পিতা পণ্টালরাজ দ্রুপদ বর্তমান 
আছেন, তোমার দুই মহাবল ভ্রাতা আছেন। তোমার পাঁচ 
বীরপনত্র আভমনার সঙ্গে দ্বারকায় আমাদের ভবনে শিক্ষালাভ 


৬৩ 


কৃকলি 


করছে। পাঁচ পুরুষসিংহ তোমার স্বামী, চার ভাশুর, চার 
দেবর-- 

-ভাশুর দেবর আবার কোথায় পেলে? ধৃতরামষ্ট্রের 
পুত্দের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই'। 

--ভাশুর আর দেবর তোমার কাছেই আছেন। কৃষ্ণ, এই 
শ্লোকটি কি তুমি শোন নি?-- 

পতিশ্বশুরতা জ্যেন্ঠে পাঁতিদেবরতানুজে। 
মধ্যমেষ্‌ চ পাণ্াল্যাস্মিতয়ং নিতয়ং ভ্রিষ়॥ 

--জ্যেম্ট পাণ্ডব পাণ্চালীর পাত ও ভ্রাতৃশ্বশুর (ভাশুর) 
কাস্ট পাণ্ডব পাঁত ও দেবর, মাঝের তিনজন প্রত্যেকেই পাঁত 
ভাশুর ও দেবর। 

--তাতেই আমি ধন্য হয়ে গোঁছি ? 

_-পাণ্ালী, তুমি ক্রোধ সংবরণ কর। দোষশ,ন্য মানুষ 
জগতে নেই, যাঁধান্ঠর দযতাঁপ্রয় ও সরলস্বভাব, তাই এই 'ীবপদ 
হয়েছে। তান অনুতপ্ত, তাঁকে আর মনঃপীড়া দিও না। 
তোমার অন্য পাঁতিরা য্বাঁধাঞ্ঠরের আজ্ঞাবহ, অগ্রজের মতের 
বিরুদ্ধে তাঁরা যেতে পারেন না। তাঁদের অকর্মণ্য মনে 
কারো ন[। 

কৃষ্ণ আরও অনেক প্রবোধবাক্য বললেন, নানা শাস্ত থেকে 
ভার কততবব্য সম্বন্ধে উপদেশ দিলেন, কিন্তু পাণ্চালীর 
ক্ষোভ দূর হল না। তখন কৃষ্ণ 'স্মিতমুখে বিদায় নিয়ে 
পান্ডবদের কাছে গেলেন। 

৬৪ 


পণ্টাপ্রয়া পাণ্চালী 


কটি প্রকাণ্ড আটচালায় পুরোহিত ধৌম্য আর অন্যান্য 

প্রাহমণগণ বাস করেন। কৃষ্ণের আগমন উপলক্ষ্যে সেখানে 
একটি মন্লণাসভা বসেছে । ম্বীধান্ঠির ও তাঁর ভ্রাতারা কৃষককে 
সাদরে সেই সভায় নিয়ে গেলেন। 

যাঁধান্ঠর বললেন, পূজ্যপাদ ধোম্য ও উপাস্থত বিপ্রগণ, 
আপনারা সকলে অবধান করুন। বাসুদেব কৃষ্ণ, তুমিও শোন। 
কৌরবসভায় লাঞ্চনা ও বাজ্যনাশের শোকে পাণ্চালীর চির্ত- 
বিকার হয়েছে, পণ্পপাতির প্রাতি তাঁর 'নদারুণ আভমান জন্মেছে, 
[তিনি এক মাস আমাদের সঙ্গে বাক্যালাপ করেন নি। এই 
দুঃসহ অবস্থার প্রাতিকার কোন্‌ উপায়ে হতে পারে তা আপনারা 
নির্ধারণ করুন। 

ধোৌম্য বললেন, আমি বেদ পুরাণ ও ধর্মশাস্ত্ থেকে শ্লোক 
উদ্ধাব করে পাণ্চালীকে পাঁতিব্রতা সহধার্মণনীর কর্তব্য বিষয়ে 
উপদেশ দিতে পারি, পাপের ভয়ও দেখাতে পাবি। 

কৃষ্ণ বললেন, 'দ্বিজবর, তাতে দিকছুই হবে না। আমি 
এইমাত্র তাঁকে বিস্তর শাস্ত্রীয় উপদেশ শুনিয়ে এখানে এসেছি, 
আমার চেষ্টায় কোনও ফল হয় ?ন। 

যুধম্ঠির বললেন, তবে উপায় ? 

পুরোহিত ধৌম্যের খুল্লপতাত হৌম্য নামক এক তেজদ্বী 
বন্ধ ব্রাহমণ বললেন, পাণ্সালীকে বিনীত করা মোটেই দরূহ 
নয়। পান্ডবগণ স্রৈণ হয়ে পড়েছেন, দ্রুপদনান্দনীকে অত্যন্ত 
প্রশ্রয় দিয়েছেন, পণ ভ্রাতা তাঁদের এই যৌথ কলন্রটিকে ভয় 


ে ৬ 


কৃষ্ণকলি 


করেন। ধর্মরাজ ফুধাষ্তর, আমি আতি সুসাধ্য উপায় বলাছ 
শুনুন। পাণ্টালীই আপনাদের একমাত্র পত্রী ননা। আপনার 
আর একাঁট নিজস্ব পত্কী আছেন, রাজা শৈব্যের কন্যা দোৌবকা। 
ভীমের আরও তিন পত্বী আছেন, রাক্ষসী 'হাড়ম্বা, শল্যের 
ভাঁগনী কালী, কাশীরাজকন্যা বলন্ধরা। অজর্নেরও তন 
পত্বী আছেন, মাণপুবরাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা, নাগকন্যা উল.পণ, 
আর কৃষ্ভাঁগনী সূভদ্রা। নকুলের আর এক পত্রী আছেন, 
চেদিরাজকন্যা করেণ্মতাঁ। সহদেবেরও আর এক পত্নী 
আছেন, জরাসম্ধকন্যা, তাঁর নামা আমার মনে নেই। পাণ্চালীর 
এই ন জন সপত্বীকে সত্বর এখানে আনবার ব্যবস্থা করুন। 
তাঁদের আগমনে দ্রোপদীর অহংকার দুব হবে, আপনাবাও বহু 
পত্সীর সাঁহত মিলিত হয়ে পরমানন্দে কালযাপন করবেন। 

যাঁধান্ভঠর বললেন, তপোধন, আপনার প্রদ্তাব আত 
গহতি। দ্রৌপদী বহু মনস্তাপ ভোগ করেছেন, আরও দুঃখ 
কি করে তাঁকে দেবঃ আমাদের অনেক ভার্ধা আছেন তা 
সতা, কিন্তু তাঁরা কেউ সহধা্মণী পট্রমহিষী নন। আমরা 
এই যে বনবাসব্লত পালন করছি এতে পাণ্ঠালী ভিন্ন আর কেউ 
আমাদের সাঁঙ্গনী হতে পারেন না। কৃষ্ণ, সকল আপদে তুমিই 
আমাদের সহায়, পাণ্গালী যাতে প্রকীতিস্থ হন তার একটা 
উপায় কর। 

একট চিন্তা করে কৃষ্ণ বললেন, ধর্মরাজ, আম যথোচিত 
ব্যবস্থা করব। আজ আমাকে 'বদায় দিন, আমার এক মাতুল 

৬ 


পণ্প্রয়া পাণ্ালশ 


রাজার্ধ রোহত এই দ্বৈতবনের পাঁচ ক্রোশ উত্তরে বানপ্রস্থ 
আশ্রমে বাস করেন। আম তাঁর সঙ্গে একবার দেখা করে 
দু ্দনের মধ্যে ফরে আসব। 


থে উঠে কৃষ্ণ তাঁর সারাঁথ দারুককে বললেন, এখান থেকে 
৬ কিছু উত্তরে জবলজ্জট খাঁষর আশ্রম আছে, সেখানে চল। 

ধাঁষর বয়স পণ্টাশ। তাঁর দেহ বিশাল, গান্রবর্ণ আরক্ত 
গৌর, জটা ও মমশ্র আগ্নীশিখার ন্যায় অঝুণবর্ণ সেজন্য লোকে 
তাঁকে জ্হলজ্জট বলে। কৃষকে সাদরে আভনন্দন করে তিনি 
বললেন, জনাদ্দন, তিন বৎসর পূর্বে প্রভাসতীর্ঘে তোমার 
সঙ্গে আমার দেখা হয়োছিল, ভাগ্যবশে আজ আবার মিলন 
হল। তোমার কোন্‌ 'প্রয়কার্য সাধন করব তা বল। 

কৃষ্ণ বললেন, তপোধন, আমার আত্মীয় ও পরম প্রীতি- 
ভাজন পাশ্ডবগণ রাজ্যচ্যুত হয়ে দৈবতবনে বাস করছেন। 
সম্প্রতি তাঁরা আর এক সংকটে পড়েছেন, তা থেকে তাঁদের 
মুক্ত করবার জন্য আপনার সাহাষ্যপ্রার্থ হয়ে এসেছি। আপনার 
পাঁরচিতা কোনও নারা 'নকটে আছে ঃ 

জহলজ্জট বললেন, নারী ফারী আমার নেই, আম অকৃত- 
দারা এই বিজন অরণ্যে নারী কোথায় পাবে? তবে হাঁ; 
অপ্সরা পণ্চচূড়া মাঝে মাঝে তত্কথা শুনতে আমার কাছে 
আসে বটে। সে কিন্তু সুন্দরী নয়। 

কৃষ্ণ বললেন, সুন্দরীর প্রয়োজন নেই। পণুচূড়া চিৎকার 

৬৭ 


কৃষকলি 


করতে পারে তো? তা হলেই আমার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে॥ 
এখন আমার প্রার্থনাটি শুনুন । 

কৃষ্ণ সবিদ্তাবে তাঁর প্রার্থনা জানালেন। জহলজ্জট 
অট্রহাস্য করে বললেন, বাসুদেব, লোকে তোমাকে কুচক্র বলে, 
কিন্তু আমি দেখাছি তুমি সূচক, তোমার উদ্দেশ্য সাধু। 
নিশ্চিন্ত থাক, তোমার অনুরোধ নিশ্চয়ই রক্ষা করব। দু দিন 
পরে অপরাহনকালে আম পাণ্ডবদের আশ্রমে উপস্থিত হব। 

প্রণাম করে কৃষ্ণ বিদায় নিলেন এবং আরও উত্তরে যাত্রা 
করে রাজর্ষ রোহতের আশ্রমে এলেন। ইনি বলদেবজননী 
রোহিণীর ভ্রাতা, বানপ্রস্থ অবলম্বন করে সম্ত্ীক অরণ্যবাস 
করছেন। কৃকককে দেখে প্রীত হয়ে বললেন, বংস, বহুকাল 
পরে তোমাকে দেখছি। তুমি এখানে কিছাবাদন অবস্থান কবে 
তোমার মাতুলানী ও আমার আনন্দবর্ধন কর। দ্বারকার সব 
কুশল তো? 

কৃষ্ণ বললেন, পৃজ্যপাদ মাতুল, সমস্তই কুশল। আম 
আপনাদের চরণদর্শন করতে এসোছ, দীর্ঘকাল থাকতে পারব 
না, দু দিন পরেই বিশেষ প্রয়োজনে পাণ্ডবাশ্রমে আমাকে ফিরে 
যেতে হবে। 


“ডবগণের পোষ্যবর্গ প্রায় দ্‌ শ, প্রাতাদন দু বেলা এই 

সমস্ত লোকের আহারের ব্যবস্থা করতে হয়। দ্বতবনে 

হাটবাজার নেই, তণ্ডুলাঁদ শস্য পাওয়া যায় না, কালে ভদ্রে দরদ 
৬৮ 


পণ্টাপ্রয়া পাণ্চালী 


পুক্ষশ প্রভীতি প্রত্যন্তবাসীরা কিছু যব আর মধু এনে দেয়। 
মৃগয়ালব্ধ পশুর মাংস এবং স্বচ্ছন্দবনজাত ফল মূল ও শাকই 
পান্ডবগণের প্রধান খাদ্য। 


প্রত্যহ প্রাতঃকৃত্য সমাপন করেই পণ্খপান্ডব মৃগয়ায় নির্গতি 
হন। আজ একাট বৃহৎ বরাহ দেখে তাঁরা উৎফুল্ল হলেন, কারণ 
বরাহমাংস তাঁদের আশ্রত 'বিপ্রগণের আতিশয় পপ্রিয়। অজঠন 
শরাঘাত করলেন, কিন্তু বদ্ধ হয়েও বরাহ মরল না, বেশে 
ধাবিত হয়ে নাবড় অরণ্যে গেল। তখন পণ্পান্ডব সকলেই 
শরমোচন করলেন! সঙ্গে সঙ্গে নারীকণ্ঠে আর্তনাদ উঠল _- 
হা নাথ, হতোহীস্ম ! 


তাঁদের শরাঘাতে ক স্বীহত্যা হল১ পান্ডবগণ ব্যাকুল 
হয়ে অরণ্যে প্রবেশ করে দেখলেন, বরাহ গতপ্রাণ হয়ে পড়ে 
আছে কিন্তু আর কেউ নেই। চতুর্দিকে অন্বেষণ করেও তাঁরা 
কিছু দেখতে পেলেন না। ভীম বললেন, নিশ্চয় রাক্ষসী মায়া, 
মারীচ এইপ্রকার চিৎকার করে শ্রীরামকে বিভ্রান্ত করেছিল। 

যুধান্ঠির শাও্কত হয়ে বললেন, আশ্রমে শীঘ্র ফিরে চল, 
জানি না কোনও বিপদ হল 'িনা। ভীম, তুমি বরাহটাকে 
কাঁধে নাও। 


সকলে আশ্রমে এসে দেখলেন কোনও বিপদ ঘটে 'নি। 
পাণ্চালী সূধদত্ত তাগ্নস্থালতে বরাহমাংস পাক করলেন, 
সকলেই প্রচুর পাঁরমাণে ভোজন করে পাঁরতৃপ্ত হলেন। 


৬৭) 


কৃফকলি 


পরাহকালে একাঁট বৃহৎ অশ্বর্থ .তরুর তলে সকলে 
বসেছেন, পুরোহিত ধোম্য যম-নাঁচকেতার উপাখ্যান 
বলছেন। পাণ্টালীও একটু পশ্চাতে বসে সেই পাঁবন্ন কথা 
শুনছেন। এমন সময় মুর্তমান বিপদ রূপে জবলজ্জট খাঁষ 
উপস্থিত হলেন। তাঁর জটা ও মমশ্রু অগ্নিজবালার ন্যায় ভয়ংকর, 
মুখ ক্রোধে রক্তবর্ণ চক্ষু] বিস্ফারত ও ভ্রুকুটিকুটিল। হুংকার 
করে জহলজ্জট বললেন, ওরে রে নারীখাতক পাঁপিবৃন্দ, আজ 
ব্রহ়শাপে তোমাদের নবকে প্রেরণ করব! 

যুধিচ্ঠিব কতাঞ্জাল হয়ে বললেন, ভগবান, আমরা কোন্‌ 
মহাপাপ করোছি 2 

জহলজ্জট উত্তর দিলেন, তোমরা শবাঘথাতে আমার প্রিয়া 
ভার্ধাকে বধ করেছ। ধিক তোমাদের ধনদার্বদ্যা, একটা বরাহ 
মারতে গিয়ে খাঁষপত্ৰীব প্রাণ হবণ করেছ! 

যাঁধান্তবাঁদ পঞ্ভ্রাতা কাতর হয়ে খাঁষর চরণে নিপাতিত 
হলেন। পাণ্সালীও গলবস্ত হয়ে যুস্তকরে অশ্রুবর্ষণ করতে 
লাগলেন । 

যুঁধাষ্তর বললেন, প্রভূ, আমরা অজ্ঞাতসাবে মহাপাপ কবে 
ফেলেছি। আপাঁন যে দণ্ড দেবেন, যতই কঠোর হক তাই 
শিরোধার্য করব। 

দৌপদী এাঁগয়ে এসে বললেন, মহামান, আমার স্বামীদের 
শরাঘাতে আপনার "প্রয়া ভার্ধার প্রাণাবয়োগ হয়েছে, তার দণ্ড- 
স্বরূপ আপাঁন আমার প্রাণ নিয়ে এদের মাজনা করুন| মধ্যম 


980 





পণ্টাপ্রয়া পার্থাল 


পান্ডব, তুমি চিতা রচনা কর, আমি অস্নিপ্রবেশে প্রাণ বিসর্জন 
দেব। 

জঙলজ্জট আবার হুংকার করে বললেন, তুমি তো দেখছি 
অতি নিবদ্ধ রমণী! তোমার প্রাণ বিসজনে কি আমার পত্রী 
জীবত হবে? আম পত্রী চাই, এই দণ্ডেই চাই। পান্ডবরা 
আমাকে বিপত্রীক করেছে, আম পান্ডবপত্রী পাণ্চালীকে চাই । 
এই বলে জহলজ্জট মুনি উন্মস্তের ন্যায় নৃত্য করে ভূমিতে 
পদাঘাত করতে লাগলেন। 

যুধিষ্ঠির যুক্তকরে বললেন, প্রভূ, প্রসন্ন হান, পাণ্চাল? ভিন্ন 
যা চাইবেন তাই দেব ।_- 

ইয়ং হি নঃ 'প্রয়া ভার্ষা প্রাণেভ্যোহাপ গরায়সণ। 

মাতেব পরিপাল্যা চ পূজ্যা জ্যেন্ঠেব চ স্বসা॥। 

--আমাদের এই প্রিয়া ভার্ষা প্রাণাপেক্ষা গরীয়সী, মাতার 
ন্যায় পারপালনীয়া, জ্যেন্তা ভগনর ন্যায় মাননীয়া। একে 
আমরা ক করে ত্যাগ করব? আপ বরং শাপানলে আমাকে 
ভস্মীভূত করে ফেলুন, পাণ্চালনকে নিচ্কাতি দিন। 

জহলজ্জট বললেন, অহো কি মৃর্খ! তুম পুড়ে মরলে 
পাণ্চালী সহমৃতা হবে, অনর্থক নারীহত্যার 'নামত্তরুপে আমিও 
পাপগ্রস্ত হব। পাণ্ালীকেই চাই। 

ভম করজোড়ে বললেন, তপোধন, আমি একটি নিবেদন 
করছি, শুনতে আজ্ঞা হক। আপাঁন জ্যেন্ঠা পান্ডববধ্‌ শ্রীমতাঁ 

৫১ 


কৃষ্ণকলি 


'হিড়িম্বাকে গ্রহণ করুন, পান্খালীর প্‌বেহই তাঁর সঙ্গে আমার 
বিবাহ হয়োছিল। 

জবলঙজ্জট বললেন, তুমি অতি ধষ্ট দুষ্ট প্রতারক, একটা 
রাক্ষসীকে আমার স্কন্ধে ন্যস্ত করতে চাও! 

ভীম বললেন, প্রভূ, হাঁড়িম্বা রাক্ষস হলেও যখন মানবীর 
রূপ ধরেন তখন তাঁকে ভালই দেখায়। তাঁকে যাঁদ যথেষ্ট মনে 
না করেন তবে আমাদের আরও আটজন আঁতারন্ত পত্রী আছেন, 
সব কাঁটকে নিয়ে পাঞ্চালীকে মুক্ত দিন। আমার ভ্রাতারা 
শনশ্চয় এতে সম্মত হবেন। 

নকুল সহদেব সমস্বরে বললেন, নিশ্চয়, নিশ্চয় । 

জহলজ্জট বললেন, তোমাদেব অপব পত্ষীরা এখানে নেই, 
অনুপাঁস্থত বস্তু দান করা যায় না। আম এই মুহূর্তেই পত্বণ 
চাই, পাণ্খালনকেই চাই। 

অজর্ন বললেন, প্রভূ, ধর্মরাজ আর পাণ্চালীকে নিচ্কৃতি 
দন, আমাদের চার ভ্রাতাকে ভস্ম কবে আপাতত আপনার ক্রোধ 
উপশাল্ত করুন। এর পর অবসর মত একটি খাঁষকন্যার পাঁণ- 
গ্রহণ করবেন। 

জবলজ্জট বললেন, তোমরা সকলেই মূর্খ তথাপি তোমাদের 
আগ্রহ দেখে আমি কিপিৎ প্রীত হয়েছি। তোমাদের ভস্ম 
করে আমার কোনও লাভ হবে না। আম পত্ী চাই, যে আমার 
সেবা করবে। যাঁদ নিতান্তই দ্ৌপদীকে ছাড়তে না চাও তবে 


৭ 


পঞ্টাপ্রয়া পান্থালী 


তাঁর নিক্রয়স্বর্প তোমরা পণ্ভ্রাতা আজীবন আমার দাসত্বে 
'নিষুক্ত থাক। 

য্ধান্ঠির বললেন, মহার্ষ, তাই হক, আমরা আজীবন দাস 
হয়ে আপনার সেবা করব । 

ধোঁম্য বললেন, মাীনবর, কাজটা ক ভাল হবে? তার চেয়ে 
বরং পণ্চগব্যভক্ষণ চান্দ্রায়ণ ইত্যাদি প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা করুন। 
অর্থ তো এদের এখন নেই, ্রয়োদশ বর্ষের অন্তে রাজ্যোদ্ধারের 
পর যত চাইবেন এরা দেবেন। 

জহলজ্জট প্রচণ্ড গঞ্জন করে বললেন, তৃমি কে হে বিপ্র, 
আমাদের কথার উপর কথা কইতে এসেছ? ওরে কে আছিস, 
একটা দীর্ঘ রজ্জু নিয়ে আয়। 

যাঁধা্ঠির বললেন, প্রভূ, রঙ্জুর প্রয়োজন নেই, আমাদের 
উত্তরীয় দিয়েই বন্ধন করুন। 

জহলজ্জট ষুধাচ্ঠরাঁদ প্রত্যেকের কটিদেশে উত্তরীয়ের এক 
প্রান্ত বাঁধলেন এবং অপর প্রান্তের গুচ্ছ ধারণ কবে পাণ্ডবাশ্রম 
থেকে নিক্কান্ত হলেন। দ্রৌপদী আর্তনাদ করে সংজ্ঞাহীন 
হয়ে পড়ে গেলেন। ধৌম্যাঁদ বিপ্রগণ স্তাম্ভত ও হতবাক হয়ে 
রইলেন। 


তনালাভের পর দ্রৌপদী দেখলেন তানি তাঁর কক্ষে 
সেবল্তীর ক্রোড়ে মস্তক রেখে শুয়ে আছেন, কৃষ্ণ তাঁকে 
তালবৃল্ত দিয়ে বীজন করছেন । 

৭৩ 


কৃষ্কলি 


দ্রৌপদী বললেন, হা পণ্ট আর্ধ পত্র, কোথায় আছ তোমরা ? 

কৃ বললেন, কৃষ্ণ, আম্ব্ত হও । পণ্চপান্ডব নিরাপদে 
আছেন, তাঁরা অম্বথতরুতলে উপবিষ্ট হয়ে পাপনাশের জন্য 
অঘমর্ধণ মন্ত্র জপ করছেন। তুমি একটু সুস্থ হলেই তোমাকে 
তাঁদের কাছে নিয়ে ষাব। 

-সেই ভয়ংকর খাঁষ কোথায় 2 

--আর ভয় নেই। তান পণ্চপান্ডবকে পশুর ন্যায় বন্ধন 
করে 'নয়ে যাচ্ছিলেন, দৈবক্রমে পথে আমার সঙ্গে দেখা হল। 
আম তাঁকে বললাম, তপোধন, করেছেন কিট এরা অকর্মণ্য 
বিলাসী ক্ষত্রিয় আপনার কোনও কাজ করতে পারবেন না, 
অনর্থক অন্ন ধংস করবেন। তিনি বললেন, তবে এদের চাই 
না, পাণ্ডজালশকেই এনে দাও। আমি উত্তর দিলাম, পাণ্টালশ 
আরও অকর্মণ্যা, আরও 'বিলাসনী, শুধ; নিজের প্রসাধন 
করতে জানেন। আম ফিরে গিয়ে আপনাকে একাঁটি কাম্তা 
ব্জনার পাঠিয়ে দেব। আপাতত আপান পাণ্ালীর 'নক্কয়- 
স্বরুপ এই সবৎসা ধেন নিন, দধি দুগ্ধ ঘৃতাঁদি খেয়ে বাঁচবেন । 
আমার মাতুল রাজার্ষ রোহিত এট আমাকে উপহার দিয়েছেন? 
জবহলজ্জট মুন তাতেই সম্মত হয়ে তোমার পাঁতদের মনান্ত 
দিলেন। 

দ্রৌপদী বললেন, ধন্য সেই ধেন্‌ যার মূল্য পান্ডবম হিষীর 
সমান। কিন্তু খাঁষপত্রীহত্যার পাপ থেকে পাণ্ডবগণ মুন্ডি 
পাবেন কি করে? 


58 


পণ্চপ্রিয়া পাণ্চাল 


কৃষ্ণ সহাস্যে বললেন, খাঁষপত্রীহত্যা হয় 'নি। অপ্সরা 
পণ্চড়া ঠিক তাঁর পত্বী নন, সেবাদাসশী বলা যেতে পারে । বরাহ্‌ 
তাঁকে ঈষৎ দন্তাঘাত করৌছল, তানি ভয়ে চিৎকার করে আশ্রমে 
পালিয়ে গিয়ে মুছিতি হয়েছিলেন। জবলজ্জট তাঁকে দেখে 
ভেবোছিলেন বাঁঝ মরে গেছেন। পাণ্ডবদের মুন্তিলাভের পর 
আম খাঁষর সঙ্গে তাঁর আশ্রমে ?গয়ে দেখলাম পণ্ুচড়া দোলনায় 
দুলছেন। 

দৌপদন বললেন, কৃষ্ণ, এখনই আমাকে পাতিগণের সকাশে 
নিয়ে চল। হা, আম অপরাধিনী, এক মাস তাঁদের উপেক্ষা 
করোছি, এখন কোন্‌ বাক্যে ক্ষমাভিক্ষা করব 2 

--পাণ্সালী, ক্ষমা চেয়ে অনর্থক তাঁদের বিব্রত কারো না, 
তাঁরা তো তোমার উপর অগ্রসন্ন হন 'নি। বহুদিন পরে তোমার 
সম্ভাষণ শোনবার জন্য তাঁরা তৃঁষিত চাতকের ন্যায় উদশ্রীব 
হয়ে অপেক্ষা করছেন। 

--গোবিন্দ, আম তাঁদের কি বলব ১ 

--পুর্ষজাতি ভার্ধার মুখে নিজের স্তুতি শুনলে যেমন 
পরিতৃপ্ত হয় তেমন আর কিছুতে হয় না। কৃষ্ণা, তুমি পণ্টি- 
পাণ্ডবের কাছে গিয়ে তাঁদের স্তুতি কর। 

--হা কৃষ্ণ আঁম তাঁদের গঞ্জনাই দিয়োছ, এই দগ্ধ মুখে 
স্তুতি আসবে কেন? কি বলব তুমিই শাখয়ে দাও। 

--সখা কৃষ্ণা, বাগ্‌দেবী তোমার রসনায় আঁধন্ঠান করবেন, 
তুমি আজ সর্বসমক্ষে অসংকোচে তাঁদের সংবর্ধনা কর। এখন 


৭৫ 


কৃষকলি 


আমার সঙ্গে পাঁতপন্দর্শনে চল। সেবল্তন, মাল্য প্রস্তুত 
হয়েছে? 

সেবন্তীঁ একটা ঝাড় দোখয়ে বললে, এই যে। অন্য ফুল 
পাওয়া গেল না, শুধু কদম ফুলের মালা। 

কৃষ্ণ বললেন, ওতেই হবে। 


ম্যাদ দ্বজগণে বেস্টিত হয়ে পণুপাণ্ডব অশ্ব” 

ণধ তরুমূলে উপ্পাবস্ট ছিলেন, তাঁদের মন্ত্রজপ সমাপ্ত 
হয়েছে। কৃষ্ণ সাহত দ্রৌপদীকে আসতে দেখে সকলে গান্রোথান 
করলেন। 

পণ্ঠপাণ্ডবের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দ্রৌপদী কৃতাঞ্জাল- 
পুটে পাষাণপ্রাতিমার ন্যায় নিস্পন্দ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। 

কৃষ্ণ বললেন, পাণ্খালী, তোমার মৌন ভঙ্ঞা কর। 

পাণ্থালী গদগদ কণ্ঠে বলতে লাগলেন ।-দেবসম্ডব পণ্ 
আর্ধপন্র, পতিমাহিমায় অভিভূত হয়ে আমি সম্ভাষণ করছি, 
ষা মনে আসছে তাই বলাছ, আমার প্রগল্ভতা ক্ষমা কর। 
পিতৃভবনে স্বয়ংবরসভায় ধনপ্জয়কে দেখে আম মৃধ্ধ হয়েছিলাম, 
ইনি লক্ষ্ভেদ করলে আনন্দে বিবশ হয়োছিলাম, একেই পাঁতি- 
রূপে পাব ভেবে নিজেকে শতধন্য জ্ঞান করেছিলাম । কিন্তু 
বিধাতা আর গুরুজনরা আমার ইচ্ছা-আনিচ্ছার অপেক্ষা রাখেন 
নি, পণ্ভ্রাতার সঙ্গেই আমার বিবাহ দিলেন। অন্তযযামণ 
সাক্ষী, কিছুকাল পরেই আমার সকল ক্ষোভ দূর হল, পণ্টপাঁতি 


৪৬ 


পণ্টপ্রয়া পাণ্চালী 


আমার অন্তরে একীভূত হয়ে গেলেন। পণ্েেন্দ্িয়ের অনুভূতি 
যেমন পৃথক পৃথক এবং একযোগে অন্তঃকরণ বাঁঞ্জত করে 
সেইরূপ পণ্থপাঁত স্বতন্ত্র ও মিলিত ভাবে আমার হৃদয় 
উদ-ভাগসিত করেছেন। 

পাণ্ডবাগ্রজ, ইন্দ্প্রস্থে যখন পট্রমাহষী ছিলাম, তখন বসন- 
ভূষণে ও প্রসাধনে আম প্রচুর অর্থব্যয় করেছি, প্রয়জনকে মৃত্ত- 
হস্তে দান করোছি। যখন যা চেয়োছ তুমি তখনই তা দিয়েছ, 
প্রশ্ন কর নি, অপব্যয়ের জন্য অনুযোগ কর নি। দাসদাসীদের 
আমি শাসন করোছ, তোমার "প্রয় পঁরিচারকগণ আমার 
কণ্তোরতার জন্য তোমার কাছে আভিযোগ করেছে, কিন্তু তুমি 
কর্ণপাত কর নি, পাছে পাণ্ডবমাহিষীর মর্ষাদা ক্ষুপ্ন হয়। তুমি 
শান্তাপ্রয় ক্ষমাশীল ধর্মভীরু, তোমার ধর্মীধর্মের বিচারপদ্ধাঁত 
না বুঝে আম বহু ভর্খসনা করোছি, তথ্থাঁপ এই আপ্রয়বাদিন?র 
প্রতি ক্রুদ্ধ হও নি। অজাতশন্রু মহামনা ধর্মরাজ, তোমার 
মহত্ব বোঝবার শন্তি ক জনের আছে? 

মধ্যম পাণ্ডব, তুমি জরাসন্ধাঁবজয়ী মহাবল, দুঃসাধ্য কর্মই 
তোমার যোগ্য, কিন্তু আম ক্ষুদ্র বৃহৎ নানা কর্মে তোমাকে 
নিযুক্ত করেছি, আমার প্রাত প্রীতবশে তুম যেন ধন্য হয়ে সে 
সকল সম্পাদন করেছ। তুমি ভোজনাবলাসী, রন্ধন বিদ্যায় 
পারদশর্ণ।  ইন্ড্ুপ্রস্থে বহুসংখ্যক নিপূণ সকার তোমার 
তৃপ্তিবিধান করত, কিন্তু এই অরণ্যাবাসে আম যে সামান্য 
ভোজ্য এক পাকে রন্ধন করে তোমাকে 'দয়ে থাক তাতেই তুমি 


৭০ 


কষকলি 


তুষ্ট হও, কখনও অনুযোগ কর না যে বিস্বাদ বা আতিলবণ বা 
উনলবণ হয়েছে । নরশার্দল, তোমাদের সকলের চেষ্টায় 
রাজ্যোদ্ধার হবে, কিন্তু আমার লাঞ্ছনার যোগ্য প্রাতশোধ একমান্ন 
তুমিই নিতে পারবে। দুর্োধন আর দুঃশাসনকে তাদের 
আঁন্তম দশায় মনে করিয়ে দিও যে পান্ডবমহিষীকে নিধণতন 
করে কেউ নিস্তার পায় না। 

তৃতীয় পাণ্ডব, তুমি বয়োজ্যেন্ঠ নও তথাপি তোমার ভ্রাতারা 
যুদ্ধকালে তোমারই নেতৃত্ব মেনে থাকেন। তুমি দেবাপ্রয় সর্ব- 
গুণাকর, আদ্বতীয় ধনূর্ধর, দেবসেনাপাঁতি স্কন্দতুল্য রূপবান, 
নৃত্যগীতাদি কলায় পটু, হ্‌ষীঁকেশ কৃষক তোমার আভন্বহৃদয় 
সখা। যখন সূভদ্রাকে বিবাহ করে ইন্দ্প্রস্থের রাজপুবীতে 
এনেছিলে তখন আম ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। কিন্তু সত্য বলাছ, 
এখন আমার কোনও দুঃখ নেই। যে নারী পণ্পাঁতির ভার্যা 
সে কোন্‌ আধকারে সপত্তীকে ঈর্ষা করবে? স্দভদ্রা আমার 
প্রিয়তমা ভাগনী, দ্বারকায় তাব কাছে আমার পণ্চপূত্রকে রেখে 
নিশ্চিন্ত আছি। পরন্তপ মহারথ, কুবুপান্ডবসমরে তুমিই 
পাণ্ডবসেনাপাঁতি হবে, বাস্‌দেবের সহায়তায় বিপক্ষের সকল 
বীবকেই তুমি পবাস্ত করবে। কুর্াপতামহ ভম্ম আমার 
মহাগুরু, তোমাদের আচার্য দ্রোণ আমার নমস্য, কিন্তু দ্যুত- 
সভায় তাঁরা রাজকলবধূকে রক্ষা করেন নি, বীরের কর্তব্য পালন 
কবেন নি, কাপুরুষবৎ নিশ্চেষ্ট ছিলেন । সব্যসাচট, সম্মুখ সমরে 
মর্মভেদী শরাঘাতে তাঁদের সেই কর্তব্যচ্যাতি স্মরণ করিয়ে দিও। 


৭৮ 


পণ্টাপ্রয়া পাণ্থালী 


চতুর্থ পাণ্ডব, তুমি সুকুমারদর্শন 'বিলাসাপ্রয়, কিন্তু যুদ্ধে 
দূর্ধর্য। ইন্দ্প্রস্থে তম বাচন্র পারচ্ছদ এবং বহু রঙ্কালংকার 
ধারণ করতে, কিন্তু এখানে আমাকে অজ্পভূষণা দেখে তুমিও 
নরাভরণ হয়েছ, গন্ধমাল্যাদি বর্জন করেছ । তোমার সমবেদনায় 
আমি মুগ্ধ হয়েছি। রাজসয় যজ্ছের পূর্বে তুমি দশার্ণ ভ্রিগর্ত 
পঞ্চনদ প্রভাতি বহু দেশ জয় করোছলে। আগামী সমরেও 
তুম জয়লাভ করে ষশস্বী হবে। 

কাঁনজ্ঠ পাণ্ডব, তুমি আমার পাতি ও দেবর, প্রেম ও স্নেহের 
পান্র, বিশেষভাবে স্নেহেরই পান্র। বনযান্রাকালে আর্ধা কুন্তী 
আমাকে বলোছিলেন, পাণ্চালী, আমার পূত্র সহদেবকে দেখো, 
সেযেন বিপদে অবসন্ন নাহয়। নিভাঁক আঁরন্দম, তুমি অবসন্ন 
হও ন, যুদ্ধের জন্য অধীর হয়ে আছ । পূর্বে তুমি মাহজ্মতী- 
রাজ দুর্মাতি নীলকে এবং কালমুখ নামক নররাক্ষসগণকে 
পরাস্ত করোঁছলে। দুরাত্মা কৌরবগণের সাঁহত যুদ্ধেও তুমি 
নশ্চয় বিজয়ী হবে। 

হে দেবপ্রাতিম মহাপ্রাণ পণ্টপাঁত, দেববন্দনাকালে দেবতার 
দোষকীর্তন কেউ করে না, তোমাদের দোষের কথাও এখন আমার 
মনে নেই। আজ আমার জন্য তোমরা জীবন দিতে উদ্যত 
হয়োছলে, দাসত্ব বরণ করোছিলে। কোন্‌ নারী আমার তুল্য 
পাতীপ্রয়া ঃ পাঁতিনির্বাসিতা সীতা নয়, পাতিপারত্যন্তা দময়ল্তও 
নয়। তোমরা অপর পত্নীদের পিশ্রালয়ে রেখে কেবল আমাকে 
সঙ্গে নিয়ে দশর্ঘ ব্রয়োদশ বংসর যাপন করতে এসেছ, এক দুই 


৭৯১ 


কৃষকলি 


বাতিন অখন্ড পড়ীর পাঁরবর্ভে আমার পঞ্মাংশেই তুষ্ট আছ । 
কোন স্ী আমার ন্যায় গৌরবিণী £ কোন পাতি তোমাদের 
ন্যায় সংঘমশ 2 বহুবর্ষপূর্বে পিতৃগূহে িবাহমণ্ডপে একই 
[দিনে তোমাদের কণ্ঠে একে একে মাল্য দিয়েছিলাম, আজ এই 
অরগ্যভূমিতে মুন্তাকাশতলে একই ক্ষণে পুনর্বার দিচ্ছি। 
মহান্ভাব পণ্চপতি, প্রসন্ন হও, স্নিগ্ধনয়নে আমাকে দেখ । 
পাণ্ডালশী পণ্ুপান্ডবের কণ্ঠে মালা দিলেন, সেবল্তী শওখ- 
ধান করলে, বিপ্রগণ সাধু সাধু বললেন, কৃষ্ণ আনন্দে করতালি 
গদিলেন। তার পর দ্রৌপদীর মস্তকে করপল্পব বেখে হাঁধান্ঠর 
বললেন, পাঞ্থালী, তোমাকে অতিশয় ক্লান্ত ও অবসন্নপ্রায় 
দেখাঁছ, এখন স্বগৃহে বিশ্রাম করবে চল। 
যুধিষ্ঠির ও দ্রৌপদী প্রস্থান করলেন। কৃষ্ণকে অন্তরালে 
শনয়ে গিয়ে অন বললেন, মাধব, জহলজ্জট খাঁষাঁটিকে পেলে 
কোথায়? তাঁর আঁভনয় উত্তম হয়েছে, কিন্তু হাস্যদমনেব জন্য 
তিনি বিকট মুখভঙ্গী কবাঁছলেন। ভাগ্যক্রমে ধর্মরাজ পাঞ্খালী 
ও আর সকলে তা লক্ষ্য কবেন নি। 
ভশম বললেন, ওহে কৃষ, একবার এঁদকে এস তো । পাণ্সালী 
বোধ হয় আর কখনও আমাদের গঞ্জনা দেবেন না, কি বল? 
কৃষ্ণ বললেন, মাঝে মাঝে দেবেন বই কি, ওঁর বাকশন্তির 
তো কিছুমান হানি হয় 'ন। 


১৩৬০ 
৮০ 


নিকষিত হেম 


দি নাকী সর্বজ্ঞ বললেন, গ্লেটনিক লভ কি রকম জান ? 
দুট হৃদয়ের পর্পর নিবিড় প্রীতি, তাতে স্থল 
সম্পর্ক কিছমান্ত নেই। চণ্ডীদাস যেমন বলেছেন --রজকিনী- 
প্রেম নিকষিত হেম কামগন্ধ নাহ তায়। 

িনাকীবাবু বয়সে বড় সেজন্য আন্ডার সকলেই তাঁকে 
খাতির করে। কিন্তু উপেন দত্ত তাকিকি লোক, পিনাকীর 
সবজান্তা ভাব সইতে পারে না। বললে, আচ্ছা সর্বজ্ঞ মশায়, 
দুই বন্ধুর মধ্যে যদ নিবিড় প্রণীত থাকে তবে তকে প্লেটানক 
বলবেন? 

পিনাকীবাবু বললেন, তা কেন বলব, লম্পর্কাট স্তী- 
পুরুষের মধ্যে হওয়া চাই। 

--ও, তাই বলুন। এই যেমন নাতি আর ঠাকুমা, নাতনা 
আর ঠাকুদ্দা, গিপসী আর ভাইপো । এদের মধ্যে যাঁদ গভার 
ভালবাসা থাকে তাকে প্লেটনিক বলবেন তো? 

--আঃ তুমি কেবল বাজে তর্ককর। বুঝিয়ে দিচ্ছি শোন। 
মনে কর একটি পুরুষ আর একটি নারী আছে, তাদের মধ্যে 
বৈধ বা অবৈধ মিলন হতে বিশেষ কোনও বাধা নেই। তবু 
তারা কেবল হদয়ের প্রণীতিতেই তুম্ট। এই হল স্লেটনিক প্রেম ॥ 


৬ ৮৯ 


কৃষ্কালি 


--আচ্ছা। ধরুন ত্রিশ বছরের সুপুরুষ গুরু, আর বিশ 
বছরের সুজ্ী শিষ্যা। এমন ক্ষেত্রে মামূলী প্রেম আকছার হয়ে 
থাকে। কিন্তু মনে করুন গুরু খুব কদাকার, অথচ তার সুশ্রী 
স্ঘী আছে। শিষ্যাও খুব কুৎীসত, তারও সনৃশ্রী স্বামী আছে। 
গুরু আর শিষ্যার মধ্যে মামূলী প্রেম হল না, কিন্তু ভক্তি 
আর স্নেহ খুব হল। একে প্লেটানক বলবেন তো? 

পনাকী সর্বজ্ঞ রেগে গিয়ে বললেন, যাও, তোমার সঙ্গে 
কথা কইতে চাই না। বিষয়টি তাঁলয়ে বোঝবার ইচ্ছে নেই, 
শুধু জেঠামি। 

মাথা চুলকে উপেন দত্ত বললে, আজ্ছে না, আম শুধু 
একটা ভাল ডেফিনিশন খুজছি । 

লালত সাশ্ডেল বললে, ওহে উপেন, আম খুব সোজা 
করে বলছি শোন। গ্লেটনিক প্রেম মানে আলগোছে প্রেম, 
যেমন শ্রীকান্ত-রাজলক্ষমীর সম্পর্ক। আচ্ছা যতীশ-দা, তুমি 
তো একজন মস্ত সাহিত্যিক, খুব পড়াশুনোও করেছণ তুমিই 
বুঝিয়ে দাও না প্লেটানক প্রেম জানিসাটি কি 2 

যতীশ 'মাত্তর বললে, সব জিনিস কি বোঝানো যায়? 
যেমন বহন, তিনি তো বাক্য আর মনের অগোচর। ধর্ম 
পৌন্দ্য, রসদ, আর্ট--এসবও স্পম্ট কবে বোঝানো যায় না। 
লাল রং 'মান্ট স্বাদ, আঁষটে গন্ধ--এসবও আনর্বচনীয়, 
বুঝিয়ে বলা অসম্ভব, শুধু দম্টান্ত দেওয়া চলে। প্রেমও 
সেই রকম। 


৮৯ 


গনকাঁষফত হেম 


উপেন বললে, বেশ তো, দ্টাল্ত 'দয়েই প্লেটনিক প্রেম 
বাঁঝয়ে দাও না। 

গপনাকী সব্জি বললেন, দম্টাল্ত তো পড়েই রয়েছে,-- 
রামী-চণ্ডীদাস। 

যতশশ বললে, সে কেবল চণ্ডদাসের নিজের উীস্ত, 
সম্পকর্টা বাস্তাবক কেমন ছিল তার কোনও সাক্ষণ প্রমাণ 
নেই। আচ্ছা, আমি বিষয়াট একট পাঁরজ্কার করবার চেস্টা 
করছি।---প্রেম বা লভ যাই বলা হক, তার অর্থ আঁতি ব্যাপক 
আর অস্পস্ট। আমরা বলে থাঁক--ঈশ্বরপ্রেম, বিম্বপ্রেম, 
দেশপ্রেম, পতীপ্রেম, বন্ধূপ্রেম। পণ্ডিতদের মতে বেগ্‌ন 
টমাটো আল লংকা ধূতরো একই শ্রেণীতে পড়ে, এদের ফুল- 
ফলের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মিল আছে, যাঁদও গুণ আলাদা । তেমনি 
ভক্তি শ্রদ্ধা প্রেম ভালবাসা স্নেহ সবই এক জাতের । তবে 
প্রেম বললে সাধারণত নরনারীর আঁদম আসতগপ্রবৃত্তই 
বোঝায়। ভভ্তি-শ্রদ্ধা যাঁদ বেগ্ুন-টমাটো হয়, স্নেহ যাঁদ 
আলু হয়, তবে প্রেমকে বলা যেতে পারে লংকা। স্লেটনিক 
লভ বা রজাঁকনীপ্রেম তারই একটা রকম ফের, যেমন 
পাহাড়ী রাক্ষুসে লংকা, ঝাল নেই, শুধয লংকার একটু 
গন্ধ আছে। 

ললিত বললে, বুঝেছি। একটু আঁষটে গন্ধ না থাকলে 
যেমন কাঙালী ভোজন বা বাঙাল ভোজন হয় না, তেমাঁন 
একট; কামগন্ধ না থাকলে মামুলী বা গ্লেটনিক কোনও প্রেমই 


৮৩ 


কৃষকলি 


হবার জো নেই। চণ্ডীদাসের নিকষিত হেম খাঁটী সোনা নয়, 
অন্তত এক আনা খাদ আছে। 

যতশ বললে, তোমার কথা হয়তো ঠিক, একটু 'লি"্সা 
না থাকলে প্রেমের উৎপাত্ত হয় না। এর বিচার মনোবিদ:গ্ণ 
করবেন, আমার পক্ষে কিছু বলা অনাঁধকাবচর্চা। আঁ 
একটি অন্ভুত ইতিহাস জানি। ঘটনাটি আরম্ভ হয় মামূলী 
প্রেম রূপে, িল্তু দৈবদবীর্বপাকে তা প্লেটানক পাঁরণাতি পায় 
এবং কিছুকাল থমথমে, হয়ে থাকে । পাঁরশেষে ব্যাপারটা এমন 
স্ত্রী রকম জটিল হয়ে পড়ে যে গ্লেটো বা চন্ডীদাসেব পক্ষেও 
তা আনবর্চনীয়। তবে ফ্য়েড-শিষ্যদেব অসাধ্য কিছু নেই, 
তাঁরা নিশ্চয় বিশ্লেষণ কবে একটি ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। 

উপেন বললে, ব্যাখ্যা শুনতে চাই না, তুমি ইতিহাসাটি বল 
যতীশ-দা। 

যতাঁশ মীত্তর বলতে লাগল।-- 





খিল শীলকে তোমাদেব মনে আছে* বছব সাত-আট 
আগে দু-একবার আমার সঙ্গে এই আড্ডায় এসেছিল । 
সে আর আমি একসঙ্গে পড়তুম। আম বি.এল. পাস করে 
উকিল হল, সে এম. এ. পাস করে কর্পোরেশনে একটা চাকাঁবি 
যোগাড় করলে। কলেজে তার দু ক্লাস নীচে পড়ত নিরঞ্জনা 
তল্গাপা্। মেয়েটি সুন্দরী না হক, দেখতে মন্দ ছিল না, 
৮৪ 


নকষিত হেম 


টেনিস ভাঁলবল খেলায় নাম করোছল, স্বাস্থও খুব ভাল 
ছল । 

একাঁদন অখিল আমাকে বললে, সে 'নিরঞ্জনার সঙ্গে প্রেমে 
পড়েছে, বিয়ে করতে চায়। কিন্তু আঁখলের বিধবা মা ব্লাহমণ 
পৃতবধ্‌ থরে আনতে বাজী নন। নিরঞ্জনার বাপ সবেশ্বির 
তলাপান্রেরও ঘোর আপত্তি, তান বলেছেন, ব্লাহ্রণ কন্যার 
সঙ্গে যেনে বরের বিবাহ হলে তাদের সল্তান হবে চণ্ডাল, শাস্ে 
এই কথা আছে। 

আমি আখলকে বললমম, এক্ষেত্রে সনাতন উপায় ধা আছে 
তাই অবলম্বন কর। নিরঞ্জনা কান্নাকাটি করুক, খাওয়া কাঁময়ে 
দিক, যথাসম্ভব রোগা হয়ে যাক। তুমিও বাঁড়তে মূখ হাঁড়ি 
কবে থেকো, চুল রুক্ষ করে রেখো, নামমাত্র খেয়ো, বাকাটা 
রেস্তোরাঁয় পৃষিয়ে নিও। ওরা দুজনে আমাব প্রেসক্রিপশন 
মেনে নিলে, তাতে ফলও হল। আঁখলেব মা আর 'নিবঞ্জনাব 
বাপ-মা অগত্যা বাজী হলেন। স্থির হল দু মাস পরে বিবাহ 
হবে। 

নিরঞ্জনা কলকাতায় তাব কাকার কাছে থেকে কলেজে 
পড়ত। তার বাপ সবে*্বিব তলাপান্্র বোম্বাই সবকারে বড় 
চাকার করতেন, মাঝে মাঝে কলকাতায় আসতেন। আসন্ন 
বিবাহের স্বগ্নে অখিল দিন কতক বেশ মশগুল হয়ে বইল। 
তার পব একাদন সে আমাকে বললে, দেখ যতাীশ, ক দিন থেকে 
নিরঞ্জনা কেমন যেন গম্ভীর হয়ে আছে, কারণ জানতে চাইলে 


1৪০৮ 


কৃষ্কাল 


কিছুই বলে না। আখিলকে আশ্বাস দেবার জন্যে আমি 
বললুম, ও কিছ নয়, বাপ-মাকে ছেড়ে যেতে হবে তার জন্যে 
বিয়ের আগে অনেক মেয়েরই একট? মন খারাপ হয়। 

তার পর একদিন সন্্যাবেলা অখিল হল্তদন্ত হয়ে আমার 
কাছে এসে বললে, ভাই, সর্বনাশ হতে বসেছে। সবেশ্বিববাব্‌ 
হঠাৎ কলকাতায় এসে নিরঞ্জনাকে বোম্বাইএ নিয়ে গেছেন। 
1নরঞ্জনার কাকার কাছে গিয়েছিলুম, তিনি গম্ভীর হয়ে আছেন, 
আঁম প্রশ্ন করলে কিছু জানালেন না, ভাল করে কথাই বললেন 
না। আম নিরঞ্জনাকে এইমান্র টেলিগ্রাম করোছ, চিন্তি লিখেও 
জানতে চেয়েছি--আমাকে কিছু না জানিয়ে তার হঠাৎ চলে 
যাবাব মানে কি, আর কারও সঙ্গে তার বিয়ে হবে নাকি? 

আঁখলকে আমি বললুম, ব্যস্ত হয়ো না, দু দিন সবর 
করে দেখ না নিরঞ্জনা কি উত্তর দেয়। চার-পাঁচ দিন পরে 
আখল এসে বললে, এই দেখ নিরঞ্রনার চি, তার মতলব তো 
কছুই বুঝতে পারাছ না। , 

'নিরঞ্জনা অখিলকে লিখেছে আমার সঙ্গে তোমার বিয়ে 
হতেই পারে না, আমাকে একবারে ভূলে যাও। এর কারণ এখন 
বলতে পারব না, শুধু এইটুকু জেনে রাখ যে অন্য কোনও 
পুরুষকে আমি বিয়ে করব না। তুমি আমাকে চিঠি লিখো না, 
বোম্বাইএ এসো না, আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে পারব না। 
যথাকালে সমস্তই জানতে পারবে। 

আঁখল পাগলের মতন হয়ে গেল। আম তাকে শান্ত 


৮৬ 


নিকাষিত হেম 


করবার চেষ্টা করলঃম, বললূম, ধৈর্য ধরে থাক, নিরঞ্জনা তো 
বলেছে যে সব কথা সে পরে জানাবে। কিন্তু আঁখিল ধৈর্য 
ধরবার লোক নয়, নিরঞ্জনাকে রোজ চিঠি লিখতে লাগল। 
চিঠির কোনও উত্তর এল না। অবশেষে সে বোম্বাইএ ছুটল। 
দশ দিন পরে ফিরে এনে আমাকে যা বললে তা এক অদ্ভূত 
ব্যাপার। 


সর্বেশবির তলাপান্র প্রথমটা আঁখলকে হাঁকয়ে দিয়েছিলেন, 
নিবঞ্জনার সঙ্গে দেখা করবার অনুমাতিও দেন নি। কিন্তু 
অখিলের কণ্ঠস্বর আর শোকোচ্ছবাস শুনতে পেয়ে নিবঞ্জনা 
দোতলা থেকে নেমে এসে বললে, বাবা, তুমি অন্য ঘরে যাও, 
যা বলবার আঁমই আখলকে বলব। বেচাবাকে অনর্থক যন্ত্রণা 
দিয়ে লাভ কি, সব খোলসা করে বলাই ভাল । 


এই 'ক নিরঞ্জনাঃ তাকে এখন চেনা শন্ত। মাথার চুল 
ছোট করে কেটেছে, পায়জামা আর পঞ্জাব পরেছে, লম্বায় ইণ্টি 
ছয়েক বেড়ে গেছে। তার কণ্ঠস্বর মোটা হয়েছে, গোঁফ 
বেরিয়েছে, বুক একদম ফ্ল্যাট হয়ে গেছে। আঁখিল অবাক হয়ে 
তাকে দেখতে লাগল। 


'নিবপ্রনা যে রহস্য প্রকাশ করলে তা এই ।--সে পুরুষে 
রূপান্তারত হচ্ছে। সন্দেহ অনেক দিন আগেই হয়েছিল, 
এখন সমস্ত লক্ষণ স্পম্ট হয়ে উঠেছে। ডান্তার কিলেস্কার 
তার চিকিংসা করছেন, হরেক রকম গ্ল্যা্ড খাওয়াচ্ছেন আর 

৮1৭ 


কৃষ্কলি 


হরমোন ইঞ্জেকশন দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, সম্পূর্ণ রুপান্তর 
হতে বড় জোর আরও ছ মাস লাগবে। 

আঁখল আকুল হয়ে বললে, না নিরজনা, তুমি পুরুষ হয়ো 
না, তা হলে আম মরব। ট্রিটমেন্ট বন্ধ করে দাও, বরং 
ডান্তারকে বল 'তাঁন এমন ব্যবস্থা করুন যাতে তোমার নারীত্ব 
রক্ষা পায়। 

ধনরঞ্জনা বললে, তা হবার জো নেই। আমি পুরুষ হয়েই 
জন্মেছি, এতাঁদন লক্ষণগুলো চাপা ছিল, এখন বশ প্রকাশ 
পাচ্ছে। যাঁদ চিকিৎসা বন্ধ কার তা হলেও আমার পরিবর্তন 
হতে থাকবে, শুধু দু-তিন বছর দৌর হবে। তার চাইতে 
চটপট পুরুষ হয়ে যাওয়াই ভাল! 

আঁখল কাঁদতে কাঁদতে বললে, আমার কি হবে 'নরঞ্জনা ? 
তুম না হয় পুরুষই হয়ে গেলে, তোমার ডান্তার ক আমাকে 
মেয়ে করে দিতে পারে না? তা হলেও তো আমাদের মিলন 
হতে পারবে। 

ধনরঞ্জনা বললে, পাগল হয়েছ? তুমি তো পরোপদুর 
পুরুষ হয়েই জন্মেছ, তার আর নড়চড় হতে পারে না। এই 
বইখানা দিচ্ছি, ফাউলার্স সেকস ফ্যাক্স পড়ে দেখো । 

আঁখিল বললে, তুমি মেয়েই হও আর পুরুষই হও, তোমার 
সঙ্গে আমার হৃদয়ের ষে সম্পর্ক তার পাঁরবর্তন হতে পারে না। 
আম তোমাকে ছাড়তে পারব না। 

[নরঞ্জনা বললে, মন খারাপ কারো না। তুমি আর আমি 


৮৮ 


নকাঁষত হেম 


যাতে একসঙ্গে থাকতে পারি তার ব্যবস্থা করব। বাবা বলেছেন 
আমার 'চাকৎসা শেষ হলেই আমাকে ইন্দোর ব্যাংকের 
সেকেটারির পোস্টে বাঁসয়ে দেবেন। বাবার খুব প্রাতপন্তি, 
আম জেদ করলে তোমাকেও সেখানে একটা ভাল কাজ দিতে 
পারবেন। তত দিন তুমি বোম্বাইএ আমাদের বাঁড়তেই 
থাকবে। 

আঁখল তার কলকাতার চাকারি ছেড়ে 'দিয়ে বোম্বাইএ ফিরে 
গিয়ে নিরঞ্জনার কাছেই রইল । সর্বেশ্বরবাব্‌ দয়াল লোক, 
আপাতত করলেন না। দ্রুপদ রাজার মেয়ে শিখণ্ডিনী যেমন 
পুরুষত্ব লাভ করে মহারথ িখণ্ডাঁ হয়েছিলেন, নিরঞ্জনাও 
তেমনি কয়েক মাস পরে পূর্ণপুবুষ মিস্টার নিরজন তলাপায় 
রূপে ইন্দোর ব্যাংকের সেকেটারি হল। সর্বে*বববাবৃব চেষ্টায় 
আঁখল শবলও সেই ব্যাংকের আ্যসিস্টান্ট সেক্রেটাঁর হল। 
দুজনে একসঙ্গেই বাস করতে লাগল। 


পিল সব ব্য দে গা তু কবজ 
চাও এরই নাম 'নিকাষিত হেম ? 

যতশ মি্তির বললে, আজ্ছে না। স্টেনলেস স্টল বলতে 
ধারও নেই। 

উপেন দত্ত বললে, তার পর কি হল? 

--তার পর সব ওলটপালট হয়ে গেল। একদিন নিরঞ্জন 


চি 


ককলি 


বললে, ওহে অখিল, এরকম একা একা ভাল লাগছে না, জগংটা 
বোদা বোদা ঠৈকছে। মা-বাবাও বিয়ের জন্যে তাড়া 'দিচ্ছেন। 
আমি বলি শোন।--শেঠ মুলুকচাঁদেব একজোড়া যমজ মেয়ে 
আছে, দেখেছ তো? তাদের মা বাঙালনী। খাসা মেয়ে দুটি। 
তুমি একটিকে আব আ'ম একটিকে বিষে কাব এস। শেঠজশীকে 
[জজ্ঞাসা করেছি, তিনি রাজী, মেষে দুটিরও আপীাঁত্ত নেই। 

বিয়ে হযে গেল, কিন্তু কিছীদন পরেই দুই বোনের 
চুলোচল ঝগড়া বাধল, যেন তারা দুই সাঁতিন। তাব ফলে 
দুই বন্ধূবও মনোমালিন্য হল। অখিল অন্য চাকার নিয়ে 
দিল্লি চলে গেল, নিরঞ্জন ইন্দোরেই রইল। এখন আর দুজনের 
মুখদর্শন নেই। 

উপেন দত্ত বললে, যাক, বাঁচা গেল। 


৯৩৬০ 


৯১০ 


বালখিল্যগণের উৎপত্তি 


রাগে আছে, বালাখল্য মুনিবা বুড়ো আঙুলের মতন লম্বা 
এবং সংখ্যায় ঘাট হাজার । তাঁদেব পিতাব নাম ক্তু, মাতার 
নাম ক্লিয়া। এই বৃত্তান্ত অসম্পূর্ণ, এতে কিছ ভুলও 

আছে। বাল খিল্যগণেব প্রকৃত ইতিহাস নিম্নে বিবৃত করাছ। 

পুরাকালে নৌমষারণ্যে বহ্‌ খাঁষর আশ্রম ছিল। ব্রহ্মার 
অন্যতম মানসপূত্র মহার্ ক্রতু তাঁর ভার্যা ক্রিয়ার সঙ্গে 
সেখানেই বাস করতেন। ব্লতু হলেন সপ্তাঁষগিণের ষষ্ঠ খাষ। 
একদিন বিকাল বেলা কুটীরেব দাওয়ায় বসে তান তাঁর পত্নীকে 
ব্যাকরণ শেখাচ্ছিলেন। ব্লতু বলছিলেন, 'প্রয়ে, এই জ্ব্ীপ্রত্যয়- 
প্রকরণ বড়ই কঠিন, তুমি উত্তমবৃপে কণ্ঠস্থ কর। মৎস্য শব্দে 
য-ফলা আছে, কিন্তু স্বীলিঙ্গে মংসী, য-ফলা হয় না। অনুরূপ 
মনুষ্য মনুষাঁ। ইন্দ্রের স্মী ইন্দ্রাণী, কিন্তু চন্দ্রের স্ত্রী চন্দ্া। 
অধ্বের স্ত্রী অম্বা, অথচ গর্দভেব স্দ্ী গর্দভী। 

সহ্া একটা গম্ভীব চাপা আওয়াজ শোনা গেল। মহার্ষ 
কলতু সাবস্ময়ে কান পেতে শুনলেন যেন কেউ কলসাঁব ভিতর 
থেকে কথা বলছে-আপান সব ভুল শেখাচ্ছেন। 

কুদ্ধ হয়ে ক্লতু বললেন, কে রে তুই, এতদূর আস্পর্ধা 
যে আমার ভুল ধারস! 


১১ 


কৃষধকলি 


আবার আওয়াজ হল -- ওসব সেকেলে ব্যাকরণ চছগবে না। 
স্বীলিঙ্গ একই পদ্ধাতিতে করতে হবে--মৎস্যী মন্যষ্যা ইন্দ্রী 
চন্দ্রী অম্বী গর্দভী, কিংবা মতাস্যনী মন্দীষ্যণী ইন্ড্রিণী 
চান্দ্িণশী অশ্বনী গর্দাভিনী। 

কুতু বললেন, কোথায় আছিস তুই, সম্মুখে আয়, লগুড়া- 
ঘাতে তোকে ব্যাকরণ শিক্ষা দেব। 

ধাঁষপত্ণী ক্রিয়া বললেন, স্বামী, অদৃশ্য মূখখের বাক্যে 
কর্ণপাত ক'বো না। ব্যাকবণেব পাঠ আজ স্থগিত থাকুক, 
সেদিন তুমি যে প্রত্যক্ষ দেবতাদের কথা বলছিলে তাই পুনর্বার 
শুনতে ইচ্ছা করি। 

ক্রতু বললেন, পরিয়ে, প্রাণধান কর। আকাশে তিন প্রত্যক্ষ 
দেখতা আছেন--সূর্ চন্দ্র ও মেঘরুপ পজন্যি। ভুতলেও 
তিন প্রত্যক্ষ দেবতা আছেন--গভধারিণী মাতা, জন্মদাতা 
শপতা, এবং বিদ্যাদাতা গুব্ু। এরাই সর্বাগ্রে উপান্য। আন 
বায়; বরুণ প্রভ়ীতির স্থান এদের নিম্নে। 

পুনর্বার আওয়াজ হল--সব ভুল। আকাশে বা ভূতলে 
প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষ কোনও দেবতা নেই, চন্দ্র সূর্য পন্য 
পিতা মাতা গুব; কেউ উপাস্য নয় । 

অত্যন্ত রুষ্ট হয়ে ক্লতু বললেন, ওরে পাষণ্ড পিশাচ, 
সাহস থাকে তো দৃষ্টিগোচর হয়ে তর্ক কর্‌, নতুবা রহনশাপে 
তোকে ধ্বংস করব। 

ধাষিপতা কিয়া কাতর হয়ে করজোড়ে বললেন, স্বামী, ও 

১৯ 


বালখিল্যগণের উৎপত্তি 


পিশাচ নয়, আমার গভন্থ পুত্রই কথা বলছে। অধোধ শিশুকে 
তুমি ক্ষমা কর। 

»-গ্রাভ্থ পুত্র না জ্যেন্ঠতাত! বোঁরয়ে আয় হতভাগা 
অকালকুম্মান্ড! 

'কিয়া তাঁর পুত্রের উদ্দেশে বললেন, বৎস, ক্ষান্ত হও, 
পৃজ্যপাদ পিতার বাকোর প্রাতবাদ ক'রো না। আগে ভূমিষ্ট হন, 
তোমার দন্তোদ্‌শগম হক, অন্নপ্রাশন চূড়াকরণ উপনয়ন প্রভাতি 
সংস্কার চুকে যাক, তার পর যাঁদ 'কছু জ্ঞাতব্য থাকে তবে 
পতাকে সবিনয়ে শ্রদ্ধাসহকারে 'জজ্ঞাসা করো। এখন 
মৌনাবলম্বন কর, গভ্থ অপোগন্ডের পক্ষে বাচালতা অত্যন্ত 
আনম্টকব। 

মহার্ঘ ক্রতুব অজাত অপত্য নীরব হল। অধ্যাপনাক 
ব্যাঘাত হওয়ায় ক্লতু উঠে পড়ে সন্ধ্যাবন্দনা করতে গেলেন। 


6 মশ্বারণ্যের একদিকে গোমতাঁ নদী । জ্যৈষ্ঠ মাসের 
শুরু পক্ষে ষষ্ঠী তিখিতে সেখানে দেশ বিদেশ থেকে 
গভিপ নারীরা সমাগত হন এবং সংপভ্রকামনায় পুণ্যতোয়া 
গোমতীতে স্নান করে ষণ্মাতৃকা অর্থাৎ ষজ্ঠীদেবীর আরাধনা 
করেন। এবারে এই শুভাতিথিতে পদুষ্যা নক্ষত্র ও বৃদ্ধিষোগ 
পড়েছে, সেজন্য অসংখ্য নাবী গোমতঈতদবে সমবেত হয়েছেন। 
কুতুব পত্রী ক্রিয়া তাঁদের নেন্রীস্থানীয়া, তিনি সকলকে ব্রুত- 
পালনের পদ্ধাত বুঝিয়ে দিচ্ছলেন। 


৯৩ 


দু 


কৃষক 


সহসা তাঁর গর্ভস্থ পুত্রের গুর্গম্ভীর স্বর শোনা গেল -- 
ভো অজাত অপোগণ্ডগণ, শ্রুয়তাম। 

তণ্ডুলভাণ্ডবাসী মৃষকশাবকের ন্যায় কিচকিচকণ্ঠে সহস্র 
সহন্্র ভ্রুণ উত্তর দিলে --হাঁ হাঁ আমরা শুনাছি। 

--বিশ্বের অপোগণ্ড এক হও। 

--এক হব। 

--সকলে আরাব উত্তোলন কর- প্রত্যক্ষ বা অগ্রত্যক্ষ 
কোনও দেবতা মানব না। 

--মানব না। 

পিতা মাতা গুরু কারও শাসন মানব না। 

--মানব না। 


"গুরুকে আর ডরাব না, গুরুর গরু চরাব না। গুরু- 
কুলে নাহ রব, না পড়ে পণ্ডিত হব। 

--না পড়ে পণ্ডিত হব। 

--তবে কাকে মানবে, কার আজ্ঞায় চলবে ? 

»-তাই তো, কাকে মানব ? 

--আদবিদ্রোহশ মহান ভ্িশঙ্কুকে, যান উধর্তপাদ অধঃ- 
শিরা হয়ে রাশিচক্রের বাঁহর্দেশে বিদ্যমান রয়েছেন। 

-মহান্‌ ্িশড্কু বিদ্যতাম্‌, অন্য গর; ঘ্রিরতাম:! 

--প্রিশঙকুর জন্য ষিনি আকাশে নূতন স্বর্গলোক সৃস্টি 
করেছেন সেই বশিষ্ঠশন্রু 'বিশ্বামন্রকেও ধন্যবাদ দাও। 

১৪ 


বালাখলাগদের উৎপত্তি 


-াব্বামন ধন্যবাদ, বাঁশজ্ঠাঁদ বনন্দাবাদ! 


--দ্রাতৃগণ, এই বারে গর্ভকারা থেকে যোঁরয়ে এস, স্বাধীন 
হও, বসুন্ধরা ভোগ কর। 

--কিন্তু এখন যে পাঁচ মাসও পূর্ণ হয় নি! 

--তর্ক ক'রো না, ভ্িশখ্কুব আজ্ঞা, ভূমিষ্ঠ হও । 

--আমাদের পালন করবে কে, খেতে দেবে কে ? 

--তর্ক করো না, তোমাদের স্নেহামন্ধ মূর্খ িতামাতাই 
পালন করবে। নিক্কান্ত হও। 

ষাট হাজার গা্ভণন আর্তনাদ করে উঠলেন, ষাট হাজার 
ভ্রুণ গভণ্যুত হল। বহু প্রসৃতি প্রাণত্যাগ করলেন। 

আর্তনাদ শুনে নোৌমষারণ্যবাসণ খাঁষগণ সত্বর গোমতী- 
তীরে উপাস্থিত হলেন। তাঁরা দেখলেন, সদ্যোজাত মুনিসন্ভান- 
গণ গভনাড়ন ছিন্ন করে ক্রেদান্ত নগ্ন দেহে চিৎকাব ও আস্ফালন 
কবছে। সেই অকালপ্রসূত অকালপন্ক দন্তহঈন জটাম্মশ্রুধারী 
বালখিল্যগণের নেতা ক্লতুপত্র ক্তাতব। সে দুই হাত নেড়ে 
বলছে, ভাই সব, এগিয়ে চল, আমবা এখানকার সমস্ত আশ্রম 
পাুঁড়য়ে ফেলব, তার পর বাঁশজ্ঠের আশ্রমে গিষে তার কামধেনু 
হবণ করে দুধ খাব। বিশ্বামিত্র যা পাবেন নি আমরা তা 
পারব। ৃঁ 

_-দুধ খাব, দুধ খাব! মহান্‌ ভ্রিশঙকু বিদ্যতাম বশিষ্ঠ 
ধাঁষ ঘ্রিয়তাম্‌! বালাখিল্যা বর্ধন্তাম্‌, আর সবাই ক্ষীয়ল্তাম্‌! 

৯৫ 





১৫ ১5, ৯০০১৮ 
০০ নি 


বৈ লাঁখল্যগণ উপদুব করতে উদ্যত হয়েছে দেখে খখিরা 
ভাত হয়ে বললেন, মহর্ষি ক্ততু, তোমার ওই অকালজাত 
পুর ক্লাতবই এই সর্বনাশের মূল, তুমিই এর প্রতিকার কর। 

ক্ুতু একট, চিন্তা করে বললেন, এরা ব্রাহম্ণসন্তান, অপ- 
জাত হলেও অধ ও অবধ্য, নতুবা মূখে লবণ দিয়ে এদের 
ব্যাপাদিত করা যেত। এরা দেখছি ত্রিশঙ্কুর ভন্ত, সুতরাং 
ন্িশঙকুয যাজক বিশবামিত্র হয়তো এদের বশে আনতে পারবেন। 
চল, বিশ্বামিন্রের শরণাপন্ন হওয়া যাক। 

নৈমিষারণাবাসী খাঁষগণেব প্রার্থনা শুনে বিশ্বামিতর 
বললেন, এই বালাখল্যগণের উপর অপদেবতাব ভব হয়েছে, এরা 
সদুপদেশ শুনবে না, কৌশলে এদেব বশে আনতে হবে। চল, 
চেস্টা করে দেখা যাক। 

বিশ্বামিন্রকে পুরোবতাঁ করে খাষগণ নৈমিষারণ্যে ফিরে 
এলেন। বালখলাচমূ তখন ব্যৃহবদ্ধ হয়ে আক্রমণের উপক্রম 
করছে। 

ি*বামিতর বললেন, ভো বালাগল্যগণ, আমাকে চিনতে 
পেরেছ? আম হচ্ছি আদিবিদ্রোহী ভ্রিশখ্কুর যাজক বিশ্বামিত। 

বালখিল্যগণ চিৎকার করে বললে, মহামাহম বিশ্বামিত্রের 
জয়োহস্তু, অন্য খাঁষদের ক্ষয়োহস্তু ! 

বিশ্বামিত্র বললেন, কল্যাণমস্তু । বংসগণ, তোমরা আমার 
আত স্নেহের পান্র। তোমাদের ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে, কিছু 
খাবে? 


বালখলাযগণের উৎপণ্তি 


“কথার, খাব। 

--মৃগমাংস? পুরোডাশ 2 পিষ্টক? সুপক্ক হরীতকী ? 
ইক্ষদদণ্ড ? 

"ওসব চিবুতে পারব না, দাঁত নেই ষে। আপনার সন্ধানে 
দুধ আছে 2 

--আছে। কিন্তু মাতৃদুগ্ধ বা গবাদির দুগ্ধ তো তোমরা 
জীর্ণ করতে পারবে না। এস আমার সঙ্গে, আম লঘ্‌ পথ্যের 
ব্যবস্থা করব। 

বালাঁখল্যদের নিয়ে বিশ্বামিত্র অলম্ব তঁর্থে উপস্থিত 
হলেন। সেখানে একটি বিশাল বটবৃক্ষেব শাখাপ্রশাখায় লক্ষ 
লক্ষ বাদুড় ভ্রিশঙকুর মতন উধ্ব্পাদ অধাঁশরা হয়ে ঝুলছে 
স্তী-বাদুড়দেব সম্বোধন করে বিশ্বামিত্র বললেন, অয়ি চর্মপর্ণ 
দল্তবতপ পয়াস্বিনী বিহঙ্গীব দল, এই সদ্যরপ্রসৃত বুভুক্ষু 
মুনিশাবকগণকে তোমরা স্তন্যদান কর। 

বাদুড়-বাঁনতারা করুণাবিষ্ট হয়ে বললে, আহা, এস এস 
বাছাবা। 

বিশ্বামিত্র বালাখলাদের একে একে তুলে বটবক্ষের শাখায় 
লগ্বিত করে দিলেন। তারা বাদুড়ীদের বক্ষোলগন হস্সে 
পবমানন্দে স্তন্যপানে রত হল। 


ক্ুতু প্রশ্ন করলেন, এরা কত কাল এইপ্রকাব শান্ত হয়ে 
থাকবে ? 
ণ ৯৭. 


কৃষকাল 


বিম্বামিত্র বললেন, এখন তে. থাকুক, এর পর আবার যাঁদ 
উপদ্রব করে তখন দেখা যাবে। ্‌ 


১৩৬০ 


৯১৮ 


সরলাক্ষ হোম, 


ররর লেক ইটা 
কম। ছেলেবেলায় মা বাপ মারা যাবার পর তার পিতৃবন্ধু 
গদাধর ঘোষ তাকে পালন কবেন। তিনি খুব ধন লোক, 
বিস্তর খরচ করে বরুণকে লেখাপড়া শাখয়েছিলেন। বরুণ 
ছেলোটিও ভাল, ছ মাস হল আমোরিকা থেকে গোটাকতক ডিগ্রী. 
নিয়ে ফিরে এসেছে । গদাধরের মেয়ে মান্ডবীর সঙ্গে তার 
বিয়ে আগে থেকেই ঠিক করা আছে, তিন মাস পরে বিয়ে হবে। 

গদাধর ঘোষ প্রাতিপান্তশালী লোক, মুরুক্বীর জোর খুব 
আছে। তাঁর চেষ্টায় বরুণ একটা বড় চাকার পেয়ে গেছে-- 
বানর-ীনর্বাসন-অধিকর্তা, অর্থাং ডিবেক্টর অভ মংাক 
ডিপোর্টেশন। এই সরকারী বিভাগটির উদ্দেশ্য মহৎ। এদেশে 
মানুষ যা খায় বাঁদরও তাই খায়, তার ফলে মানুষের ভাগে 
কম পড়ে। সরকার 'স্থর করেছেন দেশের সমস্ত বাঁদর ক্লমে 
কমে আমেরিকায় চালান দেবেন, সেখানে 'চাকংসা আর শারীর- 
বিদ্যার গবেষণার জন্য মুখপোড়া রুপী মকটি গ্রভীতি সব রকম 
শাখামূগের খুব চাঁহদা আছে। বানরানির্বাসনের ফলে দেশের 
খাদ্যাভাব কমবে, আমেরিকান ডলারও ঘরে আসবে। কিন্তু 
শ্রেয়প্কর কর্মে বহু বিঘা। যাঁরা জীবাহংসার বিরোধী তাঁরা 


৬৯ ৯ 


কৃষকলি 


প্রবল আপত্তি তুললেন। বিদেশে গিয়ে বাঁদররা প্রাণ বিসজ্ন 
দেবে এ হতেই পারে না। তারা শ্রীহনুমানের আত্মীয়, ভারতটয় 
রামরাজ্ের প্রজা, মানুষের মতন তাদেরও বাঁচবার আঁধকার 
আছ্ছে। ভারতবাসী যেমন গরুকে মাতৃবৎ দেখে তেমাঁন বাঁদরকে 
ভ্রাতৃবং দেখে সরকার যাঁদ নিতান্তই বানরাঁনর্বাসন চান তবে 
এদেশেরই কোনও স্বাস্থ্যকর স্থানে তাদের জন্য উপানবেশ 
নিমণ করুন, প্রচুর আম কাঁঠাল কলা ইত্যাঁদর গাছ পঃতুন, 
ছোলা মটর বেগুন ফুটি কাঁকুড় ইত্যাঁদর খেত করুন, তদারকের 
ভাল ব্যবস্থা করুন। উদবাস্তুদের পুনর্বাসনে যে বেবন্দোবস্ত 
হয়েছে বাঁদরের বেলা তা হলে চলবে না। এই রকম আন্দোলনের 
ফলে বানরানর্বাসস আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে, বরুণ 
বিশ্বাসের উপর হুকুম এসেছে এখন শুধু; গনাতি করে যাও, 
পরিসংখ্যান তৈরি কর। বরুণের অধীন বিশ জন পাঁরদর্শক 
পাঠায়”-বাঁদর এত, বাঁদরী এত, বাঁদরছানা এত। কলকাতার 
আঁফিসে এইসব রিপোর্ট ফাইল করা হয় এবং মোটা মোটা 
খাতায় তার খাতিয়ান ওছে। 


আজ্জ বরুণের হাতে কাজ কিছ; নেই, মনেও সুখ নেই। 
সে তার অফিসঘরে ঘূর্ণিচেয়ারে বসে টেবিলে পা তুলে 'দিয়ে 
সিগারেট টানছে আর আকাশ পাতাল ভাবছে, এমন সময় 
সামনের বাংলা কাগজে এই বিজ্ঞাপনটি তার চোখে পড়ল-- 


৯০০ 


নরলাক্ষ হোম 


যাঁদ মনে করেন সময়টা ডাল ঘাচ্ছে না, মুশাকলে পড়েছেন, 
তবে আমার কাছে আসতে পারেন। যাঁদ অবস্থা এমন হয় 
যে উল ভান্তার এ্জনিয়ার পুলিস জেযোতিষী বা গুরু 
মহারাজ কিছুই করতে পারবেন না, তবে বৃথা দেরি না করে 
আমাকে জানান। এই ধরুন, আপনার সম্বন্ধ সপাঁববারে 
আপনার বাড়তে উঠেছেন, ছ মাস হয়ে গেল তবু চলে যাবার 
নামাট নেই। অথবা আপনার 'পিসেমশাই তাঁর মেয়ের বিয়ের 
গহনা কেনবার জন্য আপনাকে তিন্‌ হাজার টাকা পাঠয়েছিলেন, 
কিন্তু রেস খেলতে গিয়ে আপানি তা ডীঁড়য়ে 'দিয়েছেন। অথবা 
পাশের বাঁড়র ভবানী ঘোষাল আপনাকে যাচ্ছেতাই অপমান 
করেছে, কিন্তু সে হচ্ছে ষণ্ডামর্ক গুণ্ডা আর আপানি রোগা- 
পটকা। িকংবা ধরুন আপনার স্তীর মাথায় ঢুকেছে যে তাঁর 
জন্য খেপে উঠেছেন, আপনি কিছুতেই তাঁকে রুখতে পারছেন 
না। কিংবা মনে করুন আপাঁন একাট মেয়েকে বিবাহের 
প্রতশ্রাতি দেবার পর অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে ঘোরতয় প্রেমে 
পড়েছেন, আগেরটিকে খাঁরজ করবার উপাষ খঃজে পাচ্ছেন 
না। ইত্যাদি প্রকার সংকটে যাঁদ পড়ে থাকেন তো সোজা 
আমার কাছে চলে আসুন। শ্রীসরলাক্ষ হোম, তিন নম্বর বেছু 
কর স্ট্রট, বাগবাজার, কলিকাতা । সকাল আটটা থেকে দশটা, 
বিকেল চারটে থেকে রাত নটা। 


৯০১ 


কষ্কাল 


'বিজ্ঞাপনাঁট পড়ে বরুণ 'কাঁড়ং করে ঘণ্টা বাজালে। লাল 
চাপকান পরা একজন আরদালী ঘরে এল, বরুণ তাকে বললে, 
মিস দাস। একটু পরে ঘরে ঢুকল খঞ্জনা দাস, বরণের 
আযাসস্টাণ্ট, রোগা লম্বা, কাঁধ পর্য্ত ঝোলা ঢেউ তোলা 
রুক্ষ ফাঁপানো চুল, চাঁচা ভুরু, গোলাপী গাল, লাল ঠোঁট, লাল 
নখ, নখের ডগা টিকে দেবার লানসেটের মতন সরু । সম্তা 
সম্ধোটক ভায়োলেটের গন্ধে ঘর ভরে গেল। 

বরুণ কাগজটা তার হাতে 'দয়ে বললে, এই বিজ্ঞাপনটা 
পড়ে দেখ। 

বিজ্ঞাপন পড়ে খঞ্জনা বললে, যাবে নাকি লোকটার কাছে £ 
নিশ্চয় হামবগ জোচ্চোর, কিছুই করতে পারবে না, শুধু 
ঠাঁকয়ে পয়সা নেবে। আমার কথা শোন, দু নৌকোয় পা রেখো 
না, মাণ্ডবী আর তার বাপকে সোজা জানিয়ে দাও যে তুমি অন্য 
মেয়ে বিয়ে করবে। 

--তার ফল কি হবে জান তো১ আমার আড়াই হাজার 
টাকা মাইনের চাকারাট ষাবে। আমাদের চলবে কি করে? 
মান্ডবীর বাপ গদাধর ঘোষকে তুমি জান না, অত্যন্ত রাগী 
লোক । 

-অত ভয় কিসের; তোমার সরকারী চাকার, গদাই 
ঘোষ তোমার মনিব নয়, ইচ্ছে করলেই তোমাকে সরাতে পারে 
না। আর যাঁদই চাকার বায়, অন্য জায়গায় একটা জটিয়ে 
নিতে পারবে নাঃ 


৯০২ 


সরলাক্ষ হোম 


বরুণ বললে, আজ বিকেলে এই সরলাক্ষ হোমের কাছে 
গিয়ে দেখি। যাঁদ কোনও উপায় বাতলাতে না পারে তবে তুমি 
যা বলছ তাই করব। 


খন সরলাক্ষ হোমের পারচয় জানা দরকার। লোকটির 

আসল নাম সরলচন্দ্র সোম। বি.এ, পাস করে সে স্থির 
করলে আর পড়বে না, চাকারও করবে না, ঝাঁদ্ধ খাটিয়ে 
স্বাধীনভাবে রোজগ্মর করবে। প্রথমে সে রাজজ্যোতিষীর 
ব্যবসা শুরু করলে। কিন্তু তাতে কিছু হল না, কারণ 
সামুদ্রক আর ফলিত জ্যোতিষের বুলি তার তেমন রপ্ত নেই” 
মকেেলরা তার বন্তৃতায় মুগ্ধ হল না। তার পর সে সরলাক্ষ 
হোম নাম নিয়ে ডিটেকটিভ সেজে বসল, কিন্তু তাতেও স্াবিধা 
হল না। সম্প্রীতি সে একেবারে নতুন ধরনের ব্যবসা ফেদেছে, 
মক্কেলও অল্পস্ব্প আসছে। 

সরলাক্ষ হোমের বাঁড়তে ঢুকতেই যে ঘর সেখানে একটা 
ছোট টৌবল আর তিনটে চেয়ার আছে, মন্তেলরা সেখানে 
অপেক্ষা করে। তার পরের ঘরটি কনস্টিং রুম, সেখানে 
সরলাক্ষ আর তার বন্ধু বটুক সেন গল্প করছে। বটুক 
সরলাক্ষর চাইতে বয়সে কিছু বড়, সম্প্রীতি পাস করে ডান্তার 
হয়েছে, কিন্তু এখনও কেউ তাকে ডাকে না। ঘরের ঘড়িতে 
পৌনে চারটে বেজেছে। 

বট্‌ক সেন বলছিল, খুব খরচ করে ব্যবসা তো ফাঁদলে। 

১০৩ 


কুষকল 


থর সাঁজয়েছ, দামী পদ টাঙিয়েছ, উর্দি পরা বয় রেখেছ, 
কাগজে বিজ্ঞাপনও দিচ্ছ। মক্কেল কেমন আসছে? 

সরলাক্ষ বললে, দুটি একটি করে আসছে । বেশীর ভাগই 
স্কুলের ছেলে, ষোল টাকা ফণ দেবার সাধ্য নেই, টাকাটা 'িসকেটা 
ঘা দেয় তাই নিই। এরজন প্রেমে পড়েছে, কিন্তু সে অত্যন্ত 
বৈ'টে বলে প্রণাঁয়নী তাকে গ্রাহ্য করছে না। আম আ্যাডভাইস 
 ঈদয়োছ- সকালে দু পায়ে দূখানা ইট বেধে দু হাতে গাছের 
ভাল ধরে আধ ঘণ্টা দোল খাবে, বিকেলে মাঠে গিষে মনমেন্টের 
মাথার দিকে তাকিয়ে এক ঘণ্টা ধ্যান করবে, ছ মাসের মধ্যে ছ 
"ইট বেড়ে যাবে। আর একটি ছেলে কাশী থেকে পালিয়ে 
এখানে ফৃর্তি করতে এসেছে, টাকা সব ফুরিয়ে গেছে, বাপকে 
জানাতে লজ্জা হচ্ছে। আমি বলেছি--লিখে দাও, ছেলেধরা 
ক্লোরোফর্ম করে নিয়ে এসেছে, মিস্টার সরলাক্ষ হোম আমাকে 
উদ্ধার কবে নিজের বাড়তে আশ্রয় দিয়েছেন, পন্নপাণ এক শ 
টাকা পাঠাবেন। আর এই দেখ বটক-দা--্রীগদাধর ঘোষ 
শচাঠি লিখেছেন, আজ সম্ধ্যা সাতটায় আসবেন। 

বটুক বললে, বল কি হে! গদাধব তো মস্ত বড় লোক, 
তার আবার মুশাকল দি হলঃ তাকে ঘাঁদ খুশী করতে 
পার তো তোমার ববাত ফিবে যাবে। 

সরলাক্ষর প্রাতহাররক্ষণী ছোকরা সোনালাল একটা স্লিপ 
নিয়ে এল। সরলাক্ষ পড়ে বললে, এ যে দেখছি একজন 
মাহলা, মান্ডবী ঘোষ। পাঠিয়ে দে এখানে। 


৯০৪ 


লরলাঙ্ছ হো 


কুঁড়-বাইশ বছরের একটি মেয়ে ঘরে এল। দুজন লোক 
দৈখে একটু ঘাবড়ে গিয়ে বললে, মিস্টার হোমের সঙ্গে কিছ: 
প্রাইভেট কথা বলতে চাই। 
ডান্তার বটুক সেন। আপাঁন এপ্র সামনে সব কথা বলতে 
পারেন, কোনও দ্বিধা করবেন না। বসুন আপাঁন। 

মাপ্ডবী কিছুক্ষণ ঘাড় নঁচু করে বসে রইল। তার পর 
আস্তে আস্তে বললে, আমার বাবার নাম শুনে থাকবেন, 
শ্লীগদাধর ঘোষ। 

সরলাক্ষ বললে, ও, তাঁরই কন্যা আপাঁন? 

_-হাঁ। বরুণ-দার সঙ্গে আমার বিয়ের কথা অনেক কাল 
থেকে ঠিক করা আছে--বানর-নির্বাসন-আঁধকর্তা বরুণ 
বিশবাস। 

-হাঁ হাঁ, এই নতুন পোস্টেব কথা কাগজে পড়েছি বটে। 
খুব ভাল সম্বন্ধ, কংগ্রাটস মস ঘোষ। 

মান্ডবী 'বষগ্ন মুখে মাথা নেড়ে বললে, একটা বিশ্রী গুজব 
শুনাছ, বরুণ-দা তার আাসস্টান্ট খঞ্জনা দাসের প্রেমে পড়েছে। 

"আপনার বাবা জানেন ? 

--জানেন, কিল্তু তিনি তেমন গা করছেন না। বলছেন, 
ইয়ংম্যানদের অমন একটু আধটু বেচাল হয়ে থাকে, বিয়ে 
হলেই সেরে যাবে। 

_“কথাটা ঠিক, চটপট বিয়ে হয়ে যাওয়াই ভাল। 


সি 


্ 


কষকলি 


-এক জ্যোতিষী বলেছেন আমার একটা ফাঁড়া আছে, 
তিন মাস পরে কেটে যাবে। তার পর বিয়ে হবে। কিন্তু তার 
গধ্যে বরুণ-দা কি করে বসবে কে জানে । 

-দোখ আপনার হাত। 

মান্ডবীর করতল দেখে সর্লাক্ষ বললে, হঃ, ফাঁড়া একট: 
কাটিয়ে দেব। খঞ্জনা দাসের খপ্পর থেকে আপান শ্রীবিশ্বাসকে 
উদ্ধার করতে চান তোঃ 

_-হাঁ। আপাঁন দুজনের মধ্যে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিন, ভীষণ 
_ ঝগড়া, যাতে মুখ দেখাদোখি বন্ধ হয়। খরচ যা লাগে আমি 
দেব, এখন এই এক শ টাকা আগাম 'দিচ্ছি। 

সরলাক্ষ সহাস্যে বললে, ব্যস্ত হবেন না, আমার প্রথম ফী 
বোল টাকা মান্্। কাজ উদ্ধার হলে আরও খা ইচ্ছে দেবেন। 

বটুক বললে, মিস ঘোষ, আপান নশ্চিন্ত থাকুন, সরলাক্ষর 
অসাধ্য কিছ নেই, ঠিক ঝগড়া বাধিয়ে দেবে । 

মাণ্ডবী মাথা নেড়ে বললে, উদ্হহ, অত সহজ ভাববেন না। 
খঞ্জনাকে আপনারা চেনেন না, ভীষণ বদমাশ মেষে, দারুণ 'ছিনে 
জোঁক, সহজে ছাড়বে না। আব ববুণ-দাও ভীষণ বোকা । 

সরলাক্ষ প্রশ্ন করলে, বরুণ-দাকে আপাঁন কত দন থেকে 
জানেন ? 

--সৈই ছেলেবেলা থেকে । আমার বাবাই ওকে মানুষ 
করেছেন, চাকরিও জুটিয়ে দিয়েছেন। 


৯১০৬ 


সরলাক্ষ হোম 


সোনালাল আবার ঘরে এসে একটা কার্ড গদলে। সরলাক্ষ 
দেখে বললে, আরে, স্বয়ং বরুণ বিশ্বাস দেখা করতে এসেছেন ! 

মান্ডবী চমকে উঠে বললে, সর্বনাশ, আমাকে তো দেখে 
ফেলবে! কি করি বলুন তো? 

সরলাক্ষ বললে, কোনও চন্তা নেই, আপাঁন ওই পিছনের 
ঘরে যান, মোটা পর্দা আছে, কিছ দেখা যাবে না। শ্রীবম্বাস 
চলে গেলে আপান আবার এ ঘরে আসবেন। 

মাপ্ডবী তাড়াতাঁড় পিছনের ঘরে গেল এবং পর্দার আড়ালে 
দাঁড়য়ে আঁড় পাততে লাগল। রর 


রখ বিশ্বাস ঘরে ঢুকে বললে, মিস্টার হোমের সঙ্গে 

আমার কথা আছে, অত্যন্ত প্রাইভেট । 

সরলাক্ষ বললে, আমিই সরলাক্ষ হোম, হান আমার 
কোলাগ ডান্তার বটুক সেন। এস্র সামনে আপান স্বচ্ছন্দে 
সব কথা বলতে পারেন। 

বরুণ তব ইতস্তত করছে দেখে বটুক বললে, 'মস্টার 
বিশ্বাস, আপাঁন সংকোচ করবেন না। শারলক হোমসের 
জুড়দার যেমন ডান্তার ওআটসন, সরলাক্ষ হোমের তেমাঁন 
ডান্তার বটুক সেন এই আঁম। তবে আম ওআটসনের মতন 
হাঁদা নই। আপানিই বাঁদর দপ্তরের কতণ তো ঃ 

বরুণ বললে, আম হচ্ছি ডিরেক্টর অভ মংঁক ডপোটেশন। 


৯০৭ 


কৃষ্কলি 


সরলাক্ষবাধ্‌, আমি একটি অত্যন্ত ভেিকেট ব্যাপারের জন্য 
আপনার সঙ্গে পরামর্শ কবতে এসৌছ। 

সরলাক্ষ বললে, কিচ্ছু ভাববেন না, আপাঁন খোলসা করে 
সব কথা বলুন। 

_-ল্রীগদাধব ঘোষেব নাম শুনেছেন তো? তাঁব মেষে 
মান্ডবীর সঙ্গে আমার বিবাহ বহু কাল থেকে 1স্থর হয়ে 
আছ্ছে। 

চমৎকার সম্বন্ধ, কংগ্রাটস িস্টাব বিশ্বাস। 

_-পকন্তু আমি অন্য একটি মেয়েকে ভালবেসে ফেলেছি । 

--বেশ তো, তাঁকেই বিবাহ করুন না। 

--তাতে 'িস্তব বাধা । শ্্রীগগাধর আমাব পিতৃবন্ধু, 
ছেলেবেলাব আভিভাবক, এখনও মুরুব্বী। তিনিই আমার 
চাকারাট করে 'দিষেছেন, চটে গেলে তিনিই আমাকে তাডাতে 
পারেন। অথচ তাঁব মেষেব সঙ্গে বিষে হলে আম বিস্তব 
সম্পত্তি পাব, চাকবিও বজায থাকবে। 

--তবে তাঁব মেযেকেই বিষে কবুন না। 

দেখুন, মান্ডবীকে ছেলেবেলা থেকে দেখে আসাঁছ, 
তাকে ছোট বোন মনে করতে পাবি, কিন্তু তার সঙ্গে প্রেম হওষা 
অসম্ভব । 

দেখতে শ্রী বুঝি? 

--ঠিক বিশ্রী হয়তো নষ, কিন্তু আমাব পছন্দব সঙ্গে 
একদম মেলে না। মোটাসোটা গড়ন, ডাঁলপূতুলের মতন টেবো 


৯১০৮ 


সরলাম্ম হোম 


টেবো গাল। ফোর্থ ইয়ারে পড়ছে বটে, কিন্তু চালচলন 
সেকেলে, স্মার্ট নয়, ভূল ইতারজী বলে। এখনও জাঁরর ফিতে 
1দয়ে খোঁপা বাঁধে, এক গাদা গহনা পরে জুজুবুড়ী সাজে। 

--যাঁকে ভালবেসে ফেলেছেন তান কেমন? 

--খঞ্জনা? ওঃ, সুপর্বন চমৎকার । মেমের মতন ইধারজশী 
বলে, তার সঙ্গে মান্ডবীর তুলনাই হয় না। 

সরলাক্ষ বললে, দেখুন মিস্টার বরুণ বিশ্বাস, আপনার 
ইচ্ছেটা বুঝেছি। আপাঁন চাকার বজায় রাখতে চান, গদাধর- 
বাবুর সম্পান্তও চান, অথচ তাঁর কন্যাকে চান না। এই তো? , 

বরুণ মাথা নীচু করে বললে, সমস্যাটা সেইরকমই দাঁড়িয়েছে 
বটে। কোনও উপায় বলতে পারেন? 

সরলাক্ষ বললে, একটা খুব সোজা উপায় বাতলাতে 
পার। আপান হিন্দু তোঃ এখনও বহদ-বিবাহ-নিষেধের 
আইন পাস হয় 'নি। শ্্রীগদাধরের কন্যাকে বিবাহ করে ফেলদন, 
যত পারেন সম্পান্ত আদায় করে নিন। ছ মাস পরে মিস 
খঞ্জনাকেও [বিবাহ করবেন, তাঁকেই সুয়োরানীর পোস্ট দেবেন। 

বরুণ বললে, আপনি গদাধর ঘোষকে জানেন না, ধাঁড়বাজ 
দুদ্শন্ত লোক। সম্পা্ত যা দেবার তিনি মেয়েকেই দেবেন। 
খঞ্জনাকে বিয়ে করলে তৎক্ষণাৎ আমার চাকাঁরাঁট খাবেন আর 
মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যাবেন। 

বটুক সেন বললে, আম একটি ডাক্তারী উপায় বলাছ 
শুনুন। মিস মাণ্ডবীঁকে বিয়ে করে ফেলুন। আপনাকে দ* 


৯১০৯১ 


কৃষক 


প্রিয়া আর্পোনক দেব, একটা *বশুরকে আর একটা *বশুর- 
কন্যাকে চায়ের সঙ্গে খাওয়াবেন দুজনেই পণত্ব পেলে সম্পান্ত 
আপনার হাতে আসবে, চাকীরও থাকবে, তখন মিস খঞ্জনাকে 
দ্বতীয় পক্ষে বিয়ে করবেন। 

বিষ দিতে বলছেন ? 

--আসেশনকে আপাতত থাকলে কলেরা জার্ম দিতে পার, 
কাজ সমানই হবে। 

বরুণ রেগে গিয়ে বললে, আপনাদের সঙ্গে ইয়ারাক দিতে 
এখানে আসন, আমার সময়ের মূল্য আছে। 

সরলাক্ষ বললে, না না রাগ করবেন না, আপনার প্রবলেমটি 
বড় শন্ত কিনা তাই বটুক-দা একট; ঠাট্টা করেছেন। আম 
বাল শুনুন-আপনার আকাঙ্ক্ষাটি বড্ড বেশী নয় কি? কিছু 
কাঁময়ে ফেলুন, দুধও খাবেন তামাকও খাবেন তা তো হয় না। 

--আচ্ছা, সম্পান্তর আশা না হয় ছেড়ে দিচ্ছি। আপানি 
এমন উপায় বলতে পারেন যাতে মান্ডবীর সঙ্গে আমার বিয়ে 
ভেস্তে যায় অথচ চাকারর ক্ষাত না হয়, অর্থাৎ গদাধর ঘোষ 
রাগ না করেন ? 

_-আমাকে একটু সময় দিন, ভেবে চিন্তে উপায় বার 
করতে হবে। আপনি সাত দিন পরে আসবেন। ফা জানতে 
গুরুত্ব বুঝে আরও টাকা দেবেন। 

বরুণ টাকা দিয়ে চলে গেল। 

১১০ 


পরলাক্ষ হোম 


ম্‌ গ্ডৰ' পর্দা ঠেলে ঘরে এল। তার গা কাঁপছে, মুখ 
লাল, চোখ ফুলো ফলো, দেখেই বোঝা যায় যে জোর 
করে কান্না চেপে রেখেছে । 

বটুক সেন বললে, এক মিস ঘোষ, আপাঁন বন্ড আপসেট 
হয়ে পড়েছেন দেখাঁছ! স্থির হয়ে বসুন, আঁম দু মানটের 
মধ্যে একটা ওষুধ নিয়ে আসাঁছ। 

মাণ্ডবীঁ বললে, ওষুধ চাই না, একটু জল। 

সরলাক্ষ তাড়াতাড়ি এক গ্লাস জল এনে দিলে। মাণ্ডবী 
চোখে মুখে জল দিয়ে ভাঙা গলায় বললে, সরলাক্ষবাবু, আর 
কচ্ছ করবার দরকার নেই, বরুণ-দাকে আম বিয়ে করব না। 

সরলাক্ষ বললে, না না, ঝোঁকের মাথায় কোনও প্রীতিজ্ঞা 
করবেন না। আপনার বাবা খুব খাঁন কথা বলেছেন, "বিয়ে 
হয়ে গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে । আম আপনাকে কথা 'দচ্ছি-- 
খঞ্জনার খপ্পর থেকে আপনার বরুণ-দাকে উদ্ধার করবই। যাঁদ 
তিনি অন্তস্ত হয়ে আপনার কাছে ক্ষমা চান তবে তাঁকে 
বয়ে করবেন না কেন? 

সজোরে মাথা নেড়ে মান্ডবী বললে, না নানা। আম 
মুটকী ধূমসী, আম সেকেলে মুখুখু জুজ;বুড়ী, আর খঞ্জনা 
হচ্ছে বিদ্যাধরী-- 

--ও, আপন বুঝ আঁড় পাতছিলেন! ভেরি ব্যাড। 
ওসব কথায় কান দেবেন না, বাঁদরের কত হয়ে আপনার বরুণ- 
দাবাঁদুরে বুদ্ধি পেয়েছেন, খঞ্জনার মোহে পড়ে যা তা বলছেন। 

১৯১১ 


কৃষ্কলি 


মোহ কেটে গেলেই আপনার কদর তিনি বুঝবেন। আপনি 
হচ্ছেন সেই কাঁলদাস যা বলেছেন --পর্যাপ্তপনত্পস্তবকাবনগ্রা 
সঞ্চারণী পল্পবিনী লতা, আপান হচ্ছেন -- শ্রোণীভারাদলস- 
গমনা স্তোকনম্রা_- 

--চুশশ করুন, অসভ্যতা করবেন না। এই নন আপনার 
ষোল টাকা, আমি চলল.ম। 

সরলাক্ষ হাতজোড় করে বললেন, মান্ডবী দেবী, মন শান্ত 
করুন, ধৈর্য ধরুন। যত শশীঘ্র পার খঞ্জনাকে তাড়িয়ে দেবার 
ব্যবস্থা করব। দোহাই আপনার, তত দিন িছন করে বসবেন 
না। 

মাণ্ডবী নমস্কার করে চলে গেল। বটুক বললে, নাও, 
ঠেলা সামলাও এখন। সবাই দেখছি ভীষণ, খঞ্জনা ভীষণ 
বদমাশ, বরুণ-্দা ভীষণ বোকা, আর মাপ্ডবী ভীষণ ছেলে- 
সানুষ। পাত এক দিকে যাচ্ছেন, পানর আর এক দিকে যাচ্ছেন, 
কার মন রাখবে; আবার পাত্রীর বাপ আসছেন, তিনি কি চান 
কে জানে। 


ধ্যা সাতটায় শ্রীগদাধব ঘোষ প্রকান্ড মোটবে চড়ে উপস্থিত 
হলেন। সরলাক্ষ খুব খাতির করে তাঁকে 'নজের খাস 
কামরায় নিয়ে গিয়ে বসালে এবং বটুকের পরিচয় দিলে। 
পকেট থেকে বিজ্ঞাপনটা বার করে শ্রীগদাধর একটু হেসে 
বললেন, খাসা ব্যবসা খুলেছেন সরলাক্ষবাব। ডেলিকেট 
১১২ 


সরলাক্ষ হো। 


ব্যাপারে মতলব দিতে পারে এমন একজন তুখড় চৌকশ লোকের 
বড়ই অভাব ছিল। আপাঁন বিজ্ঞাপনে ঠিকই লিখেছেন, ডান্তার 
উকল পুলিস জ্যোতিষী গুর্‌ এদের 1 সব কথা বলা চলে, 
নাক এরা সব সমস্যার সমাধান করতে পারে? আপনার তো 
বয়স বেশী নয়, ব্যবসাট শিখলেন কোথায় 8 ডিগ্রী ছু 
আছে 2 

সরলাক্ষ বললে, আমি হচ্ছি সাউথ আমে?রকার মায়া- 
আজটেক-ইংকা ইউীনিভার্সাটর 'পিএচ. ডি, আমার রিসার্চের 
জন্য সেখানকার অনারারী ডিগ্রী পেয়েছি। বাগবাজার বিবুধ-. 
দভাও আমাকে বুদ্ধিবারাধি উপাধি দিয়েছেন। 

--বেশ বেশ। এখন আমার মুশাকলটা শুনুন । 


বললেন, আপাঁন ওই খঞ্জনা মাগীর কবল থেকে বরূণকে চটপট 
উদ্ধার করে দিন, আমার মেয়েটা বড়ই মনমরা হয়ে আছে। 
সরলাক্ষ বললে, আপনার তো শুনোছ খুব প্রাতপাত্ত, 
মন্ত্রীরা আপনার কথায় ওঠেন বসেন। আপনি মনে করলেই 
খঞ্জনাকে আশ্ডামানে বদলী করাতে পারেন। 
--সোঁট হবার জো নেই। খঞ্জনা হচ্ছে চতুরভূজ খাবলদারের 
তৃত'য় পক্ষের শালী। চতুর্ভূজকে চটানো আমার পাঁলাস নয়, 
আমার ছেলে দিল্লিতে তারই কম্পানতে কাজ করে। 
-বরুণকে দূরে বদলী করিয়ে 'দিন। 
৮ ১১৩ 


কৃকলি 


--সৈ কথা আঁম যে ভাব নি এমন নয়। কিন্তু বিচ্ছেদের 
ফলে প্রেম যে আরও চাগিয়ে উঠবে, চিঠিতে লম্বা লম্বা 
প্রেমালাপ চলবে, তার কি করবেন? 


--তারও উপায় আছে। অন্য কারও সধ্গে চটপট খঞ্জনার 
বিয়ে দিতে হবে। 

-খৈপেছেম! খঞ্জনা আমাদের ফরমাশ মত বিয়ে করবে 
কেন: | 

-_জ্‌তসই পাত্র পেলেই করবে। শুন্দুন সার--বরুণকে 
“দূরে বদলী করান, তার জায়গায় এমন একজন বাহাল করুন 
যে খঞ্জনাকে বিয়ে করতে রাজী আছে। 

-- কোথায় পাব তেমন লোক? 

বটুককে ঠেলা দিয়ে সবলাক্ষ বললে, কি বল বটুক-দা? 

বটুক প্রশ্ন করলে, মাইনে কত? 

শ্রীগদাধর বললেন, তা ভালই, আড়াই হাজার। 

সরলাক্ষ বললে, রাজী আছ বটুক-দাঃ এমন চাকার পেলে 
খঞ্জনাকে আত্মসাৎ করতে পারবে নাঃ 

-খুব পারব, খঞ্জনা গঞ্জনা ঝঞ্জনা িছুতেই আমার 
আপাত্ত নেই। 

শ্রীগদাধর বললেন, বরূণকে ছেড়ে খঞ্জনা তোমাকে বিয়ে 
করতে চাইবে কেন? চাকরির বদল যত সহজে হয় প্রেমের 
বদল তত সহজে হয় না। 

১১১২ 


পরলাক্ হোম 


বটুক বললে, সেজন্যে আপাঁন ভাববেন না সার, আম 
খঞ্জনাকে ঠিক পটিয়ে নেব। 

--কিন্তু জন্তুর সায়েন্স না জানলে তো বানর-নির্বাসন- 
আঁধিকর্তা হতে পারবে না। তুমি তো নাড়ী-টেপা ডাক্তার ? 

সরলাক্ষ বললে, শুনুন সার। এমন বদ্যে নেই যা ডাক্তাররা 
শেখে না, ফাঁজক্স কেমিস্ট্রি বানি জোঅলাঁজ আরও কত কি। 
নয় বটুক-্দা? 

বটুক বললে, 'নশ্চয়। জোঅলাজ, বিশেষ করে মংঁকিলাজ, 
আমার খুব ভাল রকম জানা আছে। 

গদাধর একটু ভেবে বললেন, বেশ, কালই আম 'ানস্টার 
ইন চাজকে বলব। কিন্তু প্রথমটা টেস্পোরার হবে, যাঁদ দু 
মাসের মধ্যে খঞ্জনাকে বিয়ে করতে পার তবেই চাকার পাকা হবে, 
নয়তো 'ডিসামস। 

বটুক বললে, দু মাস লাগবে না, এক মাসের মধ্যেই আম 
ভারে ারিরনের 

গদাধর বললেন, বেশ বেশ। বড় আনন্দ হল তোমাদের 
সঙ্গে আলাপ করে। কাল আমাকে একবার 'দল্লি যেতে হবে, 
গশ্লীকে ছেলের কাছে রেখে আসব, পাঁচ দন পরে ফিরব । 
তার পরের রাঁববারে বিকেলে চারটের সময় তোমরা আমার 
বাড়িতে চা খাবে, কেমন? আমার মেয়ে মান্ডবীর সঙ্ছেও 
আলাপ কাঁরয়ে দেব। 

সরলাক্ষ আর বটুক সাবনয়ে বললে, যৈ আজ্জে। 


১১৫ 


কৃষকলি 







গদাধরের সূপারিশের ফলে তিন দিনের মধ্যে বরণের 
জায়গায় বটুক সেন বাহাল হল এবং বরুণ দহরম- 
গঞ্জে বদল হয়ে গেল। তার নতুন পদের নাম--কুকুটান্ড- 
বিবর্ধন-পরীক্ষা-সংস্থা-আযুন্তক, অর্থাৎ আফসার ইন চা 
হেন্স এগ এনলাজমেন্ট একসপোঁরমেন্টাল স্টেশন। 

'নির্দিষ্ট দিনে সরলাক্ষ আর বটুক গদাধরধাবুর বাড়তে 
চায়ের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেল। গদাধর বললেন, এই যে, 
এস এস। ওরে মান্ডবী, এদিকে আয়। এই ইনি হচ্ছেন 


'শ্লীসরলাক্ষ হোম, মুশকিল আসান এক্সপার্ট। আর ইনি ডান্তার 


বটুক সেন, আমাদের নতুন বানর-ীনর্বাসন-আঁধকর্তা। খাস্য 
লোক এরা । 

নমস্কার 'বানময়ের পর বট্দক বললে, সার, একটি অপরাধ 
হয়ে গেছে, আপনাকে আগে খবর দেওয়া উচিত ছিল, বন্ড 
তাড়াতাঁড় হল কিনা তাই পার নি, মাপ করবেন। শ্রীমতী 
থঞ্জনার সঙ্গে কাল আমার শুভ পাঁরণয় হয়ে গেছে। 

বটুকের পিঠ চাপড়ে, শ্রীগদাধব বললেন, জিতা রহো, বাহবা 
বাহবা, বাঁলহারি, শাবাশ! আমরা ভারী খুশী হলুম শুনে, 
শক বলিস মান্ডবী? খেতে শুরু কর তোমরা, আম চট করে 
গিন্নীকে একটা টেলিগ্রাম পাঠিয়ে দিয়ে আসছি। 

মাস্ডবাঁ বটুককে বললে, ধন্য রুচি আপনার, বাবার কাছে 
ঘুষ খেয়ে সেই শূর্পণখাটাকে বিয়ে করে ফেললেন! খঞ্জনাই 


১১৬ 


সরলাক্ষ হোম 


বা কি রকম মেয়ে, দু ধ্দনের মধ্যে বরুণ-দাকে ভুলে 'গিয়ে 
আপনার গলায় মালা দিলে! 

সরলাক্ষ বললে, তান আঁতি সুবাদ্ধ মহিলা, বরুণ-দার 
চাকারাটি মারেন নি, বটুক-দার চাকার পাকা করে 'দিয়েছেন, 
আমারও মুখরক্ষা করেছেন। 

মান্ডব বললে, আপনার আবার কি করলেন 2 ৃ 

--আপনাকে কথা দয়েছিল্‌ম দুজনের মধ্যে ভীষণ ঝগড়া 
বাঁধয়ে দেব, মনে নেই? আপাঁন শুনে খুশী হবেন, খঞ্জলা 
বউ-দ মিস্টার বরুণকে ভীষণ গালাগাল দিয়ে একটি চিঠি, 
লিখেছেন, আমিই সেটা ড্রাফট করো দয়েছি। এখন আপনার 
লাইন ক্রিয়ার। যদ বরুণ-দাকে আপাঁন একটি মোলায়েম চিঠি 
লেখেন তবে সব ঠিক হয়ে ধাবে। আমার ফীএর বাকী টাকাটা 
আপনাকে আর দিতে হবে না, আপনার বাবাই তা শোধ করবেন। 

--উঃ, আপনাদের দি কোনও প্রিনীসপৃ্জ নেই, সেপ্টিমেন্ট 
নেই, হৃদয় নেই, শোভন অশোভন জ্ঞান নেই? ক ভাষণ 
মানুষ আপনারা! মাপ করবেন, আপনাদের কাণ্ড দেখে হতভম্ব 
হয়ে যা তা বলে ফেলোছ। 

গদাধরবাবু তার পাঠিয়ে ফিরে এলেন। অনেকক্ষণ নানা 
রকম আলা চলল, তার পর সরলাক্ষ আর বটুক চলে গেল। 

পরাদন বরুণের কাছ থেকে মাণ্ডবী একটা আট পাতা 
চিঠি পেলে। 


১১৭ 


কৃষ্ণকাল 


খানেই থামা যেতে পারে, কারণ এর পরে যা হল তা 

আপনাবা নিশ্চয় আন্দাজ করতে পেরেছেন। কিন্তু এমন 
পাঠক অনেক আছেন যাঁরা নায়ক নাঁয়কার একটা হেস্তনেস্ত 
না দেখলে নিশ্চিন্ত হতে পাবেন না। তাঁদের অবগতির জন্য 
বাকীটা বলতে হল। 

সন্ধ্যার সময় শ্রীগদাধর সরলাক্ষব কাছে এলেন। সে একাই 
আছে, বটুক সস্ত্রীক সিনেমায় গেছে। গদাধর বললেন, ওহে 
সরলাক্ষ, এ তো মহা মুশীকলে পড়া গেল! মান্ডবীঁকে বরুণ 
মস্ত একটা চিঠি লিখেছে, বেশ ভাল চিঠি, খুব অনুতাপ 
'জ্ঞানিয়ে অনেক কাকুতি মিনতি করে ক্ষমা চেয়েছে। আঁমও 
অনেক বোঝাল.ম, কিন্তু মান্ডবী গোঁ ধবে বসে আছে, বাঙালে 
গোঁ, তার মায়েব কাছ থেকে পেয়েছে। চিঠিখানা কুচি কুচি 
করে ছিড়ে ফেলে দিয়ে বললে, ছঃংচোকে আম বিয়ে করতে 
পারব না। বাবা সবলাক্ষ, তুমি কালই তাব সঙ্গে দেখা কবে 
বুঝিয়ে বলো। ববুণেব মতন পানর লাখে একটা মেলে না। 
তোমার অসাধ্য কাজ নেই, মান্ডবীকে বাজী করাতে যদ পার 
তো তোমাকে খুশী করে দেব। 

সবলাক্ষ বললে, যে আজ্ঞে, আম তাঁর সঙ্গে দেখা কবে 
সাধ্যমত চেম্টা করব। 

পরদিন শ্রীগদাধব সবলাক্ষকে জিজ্ঞাসা কবলেন, কি হল 
হে, রাজী করাতে পারলে 2 

--উত্হু বরুণের ওপর ভীষণ চটে গেছেন, শুধু ছংচো 

১১৮ 


নয়, মীন মাইন্ডেড মংঁকও বলেছেন। আমার মতে চটপট তাঁর 
অন্যন্ত বিবাহ হওয়া দরকার, নয়তো মনের শান্তি ফিরে পাবেন 
না। দারুণ একটা শক পেয়েছেন কিনা। তাঁর হয়ে যে 
ভ্যাকুয়ম হয়েছে সেটা ভরাতি করাতে হবে। 

কিন্তু এত তাড়াতাড়ি অন্য লোককে য়ে করতে রাজী 
হবে কেনঃ ভাল পান্রই বা পাই কোথা? 

--যাঁদ অভয় দেন তো নিবেদন কাঁর। অনুমাত পেলে 
1নজের জন্যে একট; চেস্টা করে দেখতে পাঁরি। 

--তুম! তোমাকে বিয়ে করতে চাইবে কেন? ধর মাণ্ডবী 
রাজশ হল, কিন্তু আমার হোমবা চোমরা আতআীয় স্বজনের কাছে 
জামাইএব পাঁরচয় কি দেব; মুশকিল আসান আঁধকর্তা বললে 
তো চলবে না, লোকে হাসবে। 

--আপনার কৃপা হলেই আমি একটা বড় পোস্ট পেয়ে যেতে 
পার, আপনার জামাইএর উপযুক্ত । 

- কোন্‌ কাজ পাববে তুমি ? 

--সবকার তো হরেক বকম পাঁরকজ্পনা করছেন, মাঁটর 
তলায় রেল, শহরের চাবাঁদক 'ঘিবে চক্রবেড়ে বেল, সমযদ্র থেকে 
মাছ, ড্রেনের ময়লা থেকে গ্যাস, আবও কত কি। আমিও ভাল 
ভাল জ্কীম বাতলাতে পার। 

- বল না একটা । 

--এই ধরুন উপকণ্ঠ-গির্যাশ্রম। 

১১৯ 


কফকলি 

--সৈ আবার কি, গর্জে বানাতে চাও নাকি ? 

- আজ্ঞে না। 'গাঁর-আশ্রম হল 'শিষাশ্রম, উপকণ্ঠ" 
গধণশ্রম মানে সাধর্বান হিল স্টেশন। সহজেই হতে পারবে। 
কলকাতার কাছে লম্বা চওড়ায় এক শ মাইল একটা জম চাই, 
তাতে প্রকান্ড একটা লেক কাটা হবে, তার মাটি স্তপাকার করে 
লেকের মাধ্যখানে দশ-বারো হাজার ফুট উপ্চু একটা পিরামিড 
বা কৃত্রিম পাহাড় ততোর হবে। দাঁজ্শীলং যাবার দরকার হবে 
না, পাহাড়ের গায়ে আর মাথায় একটি চমত্কার শহর গড়ে উঠবে, 
বিস্তর সেলাম দিয়ে লোকে জামি লীজ নেবে । আগর আপেল 
পচ আখরোট বাদাম কমলানেব ফলবে, নীচের লেকে অজন্্ 
মাছ জন্মাবে। পাহাড়ের মাথা থেকে বিনা পয়সায় বরফ পাবেন, 
ঢাল; গা দিয়ে আপাঁনই হড়াক করে নেমে আসবে -- 

--চমৎকার, চমৎকার, আর বলতে হবে না। কালই আম 
শমানস্টার ইন চার্জ অভ ল্যাড আপাীলফটের সঙ্গে কথা 
বলব। কিন্তু তোমার পোস্টের নামটা কি হবে? 

--পাঁরকজ্পন-মহোপদেন্টা, অর্থাৎ আডভাইজার-জেনারেল 
অভ স্কীমস। সাড়ে তিন হাজার টাকা মাইনে দলেই চলবে । 

িনিম্চিন্ত থাক বাবাজী, চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই আম 
সব'পাকা করে ফেলব । তুমি আর দের ক'রো না, লেগে যাও, 
এখন থেকেই মান্ডবীকে বাগাবার চেস্টা কর। 


মাণ্ডবী আত লক্ষী মেয়ে, আর সরলাক্ষর প্রেমের প্যাচ 
১২০ 


সরলাক্ষ হোম 


অর্থাৎ টেকাঁনকও খুব উ্চুদরের। পাঁচ দিনের মধোই সে 
গান্ডবীকে বাগিয়ে ফেললে। 

কিন্তু বরুণ বিশ্বাসের কি হল? তার কথা আর জিজ্ঞাসা 
করবেন না। তাকে বিয়ে করবার জন্যে একটা মাদ্রাজী, দুটো 
পঞ্জাব আর ?তনটে 'ফাঁরঙ্গন মেয়ে ছে*কে ধরেছে, তা ছাড়া 
ওখানকার জজ-াগন্নন ডেপুটি-গিল্লী আর উকিল-শল্বীও 
নিজের নিজের আইবড় মেয়েদের বরণের পিছনে লোলয়ে 
শদয়েছেন। বেচারা কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। 


১৩৬০ 


৯২৯ 


আতার পায়েস 


রর জন্যই যে চুর তাতে একটা আনির্ধচনীয় আনন্দ 
পাওয়া যায়। দেশের কাজে চুরি, সরকারা কনা ছার, 


তহবিল তসরুফ, পকেট মারা, ইত্যাঁদর উদ্দেশ্য যতই মহৎ হক, 
তাতে আনন্দ নেই, শুধু স্থল স্বার্থাসিদ্ধি। গীঁতায় যাকে 
কাম্যকর্ম বলা হয়েছে, এসব চুরি তারই অন্তর্গত। কিন্তু ষে 
চুরি অহেতুক, যা শুধু অকারণ পুলকে করা হয়, তা 'নিত্কাম 
ও সার্ক, অনাবিল আনন্দ তাতেই মেলে। যশোদাদুলাল 
শ্রীক্চ ভালই খেতেন, কার্বোহাইড্রেট প্রোটীন ফ্যাট কিছুরই 
তাঁর অভাব ছিল না, তথাঁপ তিনি নি চুর করতেন। তাঁর 
কটিতটেব রঙিন ধটী যথেষ্ট 'ছিল, বস্াভাব কখনও হয় নি, 
তথাপি তান বস্মহবণ কবেছিলেন। এই হল নিক্কাম সাত্বক 
চুরির ভগবংপ্রদর্শিত নিদর্শন। রামগোপাল হাইস্কুলের মাষ্টার 
প্রবোধ ভটচাজ একবার এইরকম চুঁরতে জাঁড়য়ে পড়েছিল। 

প্রবোধ মাষ্টারের বয়স ন্রিশ, আমূদে লোক, ছাত্ররা তাকে 
খুব ভালবাসে । পুজোর বন্ধর দিন কতক আগে পাঁচটি ছেলে 
তার কাছে এল। তাদের মুখপান্ন পুধাঁর বললে, সার, মহা 
মূশকিলে পড়েছি। 

প্রবোধ জিজ্ঞাসা করলে, ব্যাপারটা কি? 


৯২২ ৫ 


আতার পায়েস 


-"গেল বছর আমার বড়-দার 'বয়ে হয়ে গেল জানেন তো? 
তার *বশুর ভৈরববাবু খুব বড়লোক, দেওঘরের কাছে গণেশ- 
মুণ্ডায় তাঁর একাঁটি চমৎকার বাঁড় আছে। বউ-ীদ বলেছে, সে 
বাড়ি এখন খাঁল, পূজোর ছুটিতে আমরা জনকতক স্বচ্ছন্দে 
িছাঁদন সেখানে কাটিয়ে আসতে পাঁর। 

--এ তো ভাল খবর, মুশকিল কি হল? 

-ভৈরববাবু বলেছেন, আমাদের সঙ্গে যাঁদ একজন 
আঁভভাবক যান তবেই আমাদের সেখানে থাকতে দেবেন। 

--তোমার বড়-দা আর বউ-ীদকে নিয়ে যাও না। 

--তা হবার জো নেই, ওরা মাইসোর যাচ্ছে। আপানিই 
আমাদের সঙ্গে চলুন সার। ক্লাস টেনের আম, ক্লাস নাইনের 
নিমাই নরেন সুরেন, আর ক্লাস এটের ন্ট, আমরা এই পাঁচ 
জন যাব, আপনার কোনও অসাবধে হবে না। 

সঙ্গে চাকর যাবে তো? 

- কোনও দরকার নেই। সেখানে দরোয়ান আর মাল 
আছে, তারাই সব কাজ করে দেবে। খাবার জন্যে ভাববেন না 
সার। আমরা সঙ্গে স্টোভ নেব, কাঁর পাউডার নেব, চা চাঁন 
গুড়ো দুধ আর বিস্কুটও দেদার নেব। ওখানে সস্তায় মুরগি 
পাওয়া যায়, বউ-দি কারি রান্না শিখিয়ে দিয়েছে। ওখানকার 
দরোয়ান পাঁড়েজী ভাত রুটি যা হয় বাঁনয়ে দেবে, আমরা 
নিজেরা দু বেলা ফাউল কারি রাঁধব। তাতেই হবে নাঃ 

প্রবোধ বললে, সব তো বুঝলুম, কিন্তু আমাকে নিয়ে যেতে 


১২৩ 


কৃষকাঁল 


চাও কেন? মান্টার সঙ্গে থাকলে তোমাদের ফুর্তির ব্যাঘাত 
হবেনা? 
সজোরে মাথা নেড়ে সুধীর বললে, মোটেই একদম একটুও 
ৃকচ্ছু ব্যাথাত হবে না, আপানি সে রকম মানুষই নন সার। 
আপান সঙ্গে থাকলে আমাদের তিন ডবল ফীর্ত হবে। 
নিমাই নরেন সরেন সমস্বরে বললে, নিশ্চয় নিশ্চয়। 
পিন্ট্‌ বললে, সার, কোনান ডয়েলের সেই লস্ট ওঅজ্ড 
শা্পটা ওখানে গিয়ে বলতে হবে কিন্তু । 
প্রবোধ যেতে রাজী হল। 


ওর আর জিডির মাঝামাঁঝ গণেশমুণ্ডা পল্লশটি 
8. উলচিবক বিস্তর সুদৃশ্য বাঁড়, পরিচ্ছন্ন 
রাস্তা, প্রাকৃতিক দৃশ্যও ভাল। ভৈরববাঝুর অদ্টালিকা ডৈরব 
কুটীর আর তার প্রকাণ্ড বাগান দেখে ছেলেরা আনন্দে উৎফুল্ল 
হল এবং ঘুরে ঘুরে চার দিক দেখতে লাগল। বাগানে অনেক 
রকম ফলের গাছ। গোটা কতক আতা গাছে বড় বড় ফল 
ধরেছে, অনেকগুলো একবারে তৈরী, পেড়ে খেলেই হয়। 
প্রবোধ বললে, ভারী আশ্চ্য তো,ঞটৈরুববাবর দরোয়ান 
আর মালী দেখাছ আত সাধ্য পর । 
সুধীর বললে। দেও রিনা আমি এখানে এসেই 
সব খবর নিয়েছি সারু।,দ্যুরায়ান মেহা পাঁড়ে আর মাল ছেদী 


৯২৪ 


আতা পায়েস 


মাহাতো এদের মধ্যে ভীষণ ঝগড়া । দুজনে দুজনের ওপর কড়া 
নজর রাখে তাই এ পর্যন্ত ফেউ' চুর করবার সুবিধে পায় শন? 

প্রবোধ বললে, আত্মকলহের ফলই এই। পাঁড়ে আর 
মাহাতো যদি একমত হত তবে স্বচ্ছন্দে আতা বেছে দিয়ে লাভটা 
ভাগাভাগ করে নিতে পারত । 


নিমাই বললে, আচ্ছা সার, আমাদের দেশনেতাদের মধ্যে 
তো ভীষণ ঝগড়া, তবুও চুর হচ্ছে কেন? 

সুধীর বললে, যা যাঃ। জেগ্াঁম কারস নি। আগে বড় হ, 
তার পর পলিটিক্স বুঝাব। 

ধনমাই বললে, যাঁদ দু-তিন সেব দুধ যোগাড় করা যায় তবে 
চমৎকার আতার পায়েস হতে পাববে। আম তৈরি করা দেখেছি, 
খশব সহজ । 

সুধীর বললে, বেশ তো, তুই তৈরী করে" দিসা। ও 
পাঁড়েজী, তুমি কাল সকালে তিন সেব খাঁটী দুধ আনতে 
পারবে? 

নাওয়া খাওয়া আর বিশ্রাম চুকে গেল। বিকেল বেলা সকলে 
বেড়াতে বেরুল। ঘণ্টা খাঁনক বেড়াবাব পর ফেরবার পথে 
সুধর বললে, দেখুন সার, এই বাঁড়টি কি সন্দর, ভীমসেন ' 
ভিলা । গেটের ওপর কি চমৎকার থোকা থোকা হলদে ফল 
ফুটেছে! 

১২৫ 


কৃষ্কাল 


আকাশের দিকে হাত বাঁড়য়ে পিন্টু চেশচয়ে উঠল --ওই 
ওই ওই একটা নীলফণ্ঠ পাখি উড়ে গেল! 

নিমাই বললে, এঁদকে দেখুন সার, উঃ কি ভয়ানক পেয়ারা 
ফলেছে, কাশীর পেয়ারার চাইতে বড় বড়! নিশ্চয় এ বাঁড়রও 
দরোয়ান আর মালীর মধ্যে ঝগড়া আছে তাই চুরি যায় নি। 

ফটকে তালা নেই। সুধীর ভিতরে ঢুকে এদক গাঁদক 
উপক মেরে বললে, কাকেও তো কোথাও দেখাঁছ না, কিন্তু 
ঘরের জানালা খোলা, মশার টাঙানো রয়েছে । বোধ হয় সবাই 
বেড়াতে গেছে । দরোয়ান, ও দরোয়ানজী, ও মালনী! 
' কোনও সাড়া পাওয়া গেল না। তখন সকলে িতবে এসে 
ফটকের পাল্লা ভেজিয়ে দিলে । 

নিমাই বললে, একটা পেয়ারা পাড়ব সার? 

প্রবোধ বললে, বাজাবে প্রচুর পেয়ারা দেখোছ, নশ্চয় খুব 
সঙ্তা, খেতে চাও তো কিনে খেয়ো। 'বনা অনুমাতিতে পরের 
দ্রব্য নিলে চুরি কবা হয় তা জান না? 

--জানি সার। চুরি কবব না, শুধু একটা চেখে দেখব 
কাশীর পেয়ারার চাইতে ভাল কি মন্দ। 

প্রবোধ পিছন ফিরে গম্ভীর ভাবে একটা তালগাছের মাথা 
নিরীক্ষণ করতে লাগল। মৌনং সম্মতিলক্ষণম- ধরে নিয়ে 
নিমাই গ্রাছে উঠল। একটা পেয়ারা পেড়ে কামড় দিয়ে বললে, 
বোম্বাই আমের চাইতে মিষ্ট! 

সুধীর বললে, এই নিমে, সাবূকে একটা দে। 


১২৬ 


আতার পায়েস 


নিমাই একটা বড় পেয়ারা নিয়ে হাত ব্ালয়ে বললে, এইটে 
ধরুন সার, একটু চেখে দেখুন দি চমৎকার। 


পেয়ারায় কামড় দিয়ে প্রবোধ বললে, সাঁত্যই খুব ভাল 
পেয়ারা । আর বেশী পেড়ো না, তা হলে ভারী অন্যায় হবে 
কণ্তু। লোভ সংবরণ করতে শেখ। 

ততক্ষণ 'নমাইএর সব পকেট বোঝাই হয়ে গেছে, তাব 
সঙ্গীরাও প্রত্যেকে দু-তিনটে করে পেয়েছে। সুধীর বললে, 
এই মে, শুনতে পাচ্ছস না বাঁঝ? সাব রাগ করছেন, নেমে 
আয় চট করে, এক্ষুনি হয়তো কেউ এসে পড়বে। , 

হঠাৎ ক্যাঁচ করে গেটটা খুলে গেল, একজন মোটা বৃদ্ধ 
ভদ্রলোক আর একাঁট বোগা বদ্ধা মাহলা প্রবেশ করলেন। 
দুজনের হাতে গামছায় বাঁধা বড় বড় দুটি পোঁটলা। নিমাই 
গাছের ডাল ধরে ঝুলে ধূপ করে নেমে পড়ল। 

বৃদ্ধ চেচিয়ে বললেন, জ্যাঁ, এসব ক, দল বেধে আমার 
বাঁড় ডাকাত করতে এসেছ! ভদ্রলোকের ছেলের এই কাজ ? 
ঝক্ব সং, এই ঝব্বু সিং-বেটা গেল কোথায় 2 

পোঁটলা দুটি নিয়ে মহিলা বাঁড়র মধ্যে চুকলেন। ঝাব্ধ 
সং এক লোটা বৈকালিক ভাং খেয়ে তার ঘরে ঘুমুচ্ছিল, এখন 
মানবের চিৎকারে উঠে পড়ে চোখ রগড়াতে রগড়াতে বোঁরয়ে 
এল। সে হঁশিয়ার লোক, গেটে তাড়াতাঁড় তালা বন্ধ করে 
লাঠি ঠুকতে ঠুকতে বললে, হুজুর, হবকুম দেন তো থানে মে 

১২৭ 


কষকাঁলি 


খবর দিয়ে আসি। হো বৈজনাথজশী, ছিয়া ছিয়া, ভদ্দর আদমণর 
ছেলিয়ার এহ কাম! 

হুজুর বললেন, খুব হয়েছে, ডাকাতরা চোখের সামনে গব 
লুটে নিলে আর তুমি বেহশ হয়ে ঘুমুচ্ছলে! তার পর, 
মশায়দের কোথেকে আগমন হল? এরা তো দেখাঁছ ছোকরা, 
বজ্জাতি করবারই বয়েস; কিন্তু তুমি তো বাপ? খোকা নও, 
তুমিই বুঝ দলের সদ্দার? 

প্রবোধ হাত জোড় কবে বললে, মহা অপরাধ হয়ে গেছে 
লার। এই নিমাই, সব পেয়ারা দরওয়ানজীর 'জিম্মা করে দাও। 
আমরা বেশী খাই 'ন সার, মাত্র দু-তিনটে চেখে দেখোছি। আত 
উৎকৃষ্ট পেয়ারা । 

-কৃতার্থ হলুম শুনে । এরা বোধ হয় স্কুলের ছেলে। 
তোমার কি করা হয়* নাম কি? 

আজে, আমার নাম প্রবোধচন্দ্র ভট্টাচার্য মানিকতলার 
রামগোপাল হাই স্কুলের মাষ্টার । এরা সব আমার ছান্র, পূজোর 
ছুটতে আমার সঙ্গে বেড়াতে এসেছে। 

-খাসা আভিভাবকটি পেয়েছে, খুব নীতিশিক্ষা হচ্ছে! 
আমাকে চেন? ভীমচন্দ্র সেন, রিটায়ার্ড ভিস্টরিই ম্যাজিস্ট্রেট 
রায়বাহাদুর খেতাবও আছে, কিল্তু এই স্বাধীন ভারতে সেটার 
আর কদর নেই। বিস্তর চোরকে আঁম জেলে পাঠিয়োছি। 
তোমার স্কুলের সেক্রেটারিকে যাঁদ লিখি--আগপনাদের প্রবোধ 


৯১২৮ 


আতর পায়েস 


মাষ্টার এখানে এসে তার ছাত্রদের চারাবদ্যে শেখাচ্ছে, তা হলে 
কেগন হয়ঃ 

-যাঁদ কর্তব্য মনে করেন তবে আপাঁন তাই লিখুন সার, 
আমি আমার কৃতকর্মের ফল ভোগ করব। তবে একটা কথা 
নিবেদন করছি। কেউ অভাবে পড়ে চার করে, কেউ বিলাসতার 
লোভে করে, কেউ বড়লোক হবার জন্যে করে। কিন্তু কেউ কেউ, 
বিশেষত যাদের বয়েস কম, নিছক ফার্তির জন্যেই করে। আমি 
অবশ্য ছেলেমানুষ নই, কিন্তু এই ছেলেদের সঙ্গে মিশে, এই 
শরৎ ধতুর প্রভাবে, আর আপনার এই সুন্দর বাগানটির শোভা 
মুগ্ধ হয়ে আমারও একটু বালকত্ব এসে পড়েছে। এই যে, 
পেয়ারা চুর দেখেছেন এ ঠিক মামুলী কুকর্ম নয়, এ হচ্ছে শুধু 
নবীন প্রাণরসের একট] উচ্ছলতা। 

--হঃ। ওরে নবীন ওরে আমার কাঁচা, পুচ্ছটি তোর উচ্চে 
তুলে নাচা। রাঁব ঠাকুর তোমাদের মাথা খেয়েছেন। বিয়ে 
করেছ ? 

--করোছি সার। 

--তবে পূজোর ছুটিতে বউকে ফেলে এখানে এসেছ কি 
করতে? বনে না বাঁঝ? 

আজে, খুবই বনে। কিল্তু তিনি তাঁর বড়লোক দাদ 
আর জামাইবাবূর সঞ্জোে শিলং গেলেন, আমি এই ছেলেদের 
আবদার ঠেলতে পারলুম না তাই এখানে এসোছি! সার, যে 
কুকর্ম করে ফেলোছি তার বিচার একট; উদার ভাবে কর্দন। 


২) ৯২৭) 


কৃফকাল 


আপনি ধাঁর 'স্থর প্রবীণ বিচক্ষণ ব্যন্তি, ছেলেমানুষাঁ ফৃতিরি 
বহু উধের্য উঠে গেছেন -- 

--কে বললে উধের্ব উঠে গেছি? আমাকে জরদখব 1গধড় 
ঠাউরেছ নাকি ? 

--তা হলে আশা করতে পারি ক ষে আমাদের ক্ষমা 
করলেন আমরা যেতে পাঁর কি? 

--পৈয়ারাগুলো নিয়ে যাও, চোরাই মাল আম স্পর্শ কার 
না। আচ্ছা, এখন যেতে পার, এবারকার মতন মাপ করা গেল। 

এমন সময় মহিলাটি বাইরে এসে বললেন, কি বেআকেলে 
মোনুষ তুমি, এরা তোমার এজলাসের আসামী নাকি? তুমি 
এদের মাপ করবার কেঃ তোমাকে মাপ করবে কে শান? 
এখন যেয়ো না বাবারা, এই বারান্দায় এসে একটু ব'স। 

ভীমবাবু বললেন, এদের খাওয়াবে নাকি 2 তোমার ভাড়ার 
তো ঢুঢু, চা পধন্তি ফরিয়ে গেছে, হরি সরকার বাজার থেকে 
ফিরলে তবে হাড় চড়বে। 

--সে তোমাকে ভাবতে হবে না, যা আছে তাই দেব। 
শমনিট দশ সবূর করতে হবে বাবারা । 

গৃহিণী ভিতরে গেলে ভীমবাবু বললেন, উনি ভীষণ চটে 
গেছেন, না খাইয়ে ছাড়বেন না, অগত্যা ততক্ষণ এই এজলাসেই 
তোমরা আটক থাক। এখানে উঠেছ কোথায় ? 

প্রবোধ বললে, ভৈরব কুটীরে, স্টেশনের দিকে যে রাস্তা 
গেছে তারই ওপর। 


১৩০ 


আতার পায়েস 


ভীমবাব: বললেন, কি সর্বনাশ! যার ফটকের পাশে বেশনণ 
বুগনভিলিয়ার ঝাড় আছে সেই বাঁড়? 

--আজে্ হাঁ। বাঁড়টার কোনও দোষ আছে? 

-নাঃ দোষ তেমন কিছ? নেই। তোমরা ওখানে উঠেছ 
তা ভাবি 'ন। 

নিমাই বললে, ভূতে পাওয়া বাড়ি নাকি ? 

--ভূত কোন বাঁড়তে নেইঃ এ বাঁড়তেও আছে। ও 
পাড়াটায় বন্ড চোরের উপদ্রব, এ পাড়ার চাইতে বেশী । 

একট, পরে ভীমবাবূর পত্রী একটা বড় ট্রেতে বাঁসয়ে একটি 
ধূমায়মান গামলা এবং গোটাকতক বাটি আর চামচ নিয়ে এলেন। 
ভীমবাব্‌ একটা টেবিল এগিয়ে দিয়ে বললেন, এ কি এনেছ, 
আতার পায়েস যে! এর মধ্যেই তৈরি কবে ফেললে ? 

গৃহিণী বললেন, আর তো কিছ নেই, এই 'দিয়েই ছেলেরা 
একট. মাঁষ্টমুখ করুক। 

ভীমবাবু বললেন, সবটাই এনেছ নাক” 

--হ্যাঁ গো হ্যাঁ, তুমি আর লোভ ক'রো না বাপু। ছেলেবা 
যে পেয়ারা পেড়েছে তাই না হয় একটা খেয়ো। চিবুতে না 
পার তো সেদ্ধ করে দেব। 

সুধীর সহাস্যে বললে, সার, আমাদের ওখানে বিস্তর আতা 
ফলেছে, ইয়া বড় বড়। কাল সকালে পায়েস বানিয়ে আপনাদের 
'দিয়ে যাব। 

ভীমবাব্‌ বললেন, না না, অমন কাজটি করো না। আতা 
আমার সয় না। 


১৩৯ 


কষকাঁল 


(ভি এস ই বলল ক, গার 
চাননি নিজ 

সুধীর বললে, বোধ হয পাঁড়েজী সন্ধার করে পেড়ে 
রেখেছে । ও পাঁড়ে, আতা কি হজ? 

/ পাঁড়ে ব্যস্ত হয়ে এসে মাথায় একটু চাপড় মেরে করুণ 
কণ্ঠে বললে, কি কহবো হুজুর, বহৃতি ঝমেলা হয়ে গেছে। 
এক মোটা-পা বুঢ্া বাবু আর এক দুবলা-সা বূড্রী মাঈ 
এসোঁছিল। বাবু পটপট সব আতা 'ছি'ড়ে লিলে। আমি 
মানা করলে খাফা হয়ে বললে, চোপ রহো উল্লু। আমার ডর 
লাগল, শায়দ কোই বড়া অপসর উপসরকা বাবা উবা হোবে-_ 

সুধীর বললে, হাতে লাল গামছা ছিল? 

--জশী হাঁ উস মে তো বাঁধ কে লিয়ে গেল। 


হাসির প্রকোপ একটু কমলে নিমাই বললে, হলধর দত্তর 
'্বোরে চোরে' গঞ্পর চাইতে মজার! 

প্রবোধ বললে, যাক, আমরা ঠাঁক নি, আতার পায়েস 
খেয়েছি, পেয়ারাও পেয়েছি। কিন্তু ভীমচন্দ্র সেন মশায়ের 
জন্য দুঃখ হচ্ছে, তাঁর গিল্ন তাঁকে বণ্চিত করেছেন। 

নিমাই বললে, ভাববেন না সার, দিন দুই পরেই আবার 
তাঁর গিন্নীকে খাওয়াব। 


৬৩৬০ 
১৩২৭ 


ভবাতী 


বতোষ সরকারের বয়স 'তপ্পান্ন॥ উলল:ুবেড়ের সবডেপুটি 

ছিলেন, তন বছর হল চাকরি ছেড়েছেন। এখন কেবল 
গড়েন আব ভাবেন। নিঃসন্তান, স্ব আছেন। কলকাতার ভাড়া 
বাঁড়তে বাস করেন, পেনশন যা পান তাতে কোনও রকমে 
সংসার চলে। ৃু 

সকাল আটটা । দোতলায় পসিণড়ব পাশে একটি ছোট 
ঘরে তন্তাপোশে ছেড়া শতবজিব উপর বসে ভবতোষ চোখ 
বুজে কি একটা 'ভাবছেন। তাঁর দুই ভক্ত জতেন আব বিধু 
মেঝেতে মাদুরেব উপর বসে আছে। 

জিতেন বললে, প্রভু, শুনছেন? 

ভবতোষেব সাড়া নেই। 

জিতেন। প্রভু, ও প্রভু, দয়া করে একবাবাঁট শুনুন । 

এবারে ভবতোষেব হুশ হল। বললেন, আঃ কেন 
খামকা প্রভু প্রভু করছ? আমি সামান্য মানুষ, কাবও প্রভূ 
নই। ফেব যাঁদ প্রভু বল তো সাড়া দেব না। 

জতেন। বুঝেছি। আচ্ছা ঠাকুর 

ভবতোষ। দেবতা আর নিজ্ঞবান ব্লাহমণকেই ঠাকুর বলে। 


রর 


সক 


কৃষকাঁল 


রাবার রসংয়ে বামন আর পাশ্চম অঞ্চলে নাপিতকেও ঠাকুর 


বলে। আম কায়স্থসন্তান, চাকুর হতে পারি না। 

হাত জোড় করে দিতেন বললে, প্রভু, কায়স্থরা তো 
ক্ষত্রিয়, জনক আর শ্রীকৃষ্ণের সজা'তি। তাঁদের মতন আপাঁনও 
তত্কথা বলে থাকেন, আপনার ব্রাহ্ণ ভন্তও অনেক আছে। 
দয়া করে যাঁদ পইতৈটি নিয়ে ফেলেন আর মাথায় একাঁট শিখা 
রাখেন তবে আর সংকোচের কারণ থাকবে না। 

ভবতোষ। দেখ জিতেন, হাজার বছর আগে হয়তো 
আমার পূর্বপঃরূষরা পইতে ধারণ করতেন, কিন্তু পরে 
প্লাহমণদের আজ্ঞায় তাঁরা ত্যাগ করেছিলেন! আমার ঠাকুরদার 
কাছে তাঁর ঠাকুরদার বর্ণনা শুনেছি- পরনে খাটো ধূতি, গায়ে 
মেরজাই, কাঁধে কৌঁচানো চাদর, পায়ে নাগরা, মাথায় 'টিকি, 
কপালে ফোঁটা, আর মুখে ফারসী বুল। আমার ঠাকুরদা 
আত বুদ্ধিমান ছিলেন, মুরাঁগ খেতে শিখে টাক ফোঁটা 
আর ফারসী 'তিনটেই ত্যাগ করেন। 

জতেন। পাদরীদের পাল্লায় পড়েছিলেন বুঝি ? 

ভবতোষ। কারও পাল্লায় পড়বার লোক তিনি 
ছিলেন না। 

বিধু বললে, ওহে জিতেন, ইনি পইতে আর টিকি নাই 
বা ধারণ করলেন, পুরূত ঠাকুর সাজলে এপ্র মহত্ব কিছু-মান্র 
বাড়বে না। আমি বলি কি, ইনি দাঁড় রাখুন, চুল বাড়তে 
দিন, গেরুয়া কাপড় পরুন, আর গোটা কতক মোটা মোটা 


৯৩৪ 


ভবতোষ ঠাকুর 


রদ্্াক্ষের নি হারা নি ভাবার নন 
লক্ষণ। 
ভবতোষ মাথা নাড়লেন। 

বিধু। আচ্ছা, দাঁড় জটা রাদ্রাক্ষ না হয় বাদ দিলেন। 
গোঁফটা কামিয়ে ফেলুন, গেরুয়া সিল্কের ধুতি পঞ্জাব 
পরুন, মাথায় গেরুয়া পাগাঁড় বাঁধন, কিংবা কানঢাকা 
টুপ পরুন। তত্ৃদর্শী স্বামী মহারাজদের বেশ ধারণ 
করুন। 

ভবতোষ! আমি সাধু মহাত্মা নই, তত্ৃদশারও নই। 
আমার সাজ ধা আছে তাই থাকবে। 

[জিতেন। এইবারে বুঝেছি । মুস্তপুরুষদের পইতে িকি 
জটা গেরুয়া রুদ্রাক্ষ কিছুই দরকার হয় না। কিন্তু আপনাকে 
তো নাম ধরে ডাকা চলবে না। সবাই আপনাকে ঠাকুর বলে, 
আমরাও তাই বলব। দোহাই, এতে আপান্ত করবেন না। 
বলছিলুম কি--আপাঁন তো জীবল্মুন্ত পুরুষ, গৃহে বাস 
করলেও সংসারত্যাগী সন্ন্যাসী, আপনার মুখের একটু কথা 
শোনবার জন্যে জজ ব্যারিস্টার ডান্তার প্রোফেসার মেয়ে- 
পুরুষ সবাই লালায়ত। সবাই জানতে চায়-ইনি কি ব্রহন্প- 
জ্ঞানী পশ্ডিত, না যোগাঁসদ্ধ মহাপুরুষ ১ পরমহংস, না 
শুধুই পরম ভন্তঃ ভগবানের অংশাবতার, না ষোল আনা 
ভগবান ? কি বলব ঠাকুর ? 

ভবতোষ। বলবে, ইনি একজন 'রিটায়ার্ভ সবডেপুটি। 


৯) 2 


কৃষকালি 


এই সময় ভবতোষের বাল্যবন্ধ্য নিখিল বাঁড়ুজ্যে এলেন। 
বললেন, কি হে ভবতোষ, কি রকম চলছে? বিস্তর ভন্ত 
জুটিয়েছ শুনাছি, সুবিধে কিছু করতে পারলে? 

ভবতোষ। নাঃ। যাঁদ কোথাও একটা 'নাঁরাবাল গুহা 
পাই তো পালিয়ে গিয়ে সেখানে ঢুকব। 

নিাখিল। পালাবে কেন। রামকৃফদেব তো ভন্তপারবৃত হয়ে 
সখে বাস করতেন। 

ভবতোষ। তিন পরমহংস ছিলেন, তাঁব মতন ধৈর্য 
কোথায় পাব। তবে তিনিও মাঝে মাঝে উত্তন্ত হয়ে শালা 
বলে ফেলতেন। 

জিতেন। নির্জন আশ্রমের অভাব ক ঠ্াকুরঃট আপাঁন 
একবারাঁট হাঁ বলুন, আপনার ভক্তরা বরানগরে বা কাশীতে 
বা রাঁচিতে চমৎকার আশ্রম বানিয়ে দেবে। 

নাখল। রাজন হয়ে যাও হে, তিন জায়গাতেই আশ্রম 
করাও । দু-চারটে গেস্ট রুম রেখো, আমরাও মাঝে মাঝে গিয়ে 
থাকব। এমন সুবিধে ছেড়ো না ভবতোষ। 

জিতেন। দেখুন নিখিলবাবূ, আপানি ঠাকুরকে নাম ধরে 
ডাকবেন না, তুমিও বলবেন না, তাতে আমরা বড় ব্যথা পাই। 

নিখিল। বেশ বেশ, আমিও এখন থেকে ঠাকুর আর 
আপাঁন বলব। কিন্তু বখন আর কেউ থাকবে না তখন নাম 
ধরেই ডাকব। কি বলেন ঠাকুর? 

ভবতোষ। হাঁ হাঁ। 


৮ পৃ 


ভবতোষ ঠাকুর 


রা রাাগগ 
'জতেন আর বধূ নীচে নেমে গেল। 

নিখিল বললেন, আচ্ছা ভবতোষ, তুমি তো বলতে যে 
কর্ম যোগ শ্রেম্ত যোগ, লোকসংগ্রহ অর্থাৎ লোকচরিন্রের উন্নাতি 
সাধনই শ্রেষ্ঠ কর্ম। তবে এখন 'নিজনে থাকতে চাচ্ছ কেন? 
শুধু নিজের মুক্তির জন্যে লুকিয়ে তপস্যা, আর নিজের পেট 
ভরাবার জন্য লুকিয়ে খাওয়া, দুটোই তো স্বার্থপরতা । 

ভবতোষ। আমি অক্ষম দুর্বল, বন্তুতা 'দতে পাঁর না, 
ধর্মপ্রচার করতে পার না, কর্তন গাওয়া আসে না, লোক- 
শিক্ষার পদ্ধতিও জান না। বুদ্ধ বিশ শংকর চৈতন্য রাম- 
মোহন রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ গান্ধী-এঞদের শাস্তর কণামান 
আমার নেই, তাই শুধু আত্মচিন্তা করি। কেউ যাঁদ আমার 
কাছে কিছ জানতে চায় তো যথাব্যাদ্ধ বাঁল। কন্তু মুশকিল 
হচ্ছে, সত্য কথা শুনতে কেউ চায় না, সবাই স্বার্থাসাদ্ধর সোজা 
উপায় বা অলৌকিক শান্ত খোঁজে । 

1জতেন ফিরে এসে বললে, ঠাকুর, আজ বেশী লোক আসে 
শন, সবাই ভোট দিতে গেছে তি না। চার পাঁচ জন লোক নীচে 
দর্শনের জন্যে অপেক্ষা করছে। 

শনাখল। কি রকম লোক িতেনবাবু 2 

জতেন। সেই গাঁতায় যেমন চতুবিধা ভজন্তে মাং আছে-” 
আর্ত, জিজ্ঞাস, অর্থার্থি আর জ্ঞানী । 

ভবতোধষ। জ্রানীদের চলে যেতে বল, তাদের ধখন জ্ঞান 


১৩৭ 


কৃষ্ষকলি 


আছেই তবে আবার এখানে কেন। অর্থথাঁদেরও বলে দাও 
আমার অর্থ দেবার সামর্থ নেই। আর যারা এসেছে একে একে 
পাঠিয়ে দাও। 

গজতেন বোরয়ে গেলে 'নাখল প্রশ্ন করলেন, একে একে 
পাঠাতে বললে কেনঃ ও তো 'বালতী কায়দায় ইন্টারভিউ । 
ভক্তের দল মহাপুরুষকে সর্বদা ঘিরে থাকবে এই তো চিরকেলে 
দস্তুর। 

ভবতোষ। যারা দেখা করতে আসে তাদের সকলের 
মৃতগাতি তো সমান নয়, যে যেমন তাকে সেই রকম উত্তব 
দিতে হয়। বুদ্ধিভেদ করতে গীতায় নিষেধ আছে। 


থমে এলেন মাধব ধর। ইনি একজন জিজ্ঞাসু। ধর 
আপনার কৃপায় আমার অভাব কিছ; নেই, ব্যবসা ভালই চলছে, 
বাঁড়র সবাই ভালই আছে। শুধু একটা সমস্যা সমাধানের 
জন্যে আপনার কাছে এসেছি। 

ভবতোষ। আপনার অভাব কিছ নেই শুনে বড় আনন্দ 
হল ধর মশায়, আপনি ভাগ্যবান লোক। আপনাব সমস্যাটি 
কি তা বলুন। 

মাধব । হে+ হে আমাকে মশায় বলবেন না, আমি আপনার 
দাসানুদাস। সমস্যাটা হচ্ছে--ঠিকুজিতে আমার পরমাই লেখা 
আছে পণ্চানব্বই বছর, এখন সবে ষাট চলছে? কিন্তু সোঁদন 


১৩৮ 


ভবতোষ ঠাকুর 


তারাদাস জ্যোতিষী হাত দেখে বললেন, পণ্চান্তরেই মত্যুযোগ । 
ধরুন যাঁদ পশ্চাত্তরেই মারা বাই তবে বাকী বিশ বছরের কি 
হবে১ কোম্ঠী আর কররেখা কোনওটা তো মিথ্যে হতে 
পারে না। 

ভবতোষ। ওহে নাখল, তুমি তো একজন বড় 
আযাকাউন্টান্ট, ধর মশায়ের প্রশ্নাটির জবাব তুমিই দাও। 

নাখল। নিশ্চিন্ত থাকুন ধর মশায়, বাকী বিশ বছর 
পরজন্মে ক্যারেড ফরোআর্ড হবে। "প্রীভিলেজ লীভ আর 
পরমায় পচে যায় না। 

ধর মশায় ভাবতে ভাবতে প্রস্থান করলেন। শ্রীপাঁত রায় 
ঘরে এলেন। 

ভবতোষ। আসুন শ্রীপাঁতিবাব। আজ আবার কি মনে 
করে? আম নিতান্ত আকণ্ণন তা তো সোঁদন বলেই দিয়োছ। 
আমার কাছে কিছ প্রত্যাশা করবেন না। 

শ্রীপাতি। হে* হে+ আমাকে শ্রীপ্পাতিবাবু বলবেন না, শুধু 
শ্রীপাতি বা ছিরু। বয়সে আপনার চাইতে কিছু বড় হলেও 
আমি আপনার দাসান্দাস। বড় দুর্ভাবনায় পড়ে আপনার 
কাছে এসৌছি। 

ভবতোষ। বলে ফেলুন। 

শ্লীপাতি। আপনার আশীর্বাদে আমার সাত ছেলে, তিন 
মেয়ে, তা ছাড়া 'গন্নী আছেন। আমার বয়স পণ্মষাটর হল, 
রাড প্রেশার ভায়াবাটস বাত সবই আছে, কোন দিন মরব 


৯৩৯ 


কৃষি 


কিছুই ঠিক নেই। গিল্লীর বুদ্ধি শাঁদ্ধ নেই, সাত ছেলের 
'একটাও মানুষ হল না, তিনটে মেয়ে প্রেম করতে গিয়ে তিন 
ব্যাটা ওআথণলেস 'বর জুঁটিয়েছে। তাই এমন ব্যবস্থা করে 
দিতে চাই যাতে আমার অবর্তমানে এদের কোনও অভাব 
না থাকে । 
ভবতোষ। আপনার ভাবনা কি, শুনতে পাই আপানি 
কোটপাতি। আযটার্নকে বলুন, তিনিই ব্যবস্থা করে দেবেন। 
শ্রীপতি। কি জানেন, সাত ছেলের প্রত্যেককে দশ লাখ 
দিতে চাই, তিন মেয়ে আর 'গল্লশকে সাত সাত লাখ। তার 
কমে এই মাগি গণ্ডার দিনে চলতেই পারে না। তা ছাড়া 
মানত করেছি আপনার জন্যে একটি ভাল আশ্রম আর দেব" 
মান্দির বানিয়ে দেব, তাতেও লাখ দুই লাগবে। একুনে দরকার 
এক ক্রোর, কিন্তু আমার পঃজ মোটে পণ্চাঁশ লাখ। আরও 
পনরো লাখ না হলে চলবে না তাই আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। 
ভবতোষ। আপাঁন বিচক্ষণ ব্যবসায়ী হয়েও বিষ্বাস 
কররন আম আপনাকে পনরো লাখ পাইয়ে দিতে পারি? 
শ্রীপাতি। বিশ্বাস কার বই কি ঠাকুর। আমার বাবসা 
বাঁদ্ধিতে যা হয় না আপনার দৈব শান্তিতে তা নিশ্চয় হবে। 
ভবতোষ পিছন ফিরে চোখ বুজে অন্যমনস্ক হয়ে রইলেন। 
শ্রীপতি বললেন, কি মুশাকল, ঠাকুর সমাধিস্থ হলেন দেখাঁছ। 
'আমার আবার তাড়া আছে, দলবল নিয়ে পোঁলং স্টেশনে যেতে 
হবে! আচ্ছা নিখিলরাবু, আপনি তো ঠাকুরের অন্তরঙ্গ, 


১৪০ 


ভবতোষ ঠাকুর 


্রীগোৌরাজ্গের যেমন নিত্যান্দ। আপানই দয়া করে আমার 
জান্যে ঠাকুরকে একটু ধরুন না। 

নাঁথিল। দেখুন মশায়, কেউ যখন বড় ডান্তারকে কনসল্ট 
করতে আসে তখন প্রথমেই জানায় আগে কি রকম চিকিৎসা 
হয়েছিল, কোন কোন ডান্তার দেখোঁছল, কি ক ওষুধ 
খেয়েছিল। আগে আপনার কেস হিস্টরি অর্থাং পূবের 
ক্রিয়াকলাপ খোলসা করে জানাতে হবে। কালোবাজার, পারীমট, 
কনার, চাল চিনি কাপড় সরবরাহ, ভেজাল ঘ তেল ওষুধের 
ব্যবসা--এসব চেষ্টা করে দেখেছেন কি? 

শ্রীপাতি। সবই দেখোঁছি দাদা, কিন্তু তেমন সুবিধে করতে 
পাঁর নি। হাজার হক আমি বাঙালীর সন্তান, ধর্মজ্ঞান আছে, 
কালচার আছে, টুপি-পাগড়িধারীদের মতন বেপরোয়া ব্যবসা 
বুদ্ধি নেই। 

নাখল। ফটকা বাজার, লটারি, রেস-এসব চেষ্টা করে 
দেখেছেন ? 

্রীপাতি। ওসবেও কিছ হয় নি। তিনজন রাজজ্যোতিষীর 
কাছে টিপ্‌স নিয়েছি, শনিমান্দরে পূজো 1দয়োছ, বগলামুখী 
করচ আর ধূমাবতী মাদুলি ধারণ করেছি, রন্তমূখী নীলার 
আংটিও পরোছি। কিছুই হল না, শুধু বিস্তর টাকা গচ্চা 
গেল। সব ব্যাটা ঠক জোচ্চোর। 

নাখল। তাই তো রায় মশায়, কিছুই বাকী রাখেন বি 
দেখছি। আছা, সোনা করবার চেষ্টা করেছেন ? 

১৪১ 


কৃষকলি 


মীপাঁত রায় সোংসাহে বললেন, এইবার কাজের কথা 
বলেছেন 'নিখিলবাধু। ঠাকুর জানেন নাক সোনা করতে ? 

নাখল। ঠাকুর সবই জানেন, কিন্তু কিছ করবেন না। 
পরমহংসদেবের মতন ইনিও বলেন-টাকা মাঁট, মাটি টাকা। 
সোনা তোর হল বিজ্ঞানীর কাজ, পরমাণ্‌ চুরমার করে আবার 
গড়তে হয়। আপান ডক্টর বাঞ্থারাম মহাপান্রকে ধরূন। তান 
আমেরিকা থেকে সোনা তোর শিখে এসেছেন, কিন্তু 
জ্যাবরেটারর অভাবে কিছ করতে পারছেন না। আপাঁন লাখ 
পাঁচ-ছয় খরচ করে ল্যাবরেটার বানিয়ে দিন, তিনি আপনার 
বাঞ্চা পূর্ণ করবেন। 

শ্রীপাঁত। তিনি কিছ; সোনা করে নিলেই তো তাঁর টাকার 
যোগাড় হয়। 

নাখল। আপনি যে উলটো কথা বলছেন মশায়। আগে 
শারু তার পর দুধ, আগে ল্যাবরেটরি তবে তো সোনা। 

শ্রীপাতি রেগে গিয়ে বললেন, ও-সব ধাস্পাবাজতে 
তভোলবার লোক আমি নই। আপনাদের সেরেফ বৃজব্ঁক। 

'নাখিল। ঠিক ধরেছেন শ্লীপাঁতিবাবু। আচ্ছা, এখন আসুন, 
নমস্কার। 


তেন আর বিধূর সঙ্গে অজয় ঘোষাল আর তার স্ত্রী 

সূভদ্রা এল, দুজনেরই বয়স কম। এরা পাশের বাঁড়তে 

থাকে। ভবতোষের পায়ের উপর আছড়ে পড়ে সভদ্রা বললে, 
৯৪২ 


ভবতোষ ঠাকুর 


আমার ছেলেকে ফিরিয়ে আনুন বাবা, তাকে হারয়ে আম কি 
করে বাঁচব ? 

বিধ চুঁপিচুপ ভবতোষকে বললে, এদের একমান্র ছেলোট 
টাইফয়েডে ভুগে কাল মারা গেছে। 

ভবতোষ বললেন, স্থির হয়ে ব'স মা, আমার পা ছাড়। 
চোখে মুখে একটু জল দাও,বিধ শিগগির একটু জল 
আন। আগে একট শান্ত হও, নইলে আমার কথা বুঝাতে 
পারবে কেন। 

পুভদ্রা। আমার তিন বছরের খোকা, পদ্মফুলের মতন 
ছেলে, কোথায় গেল বাবা ? 

৮ 
সুখে আছে। স্বর্গে গিয়ে কিংবা পরজন্মে তুমি তাকে ফিরে 
'পাবে। 

সুভদ্রা। ভগবান কেন তাকে নিলেন? তার খেলনা যে 
চারাদকে ছড়ানো রয়েছে, তার হাঁস কান্না আবদার দি করে 
ভুলব বাবা, এই শোক কি করে সইব? 

ভবতোষ। মহা মহা দঃখও ক্রমশ সয়ে যায়, তুমিও সইতে 
পারবে । ভগবান ধা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন--একথা 
বিশ্বাস কর তো? 

সুভদ্রা। না বাবা, করি না। এই সর্বনাশ করে ভগবান 
আমার কি মগ্গল করলেন? এত সব বুড়ো বুড়ী রয়েছে, 
তাদের ছেড়ে আমার খোকাকে নিলেন কেন? 


১৪৩ 


কষফকালি 


ভবতোষ। ভগবান কেন ক করেন অজ বোঝা তো আমাদের 
সাধ্য নয়। পূর্বজল্মের কমলে লোকে ইহজল্মে সুখ দুঃখ 
(ভোগ করে -- একথা বিশ্বাস কর তোঃ 

সুভদ্রা। পূর্ধজন্মের কথা জানি না বাবা। কার পাপের 
ফলে আমার খোকা অকালে গেল 2 তার নিজের পাপ, না তার 
বাপের, না আমারট দ্য়াময় ভগবান আমাদের পাপ করতে 
দয়োছলেন কেন? ঢের বড় বড় পাপশকে তো তান সুখে 
রেখেছেন 

ভবতোষ । মা, এখন তুমি বড় ব্যাকুল হয়ে আছ, পাপ 
পুণ্য কমফিল এসব কথা এখন থাক, আগে তুমি একটু স্থির 
হও । তোমার মনে ভক্তি আছে ? 

সুভদ্রা। ভক্তি তো ছিল বাবা, এখন যে হতাশ হয়ে গোঁছ। 
ধনি আমার ছেলেকে কেড়ে নিলেন তাঁকে ক করে ভন্তি করব 2 

ভবকত্োষ । আচ্ছা, সে কথা পরে হবে, এখন শহধদ মন শান্ত 
কর। যত পার জপ কর, স্তব পাঠ কর। 

ুভদ্রা। কি জপ করব, কি স্তব করব, বলে দিন বাবা। 

ভবতোষ। যা তোমার ভাল লাগে --হাঁরনাম, বনাম, 
দুগণনাম, সত্যং শিবসন্দরম। এই স্তবমালা বইখান নিয়ে 
ফা, যে স্তব তোমার পছন্দ হয় আবৃত্তি কবো। ভগবানকে 
বালো-_'দুঃখ-তাপে ব্যথিত চিতে নাই বা দিলে সান্ত্বনা, দুঃখে 
যেন করিতে পারি জঙ্। 

সুভদ্রা। আবার কবে আদব বাবা £ 


৯১৪৪ 


ভবতোষ ঠাকুর 


ভবতোধ। তুমি ব্যস্ত হয়ো না, আম তোমাকে ডেকে 
শপাঠাব। 

সুভদ্রার ছোট ভাই বাইরে অপেক্ষা করাছল, সে তার 
খ্দাঁদকে নিয়ে চলে গেল। 

সুভদ্রার স্বামী অজয় বললে, আমার ব্যবস্থা কি করবেন 
ঠাকুর ? 

ভবতোষ। তোমার স্ল আর তোমার একই: ব্যবস্থা । তুমি 
পুরুষ মানুষ, সহজেই শোক দমন করতে পারবে, দ্তীকেও 
সান্তনা দেবে। ওঁকে নিয়ে দিনকতক তাঁর্থভ্রমণ করে এস। 

অজয়। ঠাকুর, এত শোকের মধ্যেও আপনার কাছে স্বীকার 
করছি--আমি বড় অবিশ্বাসী, দয়াময় ভগ্রবানে আমার আস্থা 
নেই। স_ভদ্রাকে যা বললেন, তাতে আম শান্তি পাব না। 

নাখল। আপনাদের কথার মধ্যে আমি কথা বলছি, 
অপরাধ নেবেন না ঠাকুর। এই অজয়কে আমি খুব জানি, এর 
অহেতুকণ ভান্ত হবে এমন মনে হয় না। কর্মফল, জন্মান্তর, 
পরলোকে পানর্মিলন, মঙ্গলময় ঈশ্বর--ইত্যাঁদ মামুলী 
প্রবোধবাক্যে অজয় সান্বনা পাবে না। তোতা পাখির মতন 
স্তবপাঠেও এর ?কছা? হবে না। 

ভবতোষ। দু-চার দিন যাক, এরা দুজনে একটু শান্ত 
হক, তারপর আমি যথাসাধ্য প্রবোধ দেবার চেষ্টা করব। 

নাঁখিল। ঠাকুর, আর একটা কথা নিবেদন করি। অজয়ের 
স্মী বড়ই কাতর হয়েছে। সে যাঁদ একটি বালগোপালের মৃর্ত 


৯০ ১৪৫ 


কৃষকাঁলি 


গাঁড়য়ে তার সেবা করে, তবে কেমন হয় 2 সন্তানহারা অনেক 
সুপ এতে ভুলে থাকে দেখেছি । তাদের ধারণা হয়, শিশুকুষের 
সেই 'বিগ্রহেই নিজের সন্তান লীন হয়ে আছে। 

অজয়। না না নিখিলবাবু, ওসব চলবে না। সভদ্রার 
আবার সন্তান হতে পারে, এখনকার শোকও ক্রমশ কমে যাবে, 
তখন ওই বালগোপাল একটি বোঝা হয়ে পড়বেন, লোকলজ্জায় 
তাঁকে ফেলাও চলবে না। যল্মণা কমাবার জন্যে এক-আধবার 
মরফণন দেওয়া চলে, 'িল্তু একটা মানুষকে চিরকাল নেশাখোর 
করে রাখা কি উচিত? 

_ ভধতোষ। অজয়ের কথা খুব ঠিক। নিখিল যা বললে 
তা ক্ষেত্রবশেষে চলতে পারে, যেখানে শোক সইবার শান্তি নেই, 
যুক্ত বোঝবার মতন বদ্ধ নেই, অন্য সন্তানের সম্ভাবনাও 
নেই। সুভদ্রার ওপর কোনও ভার চাপানো উচিত নয়। এখন 
তাকে নানা রকমে অন্যমনস্ক আর প্রফুল্প রাখবার চেম্টা করতে 
হবে। 

নিখিল। আচ্ছা, অজয়ের স্ব যাঁদ মন্ত্র নিয়ে পুজাঅর্চয় 
মশ্ন হয়ে থাকে তো কেমন হয় ? 

অজয়। তাতেও আগার আপাতত আছে। সোঁদন এক 
বনেদঁ বড়লোকের বাড়ি গিয়েছিলাম । তাঁর বৈঠকখানায় 
তিনটি বড় বড় অয়েল পোৌঁণ্টং আছে, প্রত্যেকাটতে একজন 
মাহলা সেজেগুজে আসনে বসে পূজো করছেন। সামনে 
সোনারুপোর হরেক রকম পুজোর বাসন ঝকমক করছে, নানা 


১৪৬ 


ভবতোষ ঠাকুর 


উপচার সাজানো রয়েছে, সন্দেশের ওপর পেস্তাঁটি পর্যন্ত দেখা 
যাচ্ছে। তাঁদের দৃষ্টি বিগ্রহের ছিকে নয়, আগন্তুকের 'দিকে। 
যেন বলছেন, সবাই দেখ গো, আমরা পূজো করছি। খোঁজি 
নিয়ে জানলাম, একটি ছবি গৃহস্বামীর স্তীর, আর দুটি তাঁর 
্বর্গতা মা আর ঠাকুমার। এদের পূজো একটা উপলক্ষ্য মা, 
আসল উদ্দেশ্য আড়ম্বর, যেমন আজকালকার সর্বজনীন। 
ভবতোষ। সকলেই লোক দেখানো পূজো করে না। 
সুভদ্রার যাঁদ নিজের আগ্রহ হয় তবে সে মন্র নিয়ে পুজো 
করুক, কিংবা বিনা আড়ম্বরে উপাসনা করুক, কিন্তু তার 
জন্যে তাকে হুকুম করা চলবে না। হুজুক থেকেও তাকে 
বাঁচাতে হবে। কালক্রমে অনেকের নিম্ঠা কমে যায়, তব তারা 
চক্ষুলঙ্জায় ঠাট বজায় রাখে । আমি একজনকে জানভুম, তিনি 
আঁহংসার ব্রত নিয়ে নিরামিষাশী হয়েছিলেন। সাধ্পুরূষ 
বলে তাঁর খ্যাতি হল। "কিন্তু তিনি লোভ দমন করতে পারেন 
নি, একদিন হোটেলে লুকিয়ে খেতে গিয়ে ধরা গড়ে গেলেন। 
নিখাকী মায়েরা বোধ হয় পুণ্যকর্ম ভেবেই উপবাস আরম্ভ 
শেষটায় প্রতারণার আশ্রয় নেয়। ভান্ত বা নিষ্ঠার অভাব, সম্ধ্যা- 
আহক পৃজা-অর্চনা না করা, আমিষ ভোজন, কোনওটাই 
অপরাধ নয়। অনজ্ঠানহীন নাস্তিকদের মধ্যেও সাধূপুরুষ 
আছেন। যার ভাল লাগে, সে চিরজীবন একনিষ্ঠ হয়ে অনুষ্ঠান 
শশালন করতে পারে। যাঁদ ভাল না লাগে, তবে যেদিন খাশ 


৯৪৭ 


কুফকলি 


ছেড়ে দিলেও কিছুমাত্র দোষ হয় না। কস্তু নিষ্গ হারিয়ে 
লোক দেখানো অনষ্তান পালন মহাপাপ । সংভঙ্গাকে শান্ত 
করতে হবে, কিল্তু কোনও রকম বন্ধনে পড়ে তার বুদ্ধি যেন 
মোহ্গ্রস্ত না হয়। 

অজয়। তবে তাকে জপ আর ্তব করতে বললেন কেন? 
ইংরজশ প্রবাদ আছে -- ঘুম যাঁদ না আলে, তবে ভেড়া গুনতে 
থাক। জপ আর স্তব করে মনে শাপ্িতি আনাও সেইরকম 
লয় কিঃ 

ভবতোষ। সেইরকম হলেই বা ক্ষত কি। ওতে মন শান্ত 
হব সম্ভাবনা আছে অথচ বাহ্য আড়ম্বর নেই। নিষ্ঠা না 
হলে বিনা চক্ষুলজ্জায় যেদিন ইচ্ছে ছেড়ে দেওয়া চলে । 

অজয়ন। আপাঁন সুভদ্রাকে স্বর্গ পুনজন্মি কর্মফল 
মঙ্গলময় ভগবান-এইসব ছেলে ভুলনো কথা বললেন কেন 
ঠাকুর? আপাঁনও কি আধ্যাত্মিক মুষ্টিযোগে বিশ্বাস করেন £ 

ভবতোষ। দেখ অজয়, তুমি বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী 
যাই হও, একথা মান তো--তুমি আছ, আবার তোমার চাইতে 
বড়ও একটা কিছু আছেঃ সেই বড়কে 'বশ্বপ্রকাতি, ব্লহয়, 
আ্যবসলিউট, মহা অজানা, যা খুঁশ বলতে পার সেই বৃহৎ 
বস্তুর মধ্যে তুমি ডুবে আছ, তা থেকেই তোমার জল্মমত্ত্যু 
পুখদুংখ ভালমন্দর উৎপাত্তি। এই বস্তু কি রকম তা সাধারণ 
নেই। বিজ্ঞানী দাশশনক কবি আর ভন্ত সবাই কৌতহেলণ, 


৯৪৮ 


ভবতোষ ঠাকুর 


কিম্তু কেউ স্পন্ট বুঝতে পারেন না। বিজ্ঞানী আর দাশশনক 
শুধু ইন্ডিয়গ্রাহ্য আর যযাস্তীসদ্ধ তথ্য খোঁজেন, যেটুকু জানতে 
পারেন, তাতেই তুষ্ট হন, শিব বা আঁশিব, সুন্দর বা বীভংস 
কিছুতেই তাঁদের পক্ষপাত নেই। কিল্তু কবি আর ভত্ত 
প্রমাণের অপেক্ষা রাখেন না, তাঁরা রস চান, ভাব চান, আনন্দ 
চান। এজন্য কজ্পনা' আর রূপকের আশ্রয় নিয়ে মানস বিগ্রহ 
রচনা করেন, সমগ্র বস্তুর ধারণা করতে না পারলেও খন্ডে খণ্ডে 
অনুভব করেন, তবে দৈবাং কেউ কেউ পর্ণান্ভূঁতি পান। 
মিষ্টন আর মধুসূদন পেগান ছিলেন না, তব তাঁরা অমৃতি- 
ভাষিণী বাগ্দেবীর আবাহন করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র আর 
রবীন্দ্রনাথ আমাদের দেশ আর দেশবাসীর ভ্রাটি বিলক্ষণ 
জানতেন, তবু তাঁরা এশবর্ধময়ী মাতৃভূমির বন্দনা করেছেন। 
৬/০:05%/0৮1 বলেছেন 0৮15620০০৫1 1 01110 
18006] 70৩ ৪. 08689 9001169. 21 2. 0950 00 
%/0117, , ইত্যাদি। মঙ্গলময় ভগবান না হলে সাধারণ ভক্তের 
চলে না, কাজেই অমঙ্গলের কারণস্বরূপ তাকে কর্মফল, 
মানতে হয়। ভন্ত কাব অমঙ্গলের কারণ খোঁজেন না, যেটুকু 
মঙ্গল পান তাতেই কৃতার্থ হন। তিনি দেখেন- আছে আছে 
প্রেম ধুলায় ধুলায়, আনন্দ আছে 'নাখলে। তিনি বলেন -, 
'এ জশীবনে পাওয়াটারই সীমাহীন মূল্য, মরণে হারানোটা তো 
নহে তার তুল্য । 
১৪৯ 


কুফকাঁল 


অজয়। আমার উপায় কি হবে ঠাকুরঃ আম বিজ্ঞানী 
নই, দারশনক নই, কাব নই, ভত্ত নই, কোনও রকম 11916 
706115%০এও রুচি নেই। 

ভবতোষ। মাথা ঠান্ডা করে বাদ্ধি খাটাও, বৃদ্ধো 
শারণমন্বিছই। এদেশের জ্ঞানীরা একদেশদশরণ নন, তাঁরা 
অত্যন্ত 169115 মঙ্গল অমঙ্গল দুই শিরোধার্য করেছেন, 
বিরোধ মেটাবার গ্রয়োজনই বোধ করেন 'ন। বলেছেন_- 
ভয়ানাং ভয়ং ভাঁষণং ভীষণানাং; আবার পরেই বলেছেন-_ 
গাঁতিঃ প্রাণিনাং পাবনং পাবনানাম। জগতে নিত্য কত লোক 
মরছে, প্রতি নিমেষে কোটি কোটি জীব ধংস হচ্ছে, কত 
লোকের সর্বনাশ হচ্ছে, তা দেখেও আমবা বিধাতার দোষ 'দিই 
না, অমঙ্গলের কারণ খুজি না, জগতের বিধান বলেই মেনে 
নিয়ে স্বচ্ছন্দে হেসে খেলে বেড়াই। কিন্তু যেমন নিজে আঘাত 
পাই অমনি আর্তনাদ করে বাল--ভগবান, এ কি করলে, 
আমাকে মারলে কেন» গীতায় বিশ্ববূপের যে বর্ণনা আছে, 
তা ভয়ংকর, কিন্ডু তা ধ্যান করলে মনের ক্ষুদ্রতা কমে। 
দার্শীনক 92100952% িখেছেন --1176 80035 0191, 
19100 10 020 10০ 10690) 200. 1 1078]065 [69 1309৩ 
170 172০ 10560 11, 

অজয়। আপনার কথা ভাল বুঝতে পারছি না 
ঠাুব। র্‌ 
ভবতোষ। ক্রমশ বূঝতে স্ীরিবে। সকলের দঃখ বোঝবার 

১6০ 


ভবতো ঠাকুর 


চেদ্টা কর, তোমার দুঃখ কমবে; সকলের দুখে সুখী হও, 
তোমার সুখ বাড়বে । 


জয় চলে গেল। একটু পরে নাখল বিদায় নিলেন, 
তাঁর পিছনে 'জিতেন আর িধৃও নীচে নেমে এল। 

নিখিল বললেন, কি হল জিতেনবাবদ, আপনারা বন্ড যেন 
মুষড়ে গেছেন মনে হচ্ছে। 

?জিতেন। আরে ছি ছি, এমন করলে ক প্রতিষ্ঠা হয়, 
না মানুষের শ্রদ্ধা পাওয়া যায়? প্রেম, ভন্তি, ভগবানের লীলা 
এই সবের ব্যাখ্যান করতে হয়, কর্মফল জল্মান্তর পরলোকতত্ত 
মিস্টি মিষ্ট বচন বলতে হয়, তবে না ভন্তরা খুশী হবে! 
চেতলার গোলোক ঠাকুর সোঁদন দি সুন্দর একটি কথা 
বললেন -- মানুষ কিরকম জানিস $ মাছির মা-আর ফানূষের 
-নুষ। তোরা মাছির মতন আঁ্তাকুড়ে ভনভন করাব, না 
ফানুষ হয়ে ওপরে উঠব? কথাটি শুনে সবাই মোহিত হয়ে 
গেল। আর আমাদের ঠাকুরটির শুধু কটমটে আবোল-তাবোল 
বাক্যি, যেন জিওমোট্র পড়াচ্ছেন। শ্রীপাতি রায় ভীষণ রেগে 
গেছেন, ঠাকুর তাঁকে গ্রাহ্যই করলেন না। তান ধনী মানী 
লোক, ক্যাঁডলাক গাঁড়তে এসোঁছলেন, তাঁর অপমান করা কি 
উচিত হয়েছেঃ আমরা যতই ঠাকুরকে উদ্চুতে তোলবার চেষ্টা 
করছি ততই উনি নেমে যাচ্ছেন । 


৯৫৯ 





০ € 
গণ হুজি 
চি রে 


 বনাখল । মা বলেছেন মুজতবা 
রা দেখুন জিতেনবাব; 
এপ একাঁটি ফারসণ মা 
গুড়েন না, তাঁর চেলান্াহই তাঁকে রর 
রা পন জন্যে আপনারা রি 
করছেন, মাটি কামড়ে আছেন, ক 
না। &র আশা ছেড়ে দিন! টিনা 
নী জি ঞঞিলদ 
দহগালগ্রে করতেন, | 
চারা আঁতি বি কপির 
জগ একাঁট চমৎকার সংঘ খাড়া করতে 


৯৩৬০